সংবাদ

মধুপুরে ঝড়ের তাণ্ডবে, কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

মধুপুরে ঝড়ের তাণ্ডবে, কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি
ছবি : সংবাদ

মাত্র ১০ মিনিটের তাণ্ডব। আর তাতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কয়েক হাজার বিঘা জমির শত শত কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফলন্ত কলা ও পেঁপে বাগান। টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের পাহাড়ে হঠাৎ বয়ে যাওয়া ক্ষণস্থায়ী কিন্তু ধ্বংসাত্মক এই ঝড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন প্রায় ৭০০ কৃষক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই আকস্মিক দুর্যোগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফসলি ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের অন্তত ৬০টি গ্রামে এ তাণ্ডব ঘটে। সরোজমিনে শোলাকুড়ির জয়না গাছা, হরিণধরা, গাবগাইছাসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিঘা পর বিঘা কলার বাগান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মোচড় দিয়ে ভেঙে পড়েছে ফলন্ত কলাগাছ, কোথাও উপড়ে পড়েছে বিশালাকার সব পেঁপে ও লাউয়ের বাগান।

গাবগাইছা গ্রামের কৃষক জিয়াউল হক বলেন, ‘আমার ৫০ বিঘা জমির কলা ও পেঁপে ঝড়ে পুরো শেষ। প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন ঋণের টাকা শোধ করব কীভাবে, আর পরিবার নিয়েই বা চলব কীভাবে?’ একইভাবে কৃষক আব্দুস ছাত্তারের ৭৫ লাখ ও আবেদ আলীর ৮ লাখ টাকার ফসলি ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে থাকায় তার নির্দেশে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি সমবেদনা জানান।

কৃষকদের দাবি, ব্যাংক ঋণ ও সুদের বোঝা মাথায় নিয়ে চাষাবাদ করায় সরকারি সহায়তা ও সুদমুক্ত ঋণ না পেলে তাদের পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০০ কৃষকের তালিকা করে সরকারি অনুদান ও সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


মধুপুরে ঝড়ের তাণ্ডবে, কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মাত্র ১০ মিনিটের তাণ্ডব। আর তাতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কয়েক হাজার বিঘা জমির শত শত কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফলন্ত কলা ও পেঁপে বাগান। টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের পাহাড়ে হঠাৎ বয়ে যাওয়া ক্ষণস্থায়ী কিন্তু ধ্বংসাত্মক এই ঝড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন প্রায় ৭০০ কৃষক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই আকস্মিক দুর্যোগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফসলি ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের অন্তত ৬০টি গ্রামে এ তাণ্ডব ঘটে। সরোজমিনে শোলাকুড়ির জয়না গাছা, হরিণধরা, গাবগাইছাসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিঘা পর বিঘা কলার বাগান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মোচড় দিয়ে ভেঙে পড়েছে ফলন্ত কলাগাছ, কোথাও উপড়ে পড়েছে বিশালাকার সব পেঁপে ও লাউয়ের বাগান।

গাবগাইছা গ্রামের কৃষক জিয়াউল হক বলেন, ‘আমার ৫০ বিঘা জমির কলা ও পেঁপে ঝড়ে পুরো শেষ। প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন ঋণের টাকা শোধ করব কীভাবে, আর পরিবার নিয়েই বা চলব কীভাবে?’ একইভাবে কৃষক আব্দুস ছাত্তারের ৭৫ লাখ ও আবেদ আলীর ৮ লাখ টাকার ফসলি ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে থাকায় তার নির্দেশে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি সমবেদনা জানান।

কৃষকদের দাবি, ব্যাংক ঋণ ও সুদের বোঝা মাথায় নিয়ে চাষাবাদ করায় সরকারি সহায়তা ও সুদমুক্ত ঋণ না পেলে তাদের পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০০ কৃষকের তালিকা করে সরকারি অনুদান ও সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত