সংবাদ

আখের গুড়ের ঐতিহ্য ফেরাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের উদ্যোগ


প্রতিনিধি, মোকামতলা (বগুড়া)
প্রতিনিধি, মোকামতলা (বগুড়া)
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

আখের গুড়ের ঐতিহ্য ফেরাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের উদ্যোগ
ছবি : সংবাদ

একসময় বগুড়ার শিবগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে শীতের মৌসুম এলেই চোখে পড়ত মাইলের পর মাইল আখের খেত আর খাঁটি গুড় তৈরির ব্যস্ততা। মাঠ থেকে আখ কেটে রস বের করা আর তা বড় কড়াইয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে সুস্বাদু গুড় তৈরির সেই আয়োজন এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় আখ চাষ কমে যাওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে গুড় তৈরির এই দৃশ্যও। তবে হারিয়ে যেতে বসা সেই গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের রহবল এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় চন্দ্র মহন্ত (বিনয় মাস্টার)।

শিক্ষকতা থেকে অবসরে গিয়ে ঘরে বসে না থেকে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আখের চাষ শুরু করেছেন। শুধু চাষেই সীমাবদ্ধ নন, নিজ খেতের পরিপক্ব আখ কেটে দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি করছেন খাঁটি গুড়। এতে যেমন তার অবসর সময় সুন্দরভাবে কাটছে, তেমনি এলাকার নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত হচ্ছে এই লোকজ ঐতিহ্য।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জের রহবল বর্মসর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খেত থেকে সারি সারি পরিপক্ব আখ কেটে এনে রস বের করার মেশিনে দেওয়া হচ্ছে। মেশিনের চাপে ঝরে পড়া মিষ্টি রস কলাগাছের বাকলের নালী বেয়ে জমা হচ্ছে বড় পাত্রে।

এরপর শুরু হয় গুড় তৈরির মূল কাজ। বড় কড়াইয়ে ঢেলে চুলায় টানা তিন থেকে সাড় তিন ঘণ্টা জ্বাল দেওয়া হয় আখের রস। আগুনের তাপে পানি শুকিয়ে রস ঘন হয়ে এলে কড়াইটি নামিয়ে কাঠের ঢাবুর (নাড়ানি) দিয়ে কিছুক্ষণ ফেটানো হয়। রস ঠান্ডা হয়ে জমে ওঠার উপযুক্ত হলে হাতের ছোঁয়ায় নির্দিষ্ট মাপে তৈরি করা হয় ছোট ছোট মুঠো গুড়।

প্রতিটি প্রায় আধা কেজি ওজনের এই মুঠো গুড়গুলো পরে নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন বিনয় মাস্টার।

নিজের এই উদ্যোগ নিয়ে রহবল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিনয় মাস্টার বলেন, ‘দীর্ঘদিন শিক্ষকতা শেষে অবসর নেওয়ার পর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই আখের চাষ শুরু করি। আগে আমাদের এই অঞ্চলে ঘরে ঘরে আখ চাষ ও গুড় তৈরির সংস্কৃতি ছিল, যা এখন আর দেখা যায় না। দেশীয় পদ্ধতিতে কেমিক্যালমুক্ত খাঁটি গুড় তৈরির প্রচলন ধরে রাখতেই আমি নিজে আখ চাষ করে গুড় তৈরি করছি।’

রহবল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারে এখন আসল গুড় পাওয়া কঠিন। একসময় এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আখ চাষ হলেও এখন তা কমে গেছে। শিক্ষক বিনয় মাস্টারের খেত ও গুড় তৈরির কারখানা দেখতে প্রতিদিন অনেকে ভিড় করছেন, যা রূপসী বাংলার পুরোনো স্মৃতির আমেজ ফিরিয়ে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


আখের গুড়ের ঐতিহ্য ফেরাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একসময় বগুড়ার শিবগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে শীতের মৌসুম এলেই চোখে পড়ত মাইলের পর মাইল আখের খেত আর খাঁটি গুড় তৈরির ব্যস্ততা। মাঠ থেকে আখ কেটে রস বের করা আর তা বড় কড়াইয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে সুস্বাদু গুড় তৈরির সেই আয়োজন এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় আখ চাষ কমে যাওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে গুড় তৈরির এই দৃশ্যও। তবে হারিয়ে যেতে বসা সেই গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের রহবল এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় চন্দ্র মহন্ত (বিনয় মাস্টার)।

শিক্ষকতা থেকে অবসরে গিয়ে ঘরে বসে না থেকে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আখের চাষ শুরু করেছেন। শুধু চাষেই সীমাবদ্ধ নন, নিজ খেতের পরিপক্ব আখ কেটে দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি করছেন খাঁটি গুড়। এতে যেমন তার অবসর সময় সুন্দরভাবে কাটছে, তেমনি এলাকার নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত হচ্ছে এই লোকজ ঐতিহ্য।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জের রহবল বর্মসর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খেত থেকে সারি সারি পরিপক্ব আখ কেটে এনে রস বের করার মেশিনে দেওয়া হচ্ছে। মেশিনের চাপে ঝরে পড়া মিষ্টি রস কলাগাছের বাকলের নালী বেয়ে জমা হচ্ছে বড় পাত্রে।

এরপর শুরু হয় গুড় তৈরির মূল কাজ। বড় কড়াইয়ে ঢেলে চুলায় টানা তিন থেকে সাড় তিন ঘণ্টা জ্বাল দেওয়া হয় আখের রস। আগুনের তাপে পানি শুকিয়ে রস ঘন হয়ে এলে কড়াইটি নামিয়ে কাঠের ঢাবুর (নাড়ানি) দিয়ে কিছুক্ষণ ফেটানো হয়। রস ঠান্ডা হয়ে জমে ওঠার উপযুক্ত হলে হাতের ছোঁয়ায় নির্দিষ্ট মাপে তৈরি করা হয় ছোট ছোট মুঠো গুড়।

প্রতিটি প্রায় আধা কেজি ওজনের এই মুঠো গুড়গুলো পরে নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন বিনয় মাস্টার।

নিজের এই উদ্যোগ নিয়ে রহবল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিনয় মাস্টার বলেন, ‘দীর্ঘদিন শিক্ষকতা শেষে অবসর নেওয়ার পর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই আখের চাষ শুরু করি। আগে আমাদের এই অঞ্চলে ঘরে ঘরে আখ চাষ ও গুড় তৈরির সংস্কৃতি ছিল, যা এখন আর দেখা যায় না। দেশীয় পদ্ধতিতে কেমিক্যালমুক্ত খাঁটি গুড় তৈরির প্রচলন ধরে রাখতেই আমি নিজে আখ চাষ করে গুড় তৈরি করছি।’

রহবল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারে এখন আসল গুড় পাওয়া কঠিন। একসময় এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আখ চাষ হলেও এখন তা কমে গেছে। শিক্ষক বিনয় মাস্টারের খেত ও গুড় তৈরির কারখানা দেখতে প্রতিদিন অনেকে ভিড় করছেন, যা রূপসী বাংলার পুরোনো স্মৃতির আমেজ ফিরিয়ে দিচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত