জলের শহর
এক যন্ত্রণাদগ্ধ মানুষ তোমার স্বপ্ন দেখেছিল—
এক যন্ত্রণাদগ্ধ মানুষ তোমার পিছু নিয়েছিল অনুক্ষণ—
সে তো তোমার সাথেই মরে যেতে চেয়েছিল।
আমার শরীরটা ওপারে, শৈলশিলায় আছড়ে পড়ছে চূর্ণ হয়ে,
ঠিক ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে দেখেছি তোমায় ভেসে উঠতে—
চিরনিকটে থেকেও চির সুদূর,
তুমিই ছিলে সেই নাগাল না পাওয়া এক তটভূমি।
তোমার সমস্ত সত্তায় জমাট বাঁধা যন্ত্রণা!
তবু প্রণাম জানাই তোমাকে, অভিবাদন জানাই
পরাজয়ের বুকে জেগে থাকা চিরন্তন সব কিছুকে—
যা চূড়ান্তভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত—
তবু ধ্বংসাবশেষ ফুঁড়ে দাঁড়িয়ে থাকে অনন্তকাল।
জল যদি হয় আমাদের জীবন,
তবে পাথরগুলোই হচ্ছে চরম নিয়তি—
এ তো কেবল আমি নই, আমার জন্মভূমিও কথা বলছে তোমার সাথে—
মহাসমুদ্রের যে সুর আমি আঁকি, তা ছেঁটে যায় দীর্ঘ রাতের তারায়!
আসন্ন ভোর ঢেকে দিয়ে তোমার মুখ ভেসে ওঠে রাতের আলোয়।
তুমি চোখের পাতা মেলো, আর তার ভেতর থেকে লাখ লাখ মানুষ
ঘুম ভেঙে বেরিয়ে আসে— চেপে বসে বাসে, ছড়িয়ে পড়ে দিগি¦দিক—
আর তোমার চোখের ভেতরে ভেসে ওঠে সেই জলের শহরগুলো।
যদি তুমি জানতে
যদি তুমি জানতে— কেমন করে কেঁদে মরি—
আর জাগি না—
তোমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগত আমাকে—
তুমি যদি হতে ঠিক আমার মতোই,
যেখানে স্বদেশের নদীরা জেগে থাকে কান্নায়—
তারা আমায় বলেছিল— কিন্তু হায়! সব মিথ্যা;
একমাত্র আমিই তো দেখেছি তোমায়
দেখেছি তোমার মুখ—
কালো আম্বর আর আকাশের মেশানো রঙে, কিন্তু না...
শিবিরে ছেলেরা বের করে এনেছিল সাদা পতাকা,
তবুও একইভাবে তারা আমাদের প্রহার করে গেল।
তুমি কি আছ সেখানে? পরাজিত, ক্রন্দনরত লাশের ভিড়ে?
তুমি কি আছ সেখানেও, হে আমার ঈশ্বর?
উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে থাকা নিথর কোনো মুখে?
এই নতুন পৃথিবীর জন্য কোনো ক্ষমা নেই—
তারা বলে— আমাদের কোনো কর্মেই বদলাবে না নিয়তি।
তবুও আমি কেঁদে মরি— ঘুম ভাঙে না আমার—
আর আমার ঈশ্বর দূরে সরে যান নিঃসঙ্গ বজরার মতো।
শেষ কবিতা
তারপর,
আমার পোড়া গালখানা গুঁজে দেব
এই রুক্ষ, কাঁকুরে পাথুরে মাটির বুকে—
এক খাঁটি দক্ষিণ আমেরিকানের মতোই—
আরও একটি মিনিটের জন্য
আকাশের পানে মুখ তুলে তাকাবো
চোখের জলে ভাসতে ভাসতে...
কারণ,
আমি— যে একদিন সুখে বিশ্বাস রেখেছিলাম,
চোখ ফিরিয়ে তাকেই
ফের দেখতে হবে খণ্ডনহীন ঐ ধ্রুব তারাদের!
দেশের জন্য ভালোবাসার কবিতা
মনে পড়ে কি, হে চিলিয়ান, শৈশবে প্রথমবার যখন নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলে?
হ্যাঁ, সে বলে।
মনে পড়ে কি দ্বিতীয়বারের কথা, যখন তোমার বয়স কেবল কুড়ির ঘরে?
হ্যাঁ, সে বলে।
তুমি কি জানো, ওহে চিলিয়ান, ওহে কপোত, আমরা আজ মৃত?
সে বলে, হ্যাঁ ।
তবে কি মনে পড়ে তোমার সেই প্রথম কবিতাটির কথা?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, সে বলে।
সে বলে হ্যাঁ হ্যাঁ... বলে হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁঈঈঈঈঈঈঈঈ...
ইয়ে ইয়ে
ইয়ে
রাত গান গেয়ে চলে, গায়, গায়, গায়, কেবলই গায়
সে গেয়ে চলেছে মাটির তলদেশে, সুরের ধারাপাতে।
তবে আত্মপ্রকাশ করো এবার—
জেগে ওঠো নতুন রূপে, এই ছোট্ট ছোট্ট মৃত দেশগুলোর ভিড়ে,
চিলিয়ান, কারাতেকা, সোমোজা আর বিশ্বাসঘাতকদের মাঝখান থেকে—
উঠে দাঁড়াও, ডানা মেলো আবার উড়াল আর সেই সঙ্গীতে,
যা কেবল তোমার জন্যই উঁচুতে ওড়ে, গান গায়
ফিরিয়ে দাও তাকে, তার সবচেয়ে স্বপ্নের, সবচেয়ে অশ্রুসিক্ত
ভালোবাসায় হারিয়ে যাওয়া এই মানুষটিকে—
যে কপোত, যে পাপও।
আমার হাত আর পা আমারই লাল রক্তে রঞ্জিত—
আর ঘায়ে ঢেকে গেছে আমারই সমস্ত শরীর—
বলো তো জুরিতা,
আমি কি ভুল করেও কখনো তোমায় বলেছি যে— আমি কষ্টে আছি?
রোববার সকাল ৩৮
পাহাড়ের চূড়ার ওপর উদিত সূর্য,
আর তার পায়ের নিচে, ঐ উপত্যকায়—
ফুল দিয়ে ঢাকা সমস্ত পৃথিবী।
অনুরাগী এক বন্ধু জুরিতা
তুলে নিচ্ছে সালোকসংশ্লেষণের আলো।
জুরিতা আর কখনোই বন্ধু হয়ে উঠবে না—
সন্ধ্যা সাতটা থেকেই তো ঘনিয়ে আসছে অন্ধকার...
রাত হলো উদ্ভিদের এক উন্মাদ আশ্রম।
কবি পরিচিতি
রাউল জুরিতার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চিলিতে। তিনি লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রখ্যাত ও বিতর্কিত কবি। ১৯৭৩ সালে মার্কিন-সমর্থিত সামরিক অভ্যুত্থানে আগস্টো পিনোচেট যখন সালভাদোর আলেন্দের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন, তখন চিলির মানুষের ওপর নেমে আসা রাজনৈতিক সহিংসতা, অত্যাচার এবং ক্ষমতার দাপটে স্প্যানিশ ভাষার বিকৃতির বিরুদ্ধে জুরিতার কবিতা সোচ্চার হয়ে ওঠে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সালের সেই ভয়াল স্বৈরশাসনকালে তিনি প্রকাশ করেন তাঁর বিখ্যাত কাব্যত্রয়ী— পার্গেটরি, অ্যান্টিপ্যারাডাইস এবং দ্য নিউ লাইফ। শুধু কাগজের পাতাতেই নয়, রাজনৈতিক প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে তিনি নিউ ইয়র্কের সুনীল আকাশে লিখেছিলেন মেঘের কবিতা, চিলির ধু ধু মরুভূমিতে বুলডোজার দিয়ে খোদাই করেছিলেন কবিতার পঙ্ক্তি।
গির্জা ও স্বৈরশাসনের কড়া নজরদারির ভেতর থেকেই তিনি কবিতা লিখতে ও প্রকাশ করতে শুরু করেন— যেখানে পাশাপাশি স্থান পেয়েছিল লৌকিক ও অলৌকিক, শৃঙ্খলিত ও অনিয়ন্ত্রিত শব্দমালা। যুক্তি ও ভাষার এক রহস্যময় মেলবন্ধনে জুরিতা উন্মোচন করেছিলেন কবিতার নতুন দিগন্ত; রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বলপ্রয়োগের শাসনের বিকৃত নিঃসারতার বিরুদ্ধে।
জুরিতা চিলির জাতীয় সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার কবিতা পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
জলের শহর
এক যন্ত্রণাদগ্ধ মানুষ তোমার স্বপ্ন দেখেছিল—
এক যন্ত্রণাদগ্ধ মানুষ তোমার পিছু নিয়েছিল অনুক্ষণ—
সে তো তোমার সাথেই মরে যেতে চেয়েছিল।
আমার শরীরটা ওপারে, শৈলশিলায় আছড়ে পড়ছে চূর্ণ হয়ে,
ঠিক ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে দেখেছি তোমায় ভেসে উঠতে—
চিরনিকটে থেকেও চির সুদূর,
তুমিই ছিলে সেই নাগাল না পাওয়া এক তটভূমি।
তোমার সমস্ত সত্তায় জমাট বাঁধা যন্ত্রণা!
তবু প্রণাম জানাই তোমাকে, অভিবাদন জানাই
পরাজয়ের বুকে জেগে থাকা চিরন্তন সব কিছুকে—
যা চূড়ান্তভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত—
তবু ধ্বংসাবশেষ ফুঁড়ে দাঁড়িয়ে থাকে অনন্তকাল।
জল যদি হয় আমাদের জীবন,
তবে পাথরগুলোই হচ্ছে চরম নিয়তি—
এ তো কেবল আমি নই, আমার জন্মভূমিও কথা বলছে তোমার সাথে—
মহাসমুদ্রের যে সুর আমি আঁকি, তা ছেঁটে যায় দীর্ঘ রাতের তারায়!
আসন্ন ভোর ঢেকে দিয়ে তোমার মুখ ভেসে ওঠে রাতের আলোয়।
তুমি চোখের পাতা মেলো, আর তার ভেতর থেকে লাখ লাখ মানুষ
ঘুম ভেঙে বেরিয়ে আসে— চেপে বসে বাসে, ছড়িয়ে পড়ে দিগি¦দিক—
আর তোমার চোখের ভেতরে ভেসে ওঠে সেই জলের শহরগুলো।
যদি তুমি জানতে
যদি তুমি জানতে— কেমন করে কেঁদে মরি—
আর জাগি না—
তোমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগত আমাকে—
তুমি যদি হতে ঠিক আমার মতোই,
যেখানে স্বদেশের নদীরা জেগে থাকে কান্নায়—
তারা আমায় বলেছিল— কিন্তু হায়! সব মিথ্যা;
একমাত্র আমিই তো দেখেছি তোমায়
দেখেছি তোমার মুখ—
কালো আম্বর আর আকাশের মেশানো রঙে, কিন্তু না...
শিবিরে ছেলেরা বের করে এনেছিল সাদা পতাকা,
তবুও একইভাবে তারা আমাদের প্রহার করে গেল।
তুমি কি আছ সেখানে? পরাজিত, ক্রন্দনরত লাশের ভিড়ে?
তুমি কি আছ সেখানেও, হে আমার ঈশ্বর?
উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে থাকা নিথর কোনো মুখে?
এই নতুন পৃথিবীর জন্য কোনো ক্ষমা নেই—
তারা বলে— আমাদের কোনো কর্মেই বদলাবে না নিয়তি।
তবুও আমি কেঁদে মরি— ঘুম ভাঙে না আমার—
আর আমার ঈশ্বর দূরে সরে যান নিঃসঙ্গ বজরার মতো।
শেষ কবিতা
তারপর,
আমার পোড়া গালখানা গুঁজে দেব
এই রুক্ষ, কাঁকুরে পাথুরে মাটির বুকে—
এক খাঁটি দক্ষিণ আমেরিকানের মতোই—
আরও একটি মিনিটের জন্য
আকাশের পানে মুখ তুলে তাকাবো
চোখের জলে ভাসতে ভাসতে...
কারণ,
আমি— যে একদিন সুখে বিশ্বাস রেখেছিলাম,
চোখ ফিরিয়ে তাকেই
ফের দেখতে হবে খণ্ডনহীন ঐ ধ্রুব তারাদের!
দেশের জন্য ভালোবাসার কবিতা
মনে পড়ে কি, হে চিলিয়ান, শৈশবে প্রথমবার যখন নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলে?
হ্যাঁ, সে বলে।
মনে পড়ে কি দ্বিতীয়বারের কথা, যখন তোমার বয়স কেবল কুড়ির ঘরে?
হ্যাঁ, সে বলে।
তুমি কি জানো, ওহে চিলিয়ান, ওহে কপোত, আমরা আজ মৃত?
সে বলে, হ্যাঁ ।
তবে কি মনে পড়ে তোমার সেই প্রথম কবিতাটির কথা?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, সে বলে।
সে বলে হ্যাঁ হ্যাঁ... বলে হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁঈঈঈঈঈঈঈঈ...
ইয়ে ইয়ে
ইয়ে
রাত গান গেয়ে চলে, গায়, গায়, গায়, কেবলই গায়
সে গেয়ে চলেছে মাটির তলদেশে, সুরের ধারাপাতে।
তবে আত্মপ্রকাশ করো এবার—
জেগে ওঠো নতুন রূপে, এই ছোট্ট ছোট্ট মৃত দেশগুলোর ভিড়ে,
চিলিয়ান, কারাতেকা, সোমোজা আর বিশ্বাসঘাতকদের মাঝখান থেকে—
উঠে দাঁড়াও, ডানা মেলো আবার উড়াল আর সেই সঙ্গীতে,
যা কেবল তোমার জন্যই উঁচুতে ওড়ে, গান গায়
ফিরিয়ে দাও তাকে, তার সবচেয়ে স্বপ্নের, সবচেয়ে অশ্রুসিক্ত
ভালোবাসায় হারিয়ে যাওয়া এই মানুষটিকে—
যে কপোত, যে পাপও।
আমার হাত আর পা আমারই লাল রক্তে রঞ্জিত—
আর ঘায়ে ঢেকে গেছে আমারই সমস্ত শরীর—
বলো তো জুরিতা,
আমি কি ভুল করেও কখনো তোমায় বলেছি যে— আমি কষ্টে আছি?
রোববার সকাল ৩৮
পাহাড়ের চূড়ার ওপর উদিত সূর্য,
আর তার পায়ের নিচে, ঐ উপত্যকায়—
ফুল দিয়ে ঢাকা সমস্ত পৃথিবী।
অনুরাগী এক বন্ধু জুরিতা
তুলে নিচ্ছে সালোকসংশ্লেষণের আলো।
জুরিতা আর কখনোই বন্ধু হয়ে উঠবে না—
সন্ধ্যা সাতটা থেকেই তো ঘনিয়ে আসছে অন্ধকার...
রাত হলো উদ্ভিদের এক উন্মাদ আশ্রম।
কবি পরিচিতি
রাউল জুরিতার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চিলিতে। তিনি লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রখ্যাত ও বিতর্কিত কবি। ১৯৭৩ সালে মার্কিন-সমর্থিত সামরিক অভ্যুত্থানে আগস্টো পিনোচেট যখন সালভাদোর আলেন্দের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন, তখন চিলির মানুষের ওপর নেমে আসা রাজনৈতিক সহিংসতা, অত্যাচার এবং ক্ষমতার দাপটে স্প্যানিশ ভাষার বিকৃতির বিরুদ্ধে জুরিতার কবিতা সোচ্চার হয়ে ওঠে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সালের সেই ভয়াল স্বৈরশাসনকালে তিনি প্রকাশ করেন তাঁর বিখ্যাত কাব্যত্রয়ী— পার্গেটরি, অ্যান্টিপ্যারাডাইস এবং দ্য নিউ লাইফ। শুধু কাগজের পাতাতেই নয়, রাজনৈতিক প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে তিনি নিউ ইয়র্কের সুনীল আকাশে লিখেছিলেন মেঘের কবিতা, চিলির ধু ধু মরুভূমিতে বুলডোজার দিয়ে খোদাই করেছিলেন কবিতার পঙ্ক্তি।
গির্জা ও স্বৈরশাসনের কড়া নজরদারির ভেতর থেকেই তিনি কবিতা লিখতে ও প্রকাশ করতে শুরু করেন— যেখানে পাশাপাশি স্থান পেয়েছিল লৌকিক ও অলৌকিক, শৃঙ্খলিত ও অনিয়ন্ত্রিত শব্দমালা। যুক্তি ও ভাষার এক রহস্যময় মেলবন্ধনে জুরিতা উন্মোচন করেছিলেন কবিতার নতুন দিগন্ত; রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বলপ্রয়োগের শাসনের বিকৃত নিঃসারতার বিরুদ্ধে।
জুরিতা চিলির জাতীয় সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার কবিতা পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন