শিল্পসমৃদ্ধ ঘোড়াশাল পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও তীব্র জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা তলিয়ে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন।
পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি আংশিক বিদ্যমান ড্রেনগুলোর অধিকাংশ দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি বা গৃহস্থালির বর্জ্য পানি নিষ্কাশিত হতে পারছে না। অনেক এলাকায় পানি চলাচলের পথ না থাকায় দীর্ঘদিন জমে থাকছে পানি, যা সড়কগুলোতে খানাখন্দ তৈরি করে যাতায়াত অনুপযোগী করে তুলছে।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাণ গেট সংলগ্ন ভাঙ্গালপাড়া ও চরপাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের টেঙ্গরপাড়া ও উত্তর চরপাড়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া, খালিশার টেক, মিয়াপাড়া ও দক্ষিণ চরপাড়া এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বৃষ্টি হলেই এসব এলাকার রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি। একই সঙ্গে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের টেঙ্গরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান মেলেনি। মাঝে মাঝে নামমাত্র সংস্কার হলেও তা কোনো কাজে আসছে না।’
ভাঙ্গালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোবারক জানান, বৃষ্টি হলেই ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভেসে যায়। কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ।
খালিশার টেক এলাকার আসাদুল হক দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, বেদখল নালা উদ্ধার ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানান।
ড্রেনেজ সমস্যার বিষয়ে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, ‘পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরির প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘পুরো পৌরসভা নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান ও প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজের সব সমস্যার টেকসই সমাধান হবে।’

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
শিল্পসমৃদ্ধ ঘোড়াশাল পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও তীব্র জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা তলিয়ে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন।
পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি আংশিক বিদ্যমান ড্রেনগুলোর অধিকাংশ দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি বা গৃহস্থালির বর্জ্য পানি নিষ্কাশিত হতে পারছে না। অনেক এলাকায় পানি চলাচলের পথ না থাকায় দীর্ঘদিন জমে থাকছে পানি, যা সড়কগুলোতে খানাখন্দ তৈরি করে যাতায়াত অনুপযোগী করে তুলছে।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাণ গেট সংলগ্ন ভাঙ্গালপাড়া ও চরপাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের টেঙ্গরপাড়া ও উত্তর চরপাড়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া, খালিশার টেক, মিয়াপাড়া ও দক্ষিণ চরপাড়া এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বৃষ্টি হলেই এসব এলাকার রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি। একই সঙ্গে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের টেঙ্গরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান মেলেনি। মাঝে মাঝে নামমাত্র সংস্কার হলেও তা কোনো কাজে আসছে না।’
ভাঙ্গালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোবারক জানান, বৃষ্টি হলেই ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভেসে যায়। কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ।
খালিশার টেক এলাকার আসাদুল হক দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, বেদখল নালা উদ্ধার ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানান।
ড্রেনেজ সমস্যার বিষয়ে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, ‘পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরির প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘পুরো পৌরসভা নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান ও প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজের সব সমস্যার টেকসই সমাধান হবে।’

আপনার মতামত লিখুন