সংবাদ

অগ্রণী ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা গায়েব, ম্যানেজারসহ গ্রেপ্তার ৫


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

অগ্রণী ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা গায়েব, ম্যানেজারসহ গ্রেপ্তার ৫
ছবি : সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শাখার ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ব্যাংকের ভেতর থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই প্রতারণার ঘটনায় ব্যাংকটির মোট ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপক শরীফউদ্দিন (৩৯), সাবেক ক্যাশ অফিসার জিন্নাহ হোসেন (৩৪), বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ড রঞ্জু আহমেদ (৩০) ও আব্দুল হাই (৪২) এবং ব্যাংকটির দীঘিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল হক (৪২)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা লোপাটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি প্রতিনিধিদল শ্রীনগর শাখা কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালায়। তদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে গ্রাহকের টাকা লোপাটের একই ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া এলাকা থেকে অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

এদিকে গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া বা আত্মসাৎ করা টাকার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি নিরীক্ষা (অডিট) দল গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই দল তদন্ত ও অডিট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশিত হলেও ব্যাংকের অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অঙ্ক নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় সংস্থাটি বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করছে। আত্মসাৎ করা অর্থের সঠিক পরিমাণ, খোয়া যাওয়া টাকার অবস্থান এবং এই অপকর্মের সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তদন্ত ও অডিট রিপোর্ট শেষ হলে তা স্পষ্ট হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর বাজার শাখা থেকে শত শত গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপন করেন জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক শরীফুজ্জামান সোহাগ। খবরটি চাউর হতেই গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা ব্যাংকে ভিড় জমানোর পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


অগ্রণী ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা গায়েব, ম্যানেজারসহ গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শাখার ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ব্যাংকের ভেতর থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই প্রতারণার ঘটনায় ব্যাংকটির মোট ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপক শরীফউদ্দিন (৩৯), সাবেক ক্যাশ অফিসার জিন্নাহ হোসেন (৩৪), বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ড রঞ্জু আহমেদ (৩০) ও আব্দুল হাই (৪২) এবং ব্যাংকটির দীঘিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল হক (৪২)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা লোপাটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি প্রতিনিধিদল শ্রীনগর শাখা কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালায়। তদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে গ্রাহকের টাকা লোপাটের একই ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া এলাকা থেকে অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

এদিকে গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া বা আত্মসাৎ করা টাকার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি নিরীক্ষা (অডিট) দল গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই দল তদন্ত ও অডিট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশিত হলেও ব্যাংকের অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অঙ্ক নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় সংস্থাটি বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করছে। আত্মসাৎ করা অর্থের সঠিক পরিমাণ, খোয়া যাওয়া টাকার অবস্থান এবং এই অপকর্মের সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তদন্ত ও অডিট রিপোর্ট শেষ হলে তা স্পষ্ট হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর বাজার শাখা থেকে শত শত গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপন করেন জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক শরীফুজ্জামান সোহাগ। খবরটি চাউর হতেই গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা ব্যাংকে ভিড় জমানোর পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত