বাতিঘরে পূর্ণিমা
প্রাণজি বসাক
কোথাও কি জড়িয়ে থাকল এই নীলাভ মেঘ
দরজা খোলা পেয়ে ঢোকে রশ্মি অনুগত প্রশ্রয়ে
তার চোখেমুখে লেপ্টে থাকা অজস্র প্রশ্নের স্রোত
এক এক করে বসতে দাও উত্তর দেবে তুমি সবার
টুকরো মেঘ সরে গেছে নীল আকাশে উড়ছে প্রেম
বাতিঘরের আলো কতটা দূর থেকে দেখা যায়
সে কথা অভিজ্ঞ নাবিক জানে জানে তট কতদূরে
মেঘে ঢাকা পড়েছে ধ্রুবতারা বাতিঘরের আলো সম্বল
সুচারু পথ বেছে নেয় ধূর্ত নাবিক সে চেনে ঢেউয়ের নৃত্য
উদ্বেলিত পূর্ণিমার চাঁদ ডেকে নেয় কাছে ঝড় ওঠে বাতাসে
সহজ কবিতা
পুলক হাসান
শরতের ধ্যানমগ্ন আকাশের মতো তোমার স্থিরতা
প্রকাশ করে যে এক ধরনের কাতরতা
আমি তার মধ্যেই দেখি
শান্ত পুকুরে শাপলা ফুলের মতো ফুটে উঠেছে আমার কবিতা।
আমি অনুভব করি শব্দের চেয়ে ভারি নৈঃশব্দ্য
অনুভব করি ঋষির আত্মমগ্নতা
কী বিপুল
আমাকে খলপাখির নিশানা থেকে রাখে দূরে
মৌনতার ভেতরে।
তবে এটা নয় শুধু সুন্দরের বার্তা
বরং অস্থির পৃথিবীর জ্যোৎস্না থেকে আলাদা
কঠিনের ভেতর একটুকরো কোমলতা।
যার সঙ্গে তুলনা হতে পারে চাঁদের
যার সঙ্গে তুলনা হতে পারে মৃদুমন্দ তটিনীর
নইলে তোমার প্রেমে কেন বাঁধব নীড়?
প্রকৃতিভাষা
পারভেজ আহসান
রূপের বদল:
ফলভারে নোয়ানো গাছ,
ঝিঁঝিঁ পোকা ভাঙে ঘুমন্ত দুপুর,
মৌ মৌ ঘ্রাণ।
হাওর ভরা জল,
কেরাই নাওয়ে নাইওর,
‘বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকার’।
নদীর কিনার সাদার বাহার,
ছাতিমগন্ধে মাতাল রাত
শিউলিঝরা সকাল।
পাতার পতন
জমিনে সোনার চাদর,
ঘাসে মুক্তোদানা।
কুয়াশার কুহক,
কোমল রোদ্দুর,
ধ্যানমগ্ন বক।
রঙের প্রস্ফুটন,
কুহুতান,
‘মাতাল সমীরণ’।
মানুষ শেখে প্রকৃতির ভাষা—
চোখে ফোটে ভোর,
মুখে মেঘের ছায়া;
চৈত্রের রুক্ষতা।
ঠিকানা
রাফেয়া আবেদীন
আমাকে দাও নৈঃশব্দ্য, নির্জন রাত্রি
আঁধার উন্মোচনে আমার চেতনার রহস্য
স্খলিত পুনর্জন্মে কেঁদে উঠুক।
আমাকে দাও নৈসর্গিক প্রেম, অন্তিত্বের বিলাপ
বিমূঢ় স্বপ্নের বন্ধন ছিন্ন করে চলে যাওয়া
দূর মেঘের প্রাচুর্যে।
জেনে গেছি নিস্তব্ধতাই আমার আধার
চেতনার মৃত মাংস-মেদ-অহঙ্কার
চূর্ণবিচূর্ণ পরস্পর প্রেমের ছায়াপ্রতিচ্ছায়া।
কতদিন হলো নিস্তরঙ্গ সময়ের বীভৎস চিৎকার
হাড়ের ভেতর খেলা করে বিষরক্ত ছড়িয়ে
এমন ঋতুর শূন্যতায় কতকাল হেঁটেছি
গোধূলিধূলির দিকচিহ্নহীন সড়কে?
নদী ও নারী
ফারুক ফয়সল
নদীকে ভাবতে গেলে
চোখের সামনে ভেসে ওঠে নারী
‘নদী ও নারী’ যমজ বোন যেন, এক জঠরে বেড়ে ওঠা!
সমান্তরালে চলা তাদের,
দুজনেরই আছে বেগ ও আবেগ
দুইয়ের জীবনই বয়ে চলা নিরবধি
ছন্দের ও ছন্দ পতনের,
চলার পথ বড় অমসৃণ, শত বাঁকে গতি-ফেরা!
ভাঙা-গড়া নিয়ত দুইয়েরই নিয়তি,
এ পাড়ে ভাঙ্গার খেলা, ওকূলে তখন গড়া
নদীর পাড় ভাঙে তো, নারীর হৃদয় চুরমার!
সূর্যের মতো তেজ, আর ধরিত্রীর মতো ধৈর্য ধারণ
নারী ধরে এক অঙ্গে কতো রূপের ছটা
নদীর বুকেও জোয়ার ভাটা,
দিবারাতি বৈঠার ঘা, জলতোলা, ময়লা ঢালা
মানুষের পাপ, খেদ, ক্লেদ, সকলই সে নেয় গতরে
নারীও ধরে সংসারের শত গ্লানি, অপমানের বোঝা
সব সয়ে নিজে ক্ষয়ে, স্বামী-সন্তানের সুখ খোঁজা!
রজঃস্বলা নারীও তো বয়সে এসে রজঃনিবৃত্তিতে বাঁধা,
প্রমত্তা যৌবন ফুরিয়ে নদীও স্তিমিত, গতি-হারা, হাজা-মজা!
উন্মূল পালক
রাহমান ওয়াহিদ
স্থির হয়ে বস একটুখানি
মুখোমুখি হই, কথা বলি
খানিক বোঝাপড়া হোক;
তুমুল তক্কাতক্কি হোক
মন ছেঁড়াছিঁড়িও হয় যদি, হোক।
তবু বস,
চোখে তোমার রাঙা চোখটি রাখো
ধূসর খোপার বাঁধনটি খোল
হেঁসেলের গন্ধটা গা থেকে সরাও
ধনে পাতার স্বাদু আচারটা
আজ আর নাইবা হলো।
কথা বলি;
ধূপছায়া আড়ালটা ছিঁড়ে ফেলে দেখি—
আমরা আসলে কী খেলায় মজেছি,
কোন্ রসায়নে আমাদের
সাবধানী হিসেবগুলো সাতারু হাঁসের
উন্মূল পালক হলো।
চিন চিন ব্যথা হয়
মাহবুবা ফারুক
ঘর থেকে দু’পা বের হয়ে যদি দেখি শিশুদের হাসি
নির্ভয়ে আনন্দে খেলাধুলা করে কাটায় বেলা
মনে পড়ে সেই মাছ বাজারের মিন্তির কথা
চা দোকানের বাসনধোয়া শুকনো দুটো হাতের কথা
যারা রোজ অমূল্য শৈশব বিক্রি করে কম দামে
লোভী ও প্রতারকের কাছে অসহায়ত্বের দায়ে
দারিদ্র্য-যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে তার সব অধিকার
তাদের ভেবে বুকের বামে চিন চিন ব্যথা হয়।
যদি দেখি নারী নিশ্চিন্তে চলে মানুষের মতো
মানুষের সমান মূল্যে কাটায় জীবন
চলনবলনের বিভিন্ন ভয় ফেলে দিয়েছে দূরে
আনন্দ হয়, সম্মান জানাই তাকে
তার সাহস ঋণ নিতে ইচ্ছে করে
তখন মনে পড়ে খুব মহাজন বাড়ির সেই
এঁটোবাসী খেয়ে খুশি থাকা মেয়েটার কথা
সম্পন্ন বৃদ্ধের কিশোরী তৃতীয় বউটির কথা
তখন বুকে চিন চিন ব্যথা হয়।
অহর্নিশ পতনরত ওই বিশাল জলরাশি
যদি পৃথিবীর কান্না হয়ে থাকে
তাহলে আমি এক ফোঁটা জল নেবার জন্যে
তার সামনে হাঁটু মুড়ে হাত পেতে বসতে চাই
মাটিতে পা ফেলেই দেখেছি ধ্বংসের লীলাখেলা
অকৃতজ্ঞদের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বার্থপরতা
জন্মের ঋণ ভুলে করছে মৃত্যুর উল্লাস
আমার নগণ্য জীবনের এত দুঃখ যদি তাহলে
বিশ্বের ভাঁজে ভাঁজে জমেছে কত বেদনার ভার
মানুষ ছড়িয়েছে যুদ্ধ মানুষে মানুষে যুগে যুগে
পৃথিবীর জন্যে আমার বুকে চিন চিন ব্যথা হয়
এই ব্যথার নিরাময় কীসে হয় খুঁজি নিরাময়।
মাছরাঙার চোখ
রাশেদ শাহরিয়ার
জলের মগ্নতা নষ্ট করে
ছিপ হাতে সারাক্ষণ বসে থাকে
স্বপ্নসন্ধিৎসু কতিপয় মৎস্যশিকারী
জীবনের পাশে
দূরে
গলা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটির ওপর
একটা নিঃসঙ্গ মাছরাঙা
মাছরাঙার চোখ দেখে ভাবি মানুষের দৃষ্টি—
তাকিয়ে আছে জীবনের দিকে
বেশুমার বিষাদ
সোয়েব আল হাসান
চোখের সামনে
এক পীতবর্ণের পোকাকে
প্রকাণ্ড দীর্ঘশ্বাস গিলে খেতে দেখে,
আমি আমার বেশুমার বিষাদ
উড়িয়ে দিলাম অন্তরীক্ষে।
বিষাদ, ভেজা বাতাসে উড়ছে
পিছে-পিছে ঘুরছে ঘুঘুসই আর্তনাদ।
আমি হেঁটে-হেঁটে বাতাসে আঁকি
হারানোর হ্যাশট্যাগ।
বুকের ভেতর বিরাণ বনভূমি
ভনভন করছে।
মনের মগজে ছুটে যাচ্ছে
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বাতিঘরে পূর্ণিমা
প্রাণজি বসাক
কোথাও কি জড়িয়ে থাকল এই নীলাভ মেঘ
দরজা খোলা পেয়ে ঢোকে রশ্মি অনুগত প্রশ্রয়ে
তার চোখেমুখে লেপ্টে থাকা অজস্র প্রশ্নের স্রোত
এক এক করে বসতে দাও উত্তর দেবে তুমি সবার
টুকরো মেঘ সরে গেছে নীল আকাশে উড়ছে প্রেম
বাতিঘরের আলো কতটা দূর থেকে দেখা যায়
সে কথা অভিজ্ঞ নাবিক জানে জানে তট কতদূরে
মেঘে ঢাকা পড়েছে ধ্রুবতারা বাতিঘরের আলো সম্বল
সুচারু পথ বেছে নেয় ধূর্ত নাবিক সে চেনে ঢেউয়ের নৃত্য
উদ্বেলিত পূর্ণিমার চাঁদ ডেকে নেয় কাছে ঝড় ওঠে বাতাসে
সহজ কবিতা
পুলক হাসান
শরতের ধ্যানমগ্ন আকাশের মতো তোমার স্থিরতা
প্রকাশ করে যে এক ধরনের কাতরতা
আমি তার মধ্যেই দেখি
শান্ত পুকুরে শাপলা ফুলের মতো ফুটে উঠেছে আমার কবিতা।
আমি অনুভব করি শব্দের চেয়ে ভারি নৈঃশব্দ্য
অনুভব করি ঋষির আত্মমগ্নতা
কী বিপুল
আমাকে খলপাখির নিশানা থেকে রাখে দূরে
মৌনতার ভেতরে।
তবে এটা নয় শুধু সুন্দরের বার্তা
বরং অস্থির পৃথিবীর জ্যোৎস্না থেকে আলাদা
কঠিনের ভেতর একটুকরো কোমলতা।
যার সঙ্গে তুলনা হতে পারে চাঁদের
যার সঙ্গে তুলনা হতে পারে মৃদুমন্দ তটিনীর
নইলে তোমার প্রেমে কেন বাঁধব নীড়?
প্রকৃতিভাষা
পারভেজ আহসান
রূপের বদল:
ফলভারে নোয়ানো গাছ,
ঝিঁঝিঁ পোকা ভাঙে ঘুমন্ত দুপুর,
মৌ মৌ ঘ্রাণ।
হাওর ভরা জল,
কেরাই নাওয়ে নাইওর,
‘বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকার’।
নদীর কিনার সাদার বাহার,
ছাতিমগন্ধে মাতাল রাত
শিউলিঝরা সকাল।
পাতার পতন
জমিনে সোনার চাদর,
ঘাসে মুক্তোদানা।
কুয়াশার কুহক,
কোমল রোদ্দুর,
ধ্যানমগ্ন বক।
রঙের প্রস্ফুটন,
কুহুতান,
‘মাতাল সমীরণ’।
মানুষ শেখে প্রকৃতির ভাষা—
চোখে ফোটে ভোর,
মুখে মেঘের ছায়া;
চৈত্রের রুক্ষতা।
ঠিকানা
রাফেয়া আবেদীন
আমাকে দাও নৈঃশব্দ্য, নির্জন রাত্রি
আঁধার উন্মোচনে আমার চেতনার রহস্য
স্খলিত পুনর্জন্মে কেঁদে উঠুক।
আমাকে দাও নৈসর্গিক প্রেম, অন্তিত্বের বিলাপ
বিমূঢ় স্বপ্নের বন্ধন ছিন্ন করে চলে যাওয়া
দূর মেঘের প্রাচুর্যে।
জেনে গেছি নিস্তব্ধতাই আমার আধার
চেতনার মৃত মাংস-মেদ-অহঙ্কার
চূর্ণবিচূর্ণ পরস্পর প্রেমের ছায়াপ্রতিচ্ছায়া।
কতদিন হলো নিস্তরঙ্গ সময়ের বীভৎস চিৎকার
হাড়ের ভেতর খেলা করে বিষরক্ত ছড়িয়ে
এমন ঋতুর শূন্যতায় কতকাল হেঁটেছি
গোধূলিধূলির দিকচিহ্নহীন সড়কে?
নদী ও নারী
ফারুক ফয়সল
নদীকে ভাবতে গেলে
চোখের সামনে ভেসে ওঠে নারী
‘নদী ও নারী’ যমজ বোন যেন, এক জঠরে বেড়ে ওঠা!
সমান্তরালে চলা তাদের,
দুজনেরই আছে বেগ ও আবেগ
দুইয়ের জীবনই বয়ে চলা নিরবধি
ছন্দের ও ছন্দ পতনের,
চলার পথ বড় অমসৃণ, শত বাঁকে গতি-ফেরা!
ভাঙা-গড়া নিয়ত দুইয়েরই নিয়তি,
এ পাড়ে ভাঙ্গার খেলা, ওকূলে তখন গড়া
নদীর পাড় ভাঙে তো, নারীর হৃদয় চুরমার!
সূর্যের মতো তেজ, আর ধরিত্রীর মতো ধৈর্য ধারণ
নারী ধরে এক অঙ্গে কতো রূপের ছটা
নদীর বুকেও জোয়ার ভাটা,
দিবারাতি বৈঠার ঘা, জলতোলা, ময়লা ঢালা
মানুষের পাপ, খেদ, ক্লেদ, সকলই সে নেয় গতরে
নারীও ধরে সংসারের শত গ্লানি, অপমানের বোঝা
সব সয়ে নিজে ক্ষয়ে, স্বামী-সন্তানের সুখ খোঁজা!
রজঃস্বলা নারীও তো বয়সে এসে রজঃনিবৃত্তিতে বাঁধা,
প্রমত্তা যৌবন ফুরিয়ে নদীও স্তিমিত, গতি-হারা, হাজা-মজা!
উন্মূল পালক
রাহমান ওয়াহিদ
স্থির হয়ে বস একটুখানি
মুখোমুখি হই, কথা বলি
খানিক বোঝাপড়া হোক;
তুমুল তক্কাতক্কি হোক
মন ছেঁড়াছিঁড়িও হয় যদি, হোক।
তবু বস,
চোখে তোমার রাঙা চোখটি রাখো
ধূসর খোপার বাঁধনটি খোল
হেঁসেলের গন্ধটা গা থেকে সরাও
ধনে পাতার স্বাদু আচারটা
আজ আর নাইবা হলো।
কথা বলি;
ধূপছায়া আড়ালটা ছিঁড়ে ফেলে দেখি—
আমরা আসলে কী খেলায় মজেছি,
কোন্ রসায়নে আমাদের
সাবধানী হিসেবগুলো সাতারু হাঁসের
উন্মূল পালক হলো।
চিন চিন ব্যথা হয়
মাহবুবা ফারুক
ঘর থেকে দু’পা বের হয়ে যদি দেখি শিশুদের হাসি
নির্ভয়ে আনন্দে খেলাধুলা করে কাটায় বেলা
মনে পড়ে সেই মাছ বাজারের মিন্তির কথা
চা দোকানের বাসনধোয়া শুকনো দুটো হাতের কথা
যারা রোজ অমূল্য শৈশব বিক্রি করে কম দামে
লোভী ও প্রতারকের কাছে অসহায়ত্বের দায়ে
দারিদ্র্য-যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে তার সব অধিকার
তাদের ভেবে বুকের বামে চিন চিন ব্যথা হয়।
যদি দেখি নারী নিশ্চিন্তে চলে মানুষের মতো
মানুষের সমান মূল্যে কাটায় জীবন
চলনবলনের বিভিন্ন ভয় ফেলে দিয়েছে দূরে
আনন্দ হয়, সম্মান জানাই তাকে
তার সাহস ঋণ নিতে ইচ্ছে করে
তখন মনে পড়ে খুব মহাজন বাড়ির সেই
এঁটোবাসী খেয়ে খুশি থাকা মেয়েটার কথা
সম্পন্ন বৃদ্ধের কিশোরী তৃতীয় বউটির কথা
তখন বুকে চিন চিন ব্যথা হয়।
অহর্নিশ পতনরত ওই বিশাল জলরাশি
যদি পৃথিবীর কান্না হয়ে থাকে
তাহলে আমি এক ফোঁটা জল নেবার জন্যে
তার সামনে হাঁটু মুড়ে হাত পেতে বসতে চাই
মাটিতে পা ফেলেই দেখেছি ধ্বংসের লীলাখেলা
অকৃতজ্ঞদের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বার্থপরতা
জন্মের ঋণ ভুলে করছে মৃত্যুর উল্লাস
আমার নগণ্য জীবনের এত দুঃখ যদি তাহলে
বিশ্বের ভাঁজে ভাঁজে জমেছে কত বেদনার ভার
মানুষ ছড়িয়েছে যুদ্ধ মানুষে মানুষে যুগে যুগে
পৃথিবীর জন্যে আমার বুকে চিন চিন ব্যথা হয়
এই ব্যথার নিরাময় কীসে হয় খুঁজি নিরাময়।
মাছরাঙার চোখ
রাশেদ শাহরিয়ার
জলের মগ্নতা নষ্ট করে
ছিপ হাতে সারাক্ষণ বসে থাকে
স্বপ্নসন্ধিৎসু কতিপয় মৎস্যশিকারী
জীবনের পাশে
দূরে
গলা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটির ওপর
একটা নিঃসঙ্গ মাছরাঙা
মাছরাঙার চোখ দেখে ভাবি মানুষের দৃষ্টি—
তাকিয়ে আছে জীবনের দিকে
বেশুমার বিষাদ
সোয়েব আল হাসান
চোখের সামনে
এক পীতবর্ণের পোকাকে
প্রকাণ্ড দীর্ঘশ্বাস গিলে খেতে দেখে,
আমি আমার বেশুমার বিষাদ
উড়িয়ে দিলাম অন্তরীক্ষে।
বিষাদ, ভেজা বাতাসে উড়ছে
পিছে-পিছে ঘুরছে ঘুঘুসই আর্তনাদ।
আমি হেঁটে-হেঁটে বাতাসে আঁকি
হারানোর হ্যাশট্যাগ।
বুকের ভেতর বিরাণ বনভূমি
ভনভন করছে।
মনের মগজে ছুটে যাচ্ছে
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস।

আপনার মতামত লিখুন