সংবাদ

৮ মাস পর ফের উৎপাদনে ফিরল যমুনা সার কারখানা


তানিয়া আক্তার, জামালপুর
তানিয়া আক্তার, জামালপুর
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

৮ মাস পর ফের উৎপাদনে ফিরল যমুনা সার কারখানা
ছবি : সংবাদ

দীর্ঘ প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। পর্যাপ্ত চাপসহ গ্যাস সরবরাহ মেলায় সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিট থেকে কারখানাটিতে পুরোদমে দানাদার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যান্য সার কারখানার তুলনায় যমুনা সার কারখানায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব। এখানে প্রতি টন ইউরিয়া উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা; বিপরীতে বিদেশ থেকে সমপরিমাণ সার আমদানি করতে খরচ পড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা।

বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। নিয়মিত উৎপাদন চালু থাকলে গ্যাস বিলসহ সব আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়েও প্রতিদিন সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকা আয় হতে পারে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

বিভাগীয় প্রধানদের তথ্যমতে, উৎপাদন চালু রাখতে কারখানায় গড়ে দৈনিক আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার গ্যাসের প্রয়োজন হয়। মাসে গ্যাস বিল ও আনুষঙ্গিক খরচ ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা হলেও উৎপাদন চালু থাকলে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা থাকে। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকলেও সচল রাখার সুবিধার্থে প্রতি মাসে ৬ কোটি টাকারও বেশি গ্যাস বিল গুনতে হয়, যা পুরোপুরি লোকসানে গণ্য হয়।

এর আগে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। পরে ২০২৫ সালে স্বল্প সময়ের জন্য চালু হলেও ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর কারখানায় ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত চাপ (প্রেসার) না থাকায় গত কয়েকদিন উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার তিতাস প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাস দেওয়া শুরু করলে রাত ৩টা ১০ মিনিটে পুনরায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়।

কারখানার বিভাগীয় প্রধান (অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি) মো. ফজলুল হক বলেন, ‘গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। সোমবার তিতাস পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করায় রাতে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে।’

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সার কারখানাটি জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহে মূল ভূমিকা পালন করে। ১৯৯১ সালে উৎপাদনে যাওয়া এই কারখানার মূল ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন হলেও যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হচ্ছে।

কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে সারের কোনো সংকট থাকবে না এবং কৃষকদের চাহিদা সহজে মেটানো যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন বলেন, কারখানাটি সচল করতে সরকার, বিসিআইসি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের ধারাবাহিক সহযোগিতা ছিল, যার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


৮ মাস পর ফের উৎপাদনে ফিরল যমুনা সার কারখানা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। পর্যাপ্ত চাপসহ গ্যাস সরবরাহ মেলায় সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিট থেকে কারখানাটিতে পুরোদমে দানাদার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যান্য সার কারখানার তুলনায় যমুনা সার কারখানায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব। এখানে প্রতি টন ইউরিয়া উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা; বিপরীতে বিদেশ থেকে সমপরিমাণ সার আমদানি করতে খরচ পড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা।

বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। নিয়মিত উৎপাদন চালু থাকলে গ্যাস বিলসহ সব আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়েও প্রতিদিন সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকা আয় হতে পারে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

বিভাগীয় প্রধানদের তথ্যমতে, উৎপাদন চালু রাখতে কারখানায় গড়ে দৈনিক আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার গ্যাসের প্রয়োজন হয়। মাসে গ্যাস বিল ও আনুষঙ্গিক খরচ ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা হলেও উৎপাদন চালু থাকলে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা থাকে। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকলেও সচল রাখার সুবিধার্থে প্রতি মাসে ৬ কোটি টাকারও বেশি গ্যাস বিল গুনতে হয়, যা পুরোপুরি লোকসানে গণ্য হয়।

এর আগে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। পরে ২০২৫ সালে স্বল্প সময়ের জন্য চালু হলেও ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর কারখানায় ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত চাপ (প্রেসার) না থাকায় গত কয়েকদিন উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার তিতাস প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাস দেওয়া শুরু করলে রাত ৩টা ১০ মিনিটে পুনরায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়।

কারখানার বিভাগীয় প্রধান (অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি) মো. ফজলুল হক বলেন, ‘গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। সোমবার তিতাস পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করায় রাতে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে।’

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সার কারখানাটি জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহে মূল ভূমিকা পালন করে। ১৯৯১ সালে উৎপাদনে যাওয়া এই কারখানার মূল ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন হলেও যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হচ্ছে।

কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে সারের কোনো সংকট থাকবে না এবং কৃষকদের চাহিদা সহজে মেটানো যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন বলেন, কারখানাটি সচল করতে সরকার, বিসিআইসি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের ধারাবাহিক সহযোগিতা ছিল, যার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত