সংবাদ

সাহিত্যে ধ্রুপদী মিথস্ক্রিয়ায় নোবেল পাচ্ছেন অ্যান কারসন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

সাহিত্যে ধ্রুপদী মিথস্ক্রিয়ায় নোবেল পাচ্ছেন অ্যান কারসন
সাহিত্যের নোবেল পাচ্ছেন কানাডীয় কবি অ্যান কারসন

ধ্রুপদী সাহিত্যের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাবলীল মিথস্ক্রিয়া ঘটিয়ে সমকালীন সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদী সাহিত্যের অধ্যাপক অ্যান কারসন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি চলতি বছরের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির ঘোষণাপত্রে অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করে বলা হয়, ‘তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকর্ম ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে সরস সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ বা আঙ্গিক তৈরি করেছে।’

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ধ্রুপদী ঐতিহ্যের ওপর অ্যান কারসনের রয়েছে গভীর পাণ্ডিত্য। গ্রিক ক্ল্যাসিক্যাল সাহিত্যের সঙ্গে আধুনিক ধ্যান-ধারণার মিশেল ঘটিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র ধারা।

তার বিশ্বনন্দিত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ (১৯৯৮) এবং ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ (১৯৮৬)। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে তার সাহিত্যকর্ম দীর্ঘদিন ধরে সমাদৃত হয়ে আসছে।

১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করা কারসনের প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মেই শব্দের অর্থ ও উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি নতুন ভাবনা ও অর্থ তৈরির প্রচেষ্টা দেখা গেছে। তিনি নিজেই বলে থাকেন, শব্দের ব্যুৎপত্তিই তার কাজের সূচনাবিন্দু।

প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে তিনি যেসব অনুবাদ করেছেন, সেগুলো একেকটি স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হয়ে উঠেছে। এর উদাহরণ হিসেবে স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে লেখা ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২), সফোক্লিসের ‘ইলেকট্রা’ (২০০১), ‘অ্যান্টিগনি’ (২০১৫) ও ইউরিপিদিসের ‘বাক্কাই’ (২০১৫) এর কথা বলা যায়।

কারসনের সাহিত্যকর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে মূলত ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ নামের দীর্ঘ প্রবন্ধের ওপর। ‘ইরোস’ বা প্রেমই যে কবিতার মূল সত্তা ও চালিকাশক্তি, সে বিষয়ে নিজের গভীর ভাবনা নিখুঁতভাবে বইটিতে তুলে ধরেছিলেন তিনি। এর পেছনে রয়েছে স্যাফোর ব্যবহৃত বিশেষণ, যেখানে ইরোস বা প্রেমকে দেখা হয়েছে আনন্দ ও বেদনার মিশ্রণ হিসেবে।

সাহিত্যজীবনের পুরোটাই লেখার নানা ধরন ও সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন কারসন। নিজের শিল্পীসত্তাকে তিনি শুধু সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। চিত্রশিল্পী, কোরিওগ্রাফার এবং অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে।

গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। তিনি ছিলেন নোবেল বিজয়ী ১২২তম লেখক। সেই হিসেবে ১২৩তম লেখক হিসেবে নোবেল পেতে যাচ্ছেন কারসন।

বরাবরের মতোই চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যার এবং বুধবার রসায়নের নোবেল ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার শান্তি এবং আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। 

১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নোবেল পুরস্কার।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


সাহিত্যে ধ্রুপদী মিথস্ক্রিয়ায় নোবেল পাচ্ছেন অ্যান কারসন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ধ্রুপদী সাহিত্যের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাবলীল মিথস্ক্রিয়া ঘটিয়ে সমকালীন সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদী সাহিত্যের অধ্যাপক অ্যান কারসন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি চলতি বছরের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির ঘোষণাপত্রে অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করে বলা হয়, ‘তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকর্ম ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে সরস সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ বা আঙ্গিক তৈরি করেছে।’

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ধ্রুপদী ঐতিহ্যের ওপর অ্যান কারসনের রয়েছে গভীর পাণ্ডিত্য। গ্রিক ক্ল্যাসিক্যাল সাহিত্যের সঙ্গে আধুনিক ধ্যান-ধারণার মিশেল ঘটিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র ধারা।

তার বিশ্বনন্দিত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ (১৯৯৮) এবং ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ (১৯৮৬)। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে তার সাহিত্যকর্ম দীর্ঘদিন ধরে সমাদৃত হয়ে আসছে।

১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করা কারসনের প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মেই শব্দের অর্থ ও উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি নতুন ভাবনা ও অর্থ তৈরির প্রচেষ্টা দেখা গেছে। তিনি নিজেই বলে থাকেন, শব্দের ব্যুৎপত্তিই তার কাজের সূচনাবিন্দু।

প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে তিনি যেসব অনুবাদ করেছেন, সেগুলো একেকটি স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হয়ে উঠেছে। এর উদাহরণ হিসেবে স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে লেখা ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২), সফোক্লিসের ‘ইলেকট্রা’ (২০০১), ‘অ্যান্টিগনি’ (২০১৫) ও ইউরিপিদিসের ‘বাক্কাই’ (২০১৫) এর কথা বলা যায়।

কারসনের সাহিত্যকর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে মূলত ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ নামের দীর্ঘ প্রবন্ধের ওপর। ‘ইরোস’ বা প্রেমই যে কবিতার মূল সত্তা ও চালিকাশক্তি, সে বিষয়ে নিজের গভীর ভাবনা নিখুঁতভাবে বইটিতে তুলে ধরেছিলেন তিনি। এর পেছনে রয়েছে স্যাফোর ব্যবহৃত বিশেষণ, যেখানে ইরোস বা প্রেমকে দেখা হয়েছে আনন্দ ও বেদনার মিশ্রণ হিসেবে।

সাহিত্যজীবনের পুরোটাই লেখার নানা ধরন ও সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন কারসন। নিজের শিল্পীসত্তাকে তিনি শুধু সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। চিত্রশিল্পী, কোরিওগ্রাফার এবং অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে।

গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। তিনি ছিলেন নোবেল বিজয়ী ১২২তম লেখক। সেই হিসেবে ১২৩তম লেখক হিসেবে নোবেল পেতে যাচ্ছেন কারসন।

বরাবরের মতোই চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যার এবং বুধবার রসায়নের নোবেল ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার শান্তি এবং আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। 

১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নোবেল পুরস্কার।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত