সংবাদ

আকাশেই গতিপথ বদলাতে সক্ষম এআই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ পিএম

আকাশেই গতিপথ বদলাতে সক্ষম এআই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত প্রথম মধ্যম পাল্লার কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া। ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশে ওড়ার পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম একটি মধ্যম পাল্লার কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার (৩ অক্টোবর) পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে করা এই দাবির কয়েক ঘণ্টা আগেই সিউল জানিয়েছিল, তাদের প্রতিবেশী দেশটি পূর্ব সাগরে (জাপান সাগর) একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্র জানায়, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের (৪৩৫ মাইল) বেশি পথ পাড়ি দেয়। সীমান্ত অঞ্চলের অসামরিকীকৃত এলাকায় (ডিএমজেড) সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরণে তিন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার এই ঘটনা ঘটল।

পিয়ংইয়ংয়ের শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং এক বিবৃতিতে জানান, উৎক্ষেপণ করা এই নতুন মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করা হয়েছে। এটি কম উচ্চতায় গতিশীল থাকা অবস্থায় আঁকাবাঁকা গতিপথে চলতে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম।

কিম ইয়ো-জং দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির এই কৌশলগত সক্ষমতার ফলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে আত্মরক্ষার বা ‘বাঁচার কোনো উপায় নেই’। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিম জং-উনের বিশ্বাস অনুযায়ী বিশ্বের আর কোনো দেশ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই স্তরের উন্নত প্রযুক্তির নাগাল পাবে না।

এর আগে গত মাসেই দেশটির সামরিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছিলেন কিম জং-উন। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ নজরদারি এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ক্ষেপণাস্ত্রটির দিক পরিবর্তনের প্রযুক্তিকে বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার অংশ হিসেবে রাশিয়ায় সৈন্য পাঠানোর বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে যে উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা পিয়ংইয়ং পাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় উত্তর কোরিয়া নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এত দ্রুত উন্নত করতে পেরেছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার এমন বিশাল দাবি নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন সিউলভিত্তিক কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং সুং-পিও। তিনি জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত বা কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেলেও, উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তি বিশ্বশক্তিগুলোর তুলনায় কতটা নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে তা নিয়ে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


আকাশেই গতিপথ বদলাতে সক্ষম এআই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশে ওড়ার পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম একটি মধ্যম পাল্লার কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার (৩ অক্টোবর) পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে করা এই দাবির কয়েক ঘণ্টা আগেই সিউল জানিয়েছিল, তাদের প্রতিবেশী দেশটি পূর্ব সাগরে (জাপান সাগর) একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্র জানায়, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের (৪৩৫ মাইল) বেশি পথ পাড়ি দেয়। সীমান্ত অঞ্চলের অসামরিকীকৃত এলাকায় (ডিএমজেড) সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরণে তিন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার এই ঘটনা ঘটল।

পিয়ংইয়ংয়ের শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং এক বিবৃতিতে জানান, উৎক্ষেপণ করা এই নতুন মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করা হয়েছে। এটি কম উচ্চতায় গতিশীল থাকা অবস্থায় আঁকাবাঁকা গতিপথে চলতে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম।

কিম ইয়ো-জং দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির এই কৌশলগত সক্ষমতার ফলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে আত্মরক্ষার বা ‘বাঁচার কোনো উপায় নেই’। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিম জং-উনের বিশ্বাস অনুযায়ী বিশ্বের আর কোনো দেশ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই স্তরের উন্নত প্রযুক্তির নাগাল পাবে না।

এর আগে গত মাসেই দেশটির সামরিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছিলেন কিম জং-উন। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ নজরদারি এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ক্ষেপণাস্ত্রটির দিক পরিবর্তনের প্রযুক্তিকে বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার অংশ হিসেবে রাশিয়ায় সৈন্য পাঠানোর বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে যে উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা পিয়ংইয়ং পাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় উত্তর কোরিয়া নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এত দ্রুত উন্নত করতে পেরেছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার এমন বিশাল দাবি নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন সিউলভিত্তিক কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং সুং-পিও। তিনি জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত বা কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেলেও, উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তি বিশ্বশক্তিগুলোর তুলনায় কতটা নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে তা নিয়ে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত