মুনীর সিরাজ-এর কবিতা
ছায়া
বিশাল এক ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছি।
যে প্রতিকৃতির এই ছায়া
তিনি কতোটা ব্যাপ্ত কতোটা বিরাট
কতোটা উঁচু কতোটা বিস্তৃত—
সে বিপুল বিশলতা আমাদের স্তম্ভিত করে,
সে বিপুল ভাস্কর্যের গভীরতা খুঁড়তে খুঁড়তে
তাঁকে অতলান্ত মনে হয়।
সমস্ত দীনতা, হিংস্রতা পাশবিকতায়
প্রশান্তির অভয়ারণ্য,
ভয়ার্তের নিঃশব্দ বেদনা
পরাজয়ে উদ্দীপিত বাণী
কণ্ঠস্বরে শতাব্দীর চেতনা,
সমস্ত বিষ মন্থন করে ধ্বংসের মুখমুখি হয়েও
একটা ঠিকানা পাওয়া যায়—
একটা নিদারুণ নিশ্চিত আশ্রয়।
সে মহীরুহের শান্ত ছায়ায় দাঁড়িয়ে
আবার বিশ্বাস জন্মে যে
আমি শেষ হতে পারি না।
অফুরন্ত আমার সেই উৎসের মহাসমুদ্র।
সেই বিশলতা, মানবিকতা, প্রতিবাদ
শত সুরে সাজানো অস্ত্র
চারদিক আলো করে এমনি দাঁড়িয়ে আছে যে,
সমস্ত কুটিল অন্ধকারেও
তাঁর উজ্জ্বলতা কমে না কিছুতেই।
সব স্বরে বাঁধা এমন একটা বহুতারের বাদ্যযন্ত্রে
আমার অগাধ অধিকার,
তেমনটি আর পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষার
মানুষের আয়ত্তে আছে বলে
আমার জানা নেই—
নিভৃতে সে বাদ্যযন্ত্রে আঙুল পড়তেই
আপনি ধ্বনিত হয়—
‘আসে কেমন তরুণ অশান্ত’,
তখন আনন্দে জাগে কোনো এক
নিপুণ এস্রাজ
‘মোর বীণা ওঠে কোন সুরে বাজি’!
বিদ্রোহী
[নজরুল জন্মশতবার্ষিকী]
যে বিদ্রোহের গান তুমি গেয়েছিলে
এখনো সে বিদ্রোহী আমার রক্তে জেগে আছে।
যে স্বাধীনতা কল্যাণের
যে স্বাধীনতা সাম্যের
যে স্বাধীনতা মৈত্রীর
সেই স্বাধীনতার এখনো খোঁজ করি আমি,
আমার চেতনায় তাই তোমার বিদ্রোহী জেগে আছে।
ক্ষুধার নিপীড়ন থেকে যে মুক্তি
সন্ত্রাসের নিপীড়ন থেকে যে মুক্তি
অশিক্ষার নিপীড়ন থেকে যে মুক্তি,
সেই মুক্তিকে এখনো খোঁজ করি আমি—
ধমনীর উষ্ণ প্রবাহে আজো তাই বিদ্রোহী জেগে আছে।
আমাদের আমলারা এখনো ব্রিটিশ
আমাদের শিক্ষায় এখনো ব্রিটিশ
আমাদের অর্থায়নে এখনো পশ্চিম
সেই পাশ্চাত্য বিতাড়নের আহ্বানে সাড়া দিতে
আমাদের সত্তার এখনো বিদ্রোহ জেগে আছে।
ক্লেদাক্ত পিষ্ট কৃষক আজো ক্ষীণ
বিশীর্ণদেহী মায়ের মুখ কেনো দীন
শিশুরাও কেনো ভাষাহীন,
এই ক্ষীণ-দীন-ভাষাহীন মুখ উজ্জীবিত করার অপেক্ষায়
স্পর্ধিত আকাঙ্ক্ষায় আমাদের হৃদয়ে এখনো
তোমার বিদ্রোহী জেগে আছে।
কী হলো?
ক বলে কবিতা
ব বলে বলোতো?
ত বলে তাই তবে
হ বলে হলো তো?
জ বলে জগতের
য বলে যাতনা
শ বলে শব্দের?
স বলে সাধনা?
আ বলে আনন্দ
চ বলে চেতনা
ন বলে নন্দন।
ভ বলে ভাবনা
অ বলে অক্ষর
শ বলে শব্দ
উ-পমা ও বাক্য
ক-বি করে জব্দ।
এ বলে একসাথে
ম বলে মিছিলে
ঐ বলে ঐক্যের
অ-ন্তরে তো ছিলে।
ক দেখে লোকালো——ক
ব-তে তালি বাজা——বি
ত নাচে তাথৈ——তা
হ-লো কি না——কবিতা?
চিত্তের বৃত্তে নৃত্যের ছন্দে
ছন্দের মিল আর চেতনার দ্বন্দে
শুনি ধ্বনি সুমধুর পাপড়ির গন্ধে
রঙে রসে মিলেমিশে থাকে ভালোমন্দে
চায় কবি মূর্ছনা শব্দের সবিতা
বলো তবে এক্ষণে, হলো কি না কবিতা।
পারমাণবিক বোধ
কে আছো জেগে
এই নিস্তব্ধ নিশীথে!
জীবনের ধ্বনিময় প্রতিধ্বনি
আঁধারের পুঞ্জিভূত কোটি কণা
বিচ্ছিন্ন বিদীর্ণ করে
জ্যোতির তরঙ্গে ধাবমান।
আমি এই প্রগাঢ় কালো রাত্রির বলয়ে
অবচেতন উপদ্রুত মনের কোটরে
অনির্বাণ পরামাণবিক বোধ নিয়ে
জেগে আছি।
এ মুহূর্তে স্নায়বিক আমার সমস্ত সত্তায়
এক অতীন্দ্রিয় কম্পমান অনুভূতি
পৃথিবী বেষ্টন করে আছে।
অরণ্যের গভীরতায় একটি ঘাসের কচি ডানা
জেগে ওঠার শব্দময় প্রতিধ্বনি
আমার শ্রুতিতে বেজে ওঠে,
মাটির গভীরে প্রোথিত
একটি জীবাণুর শারীরিক উত্তাপের অগ্নিবলয়
দৃশ্যমান আমার দু’চোখে।
স্পর্শের অতীত রক্তাক্ত আত্মার শরীরে
আঙুল রেখে
জানি করতলে সময়ের ক্ষুব্ধ নিঃসরণ,
আমি এক দীপ্তিমান কান্তিমান মহাজাগতিক
বিকীরণে
অতিকায় ডাইনোসরাসের যূথবদ্ধ মৃত্যু—
দানবের নিঃশব্দ পতন, প্রাগৈতিহাসিক
হয়ে যাবার দৃশ্য দেখতে দেখতে
বুকভরা বাতাসের ঘ্রাণ পেয়ে ফিরে আসি
জলের কাছাকাছি।
পৃথিবীর পাঁজর ভাঙা একটুকরো হাড়
আঙুলের স্পর্শ পেয়ে শোণিতে ধ্বনিত হয়
বাঁশরির সুর, তীব্র— রাত্রি দ্বিপ্রহর।
ঝরাপাতার গান
পাতা ঝরে যায়
পাতা ঝরে যায়
কি যে লিখে যায়
বাতাসের গায়
পাতা ঝরে যায়।
ফাল্গুনে হায়
জল ছলকায়
চোখের কোনায়
সে যে কান্নায়
হায় হায় হায়।
দখিনার বায়
মৃদু ছোঁয়াটায়
মৃদুল দোলায়
পাতা ঝরে যায়।
খোলা জানালায়
আকাশের গায়
পাতার খাতায়
লিখা যে বিদায়,
ফাল্গুন যায়
কি কোকিলা গায়
পাতার ছায়ায়
পাতা ঝরে যায়
পাতা ঝরে যায়।
পাতায় পাতায়
লেখা হয়ে যায়
মর্মতায়
কত কথা হায়
পাতা ঝরে যায়।
দিন চলে যায়
ফাল্গুন যায়
বলি ফিরে আয়
পাতা ঝরে যায়
পাতা ঝরে যায়।
কুয়াশা এবং পরাবাস্তবতা
কুয়াশার মোড়কে বন্দী সমস্ত শহর।
কুয়াশার গায়ে লেপ্টে থাকা
প্রায় অদৃশ্য অট্টালিকার অস্বচ্ছ প্রকাশ।
ধীরগতি যন্ত্রশকট নির্গত কার্বনের কণায়
আস্তীর্ণ কুয়াশা, আর হলুদ চক্ষু মেলে
যন্ত্রশকটের প্রকটিত হওয়ার যন্ত্রণা।
চোখে ছানি পড়ার মত অস্পষ্ট দৃষ্টিতে
বিদ্যুতের তারে বসা কুয়াশা কাতর কাক।
মাঘের এমন শীতে নীলাভ আকাশে ঢাকা
বিস্তীর্ণ সফেদ চাদর।
সমগ্র শহরে কুয়াশরা স্থির দাঁড়িয়ে,
দু’চোখের খুব কাছে স্পষ্ট শুধু
কুয়াশার ধবল শরীর।
ছোঁয়া তো যায় না তাকে
তবু আছে শরীরে জড়ায়ে,
কুয়াশার গভীরে ডুব দিয়ে দেখি
কুয়াশার তুলিতে আঁকা শহরে অস্পষ্ট
স্থির চিত্রাবলী। মন্থর চাকার গতি আর—
পাখিরা লুকিয়ে আছে কোথায় নীরবে।
গাছ আর পাতার গায়
কুয়াশারা যেনো চুমো খায়।
বনের কুয়াশা আর প্রান্তরের কুয়াশা দেখেছি,
প্রদোষে কুয়াশার ওম পেয়ে অবচেতন
শত গ্রাম নিঃমশব্দ নিঝুম।
কুয়াশার কত কথা,
শহরের কুয়াশার কথা বলে না তো কেউ,
কুয়াশাকীর্ণত্বকে অস্পর্শ শীতলতা
টের পাই তবু—
কুয়াশাক্লান্ত শহরের অস্পষ্ট কথকতা,
কুয়াশার এমন চিত্র
এমনই এ শহরে কুয়াশার পরাবাস্তবতা।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
মুনীর সিরাজ-এর কবিতা
ছায়া
বিশাল এক ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছি।
যে প্রতিকৃতির এই ছায়া
তিনি কতোটা ব্যাপ্ত কতোটা বিরাট
কতোটা উঁচু কতোটা বিস্তৃত—
সে বিপুল বিশলতা আমাদের স্তম্ভিত করে,
সে বিপুল ভাস্কর্যের গভীরতা খুঁড়তে খুঁড়তে
তাঁকে অতলান্ত মনে হয়।
সমস্ত দীনতা, হিংস্রতা পাশবিকতায়
প্রশান্তির অভয়ারণ্য,
ভয়ার্তের নিঃশব্দ বেদনা
পরাজয়ে উদ্দীপিত বাণী
কণ্ঠস্বরে শতাব্দীর চেতনা,
সমস্ত বিষ মন্থন করে ধ্বংসের মুখমুখি হয়েও
একটা ঠিকানা পাওয়া যায়—
একটা নিদারুণ নিশ্চিত আশ্রয়।
সে মহীরুহের শান্ত ছায়ায় দাঁড়িয়ে
আবার বিশ্বাস জন্মে যে
আমি শেষ হতে পারি না।
অফুরন্ত আমার সেই উৎসের মহাসমুদ্র।
সেই বিশলতা, মানবিকতা, প্রতিবাদ
শত সুরে সাজানো অস্ত্র
চারদিক আলো করে এমনি দাঁড়িয়ে আছে যে,
সমস্ত কুটিল অন্ধকারেও
তাঁর উজ্জ্বলতা কমে না কিছুতেই।
সব স্বরে বাঁধা এমন একটা বহুতারের বাদ্যযন্ত্রে
আমার অগাধ অধিকার,
তেমনটি আর পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষার
মানুষের আয়ত্তে আছে বলে
আমার জানা নেই—
নিভৃতে সে বাদ্যযন্ত্রে আঙুল পড়তেই
আপনি ধ্বনিত হয়—
‘আসে কেমন তরুণ অশান্ত’,
তখন আনন্দে জাগে কোনো এক
নিপুণ এস্রাজ
‘মোর বীণা ওঠে কোন সুরে বাজি’!
বিদ্রোহী
[নজরুল জন্মশতবার্ষিকী]
যে বিদ্রোহের গান তুমি গেয়েছিলে
এখনো সে বিদ্রোহী আমার রক্তে জেগে আছে।
যে স্বাধীনতা কল্যাণের
যে স্বাধীনতা সাম্যের
যে স্বাধীনতা মৈত্রীর
সেই স্বাধীনতার এখনো খোঁজ করি আমি,
আমার চেতনায় তাই তোমার বিদ্রোহী জেগে আছে।
ক্ষুধার নিপীড়ন থেকে যে মুক্তি
সন্ত্রাসের নিপীড়ন থেকে যে মুক্তি
অশিক্ষার নিপীড়ন থেকে যে মুক্তি,
সেই মুক্তিকে এখনো খোঁজ করি আমি—
ধমনীর উষ্ণ প্রবাহে আজো তাই বিদ্রোহী জেগে আছে।
আমাদের আমলারা এখনো ব্রিটিশ
আমাদের শিক্ষায় এখনো ব্রিটিশ
আমাদের অর্থায়নে এখনো পশ্চিম
সেই পাশ্চাত্য বিতাড়নের আহ্বানে সাড়া দিতে
আমাদের সত্তার এখনো বিদ্রোহ জেগে আছে।
ক্লেদাক্ত পিষ্ট কৃষক আজো ক্ষীণ
বিশীর্ণদেহী মায়ের মুখ কেনো দীন
শিশুরাও কেনো ভাষাহীন,
এই ক্ষীণ-দীন-ভাষাহীন মুখ উজ্জীবিত করার অপেক্ষায়
স্পর্ধিত আকাঙ্ক্ষায় আমাদের হৃদয়ে এখনো
তোমার বিদ্রোহী জেগে আছে।
কী হলো?
ক বলে কবিতা
ব বলে বলোতো?
ত বলে তাই তবে
হ বলে হলো তো?
জ বলে জগতের
য বলে যাতনা
শ বলে শব্দের?
স বলে সাধনা?
আ বলে আনন্দ
চ বলে চেতনা
ন বলে নন্দন।
ভ বলে ভাবনা
অ বলে অক্ষর
শ বলে শব্দ
উ-পমা ও বাক্য
ক-বি করে জব্দ।
এ বলে একসাথে
ম বলে মিছিলে
ঐ বলে ঐক্যের
অ-ন্তরে তো ছিলে।
ক দেখে লোকালো——ক
ব-তে তালি বাজা——বি
ত নাচে তাথৈ——তা
হ-লো কি না——কবিতা?
চিত্তের বৃত্তে নৃত্যের ছন্দে
ছন্দের মিল আর চেতনার দ্বন্দে
শুনি ধ্বনি সুমধুর পাপড়ির গন্ধে
রঙে রসে মিলেমিশে থাকে ভালোমন্দে
চায় কবি মূর্ছনা শব্দের সবিতা
বলো তবে এক্ষণে, হলো কি না কবিতা।
পারমাণবিক বোধ
কে আছো জেগে
এই নিস্তব্ধ নিশীথে!
জীবনের ধ্বনিময় প্রতিধ্বনি
আঁধারের পুঞ্জিভূত কোটি কণা
বিচ্ছিন্ন বিদীর্ণ করে
জ্যোতির তরঙ্গে ধাবমান।
আমি এই প্রগাঢ় কালো রাত্রির বলয়ে
অবচেতন উপদ্রুত মনের কোটরে
অনির্বাণ পরামাণবিক বোধ নিয়ে
জেগে আছি।
এ মুহূর্তে স্নায়বিক আমার সমস্ত সত্তায়
এক অতীন্দ্রিয় কম্পমান অনুভূতি
পৃথিবী বেষ্টন করে আছে।
অরণ্যের গভীরতায় একটি ঘাসের কচি ডানা
জেগে ওঠার শব্দময় প্রতিধ্বনি
আমার শ্রুতিতে বেজে ওঠে,
মাটির গভীরে প্রোথিত
একটি জীবাণুর শারীরিক উত্তাপের অগ্নিবলয়
দৃশ্যমান আমার দু’চোখে।
স্পর্শের অতীত রক্তাক্ত আত্মার শরীরে
আঙুল রেখে
জানি করতলে সময়ের ক্ষুব্ধ নিঃসরণ,
আমি এক দীপ্তিমান কান্তিমান মহাজাগতিক
বিকীরণে
অতিকায় ডাইনোসরাসের যূথবদ্ধ মৃত্যু—
দানবের নিঃশব্দ পতন, প্রাগৈতিহাসিক
হয়ে যাবার দৃশ্য দেখতে দেখতে
বুকভরা বাতাসের ঘ্রাণ পেয়ে ফিরে আসি
জলের কাছাকাছি।
পৃথিবীর পাঁজর ভাঙা একটুকরো হাড়
আঙুলের স্পর্শ পেয়ে শোণিতে ধ্বনিত হয়
বাঁশরির সুর, তীব্র— রাত্রি দ্বিপ্রহর।
ঝরাপাতার গান
পাতা ঝরে যায়
পাতা ঝরে যায়
কি যে লিখে যায়
বাতাসের গায়
পাতা ঝরে যায়।
ফাল্গুনে হায়
জল ছলকায়
চোখের কোনায়
সে যে কান্নায়
হায় হায় হায়।
দখিনার বায়
মৃদু ছোঁয়াটায়
মৃদুল দোলায়
পাতা ঝরে যায়।
খোলা জানালায়
আকাশের গায়
পাতার খাতায়
লিখা যে বিদায়,
ফাল্গুন যায়
কি কোকিলা গায়
পাতার ছায়ায়
পাতা ঝরে যায়
পাতা ঝরে যায়।
পাতায় পাতায়
লেখা হয়ে যায়
মর্মতায়
কত কথা হায়
পাতা ঝরে যায়।
দিন চলে যায়
ফাল্গুন যায়
বলি ফিরে আয়
পাতা ঝরে যায়
পাতা ঝরে যায়।
কুয়াশা এবং পরাবাস্তবতা
কুয়াশার মোড়কে বন্দী সমস্ত শহর।
কুয়াশার গায়ে লেপ্টে থাকা
প্রায় অদৃশ্য অট্টালিকার অস্বচ্ছ প্রকাশ।
ধীরগতি যন্ত্রশকট নির্গত কার্বনের কণায়
আস্তীর্ণ কুয়াশা, আর হলুদ চক্ষু মেলে
যন্ত্রশকটের প্রকটিত হওয়ার যন্ত্রণা।
চোখে ছানি পড়ার মত অস্পষ্ট দৃষ্টিতে
বিদ্যুতের তারে বসা কুয়াশা কাতর কাক।
মাঘের এমন শীতে নীলাভ আকাশে ঢাকা
বিস্তীর্ণ সফেদ চাদর।
সমগ্র শহরে কুয়াশরা স্থির দাঁড়িয়ে,
দু’চোখের খুব কাছে স্পষ্ট শুধু
কুয়াশার ধবল শরীর।
ছোঁয়া তো যায় না তাকে
তবু আছে শরীরে জড়ায়ে,
কুয়াশার গভীরে ডুব দিয়ে দেখি
কুয়াশার তুলিতে আঁকা শহরে অস্পষ্ট
স্থির চিত্রাবলী। মন্থর চাকার গতি আর—
পাখিরা লুকিয়ে আছে কোথায় নীরবে।
গাছ আর পাতার গায়
কুয়াশারা যেনো চুমো খায়।
বনের কুয়াশা আর প্রান্তরের কুয়াশা দেখেছি,
প্রদোষে কুয়াশার ওম পেয়ে অবচেতন
শত গ্রাম নিঃমশব্দ নিঝুম।
কুয়াশার কত কথা,
শহরের কুয়াশার কথা বলে না তো কেউ,
কুয়াশাকীর্ণত্বকে অস্পর্শ শীতলতা
টের পাই তবু—
কুয়াশাক্লান্ত শহরের অস্পষ্ট কথকতা,
কুয়াশার এমন চিত্র
এমনই এ শহরে কুয়াশার পরাবাস্তবতা।

আপনার মতামত লিখুন