সংবাদ

এক ইঞ্চিও ছাড়বো না, চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

এক ইঞ্চিও ছাড়বো না, চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে

​ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শাসকদলীয় নীতিমালার বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের কঠোর অবস্থান আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক লড়াইয়ের পটভূমিতে ভারতের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন যে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে এবং তাদের পতন অবধারিত।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও অবস্থান স্পষ্ট করে রাহুল গান্ধী বলেন, "আমি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নরেন্দ্র মোদী, আরএসএস এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত শক্তিগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছি। একজন মানুষ যেমন তাঁর প্রতিপক্ষকে চেনেন, আমিও তেমনই তাদের খুব ভালোভাবে চিনি। তাদের মানসিকতা, কৌশল ও চালচলন সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। এই মানুষগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, কাপুরুষতা। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, জ্ঞানেশ কুমার এবং অজিত ডোভাল—এই কাহিনির খলনায়কেরা ধীরে ধীরে চারদিক থেকে চাপে পড়ছেন। তাদের ঘিরে পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। আর আমরা সেই পরিসর আরও সংকুচিত করছি।"

​প্রশাসনিক চাপ এবং পুলিশি পদক্ষেপকে কোনোভাবেই ভয় পান না জানিয়ে রাহুল গান্ধী আরও বলেন, "মোদীজি, আপনি যা খুশি করুন। যত পুলিশ ডাকতে চান, ডাকুন—১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, কিংবা তারও বেশি। সমস্ত নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সমস্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরছি, আর আমরা এক পা-ও পিছিয়ে যাব না। আমার কথা মনে রাখবেন, আমাদের যে তথ্যের প্রয়োজন, তা ইতিমধ্যেই আমাদের হাতে রয়েছে।"

​সংবিধান ও দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, "আমরা আমাদের সংবিধানকে রক্ষা করব। আমরা ভারতের মানুষের কণ্ঠস্বরকে সুরক্ষিত রাখব। আর আমরা নিশ্চিত করব, গত ১০–১৫ বছরে ভারতের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা যেন আর কখনও, কোনও পরিস্থিতিতেই না ঘটে।"

​দেশের প্রতিবাদী যুবসমাজকে উৎসাহিত করে কংগ্রেস নেতা বলেন, "ভারতের যুবসমাজ, তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। তোমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমরা তোমাদের পাশে আছি। আমরা নিশ্চিত করব, এই শাসনব্যবস্থা এবং আমাদের সংবিধানের উপর যারা আক্রমণ চালিয়েছে, তাদের পরাজয় ঘটবে।"

​রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের প্রশাসনিক চাপ, পুলিশি কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন মামলার হুমকির মুখেও বিরোধী শিবির নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে দাঁড়াতে নারাজ।

ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক সুরক্ষা এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত তাদের এই রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও আন্দোলন রাজপথে অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


এক ইঞ্চিও ছাড়বো না, চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শাসকদলীয় নীতিমালার বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের কঠোর অবস্থান আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক লড়াইয়ের পটভূমিতে ভারতের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন যে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে এবং তাদের পতন অবধারিত।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও অবস্থান স্পষ্ট করে রাহুল গান্ধী বলেন, "আমি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নরেন্দ্র মোদী, আরএসএস এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত শক্তিগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছি। একজন মানুষ যেমন তাঁর প্রতিপক্ষকে চেনেন, আমিও তেমনই তাদের খুব ভালোভাবে চিনি। তাদের মানসিকতা, কৌশল ও চালচলন সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। এই মানুষগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, কাপুরুষতা। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, জ্ঞানেশ কুমার এবং অজিত ডোভাল—এই কাহিনির খলনায়কেরা ধীরে ধীরে চারদিক থেকে চাপে পড়ছেন। তাদের ঘিরে পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। আর আমরা সেই পরিসর আরও সংকুচিত করছি।"

​প্রশাসনিক চাপ এবং পুলিশি পদক্ষেপকে কোনোভাবেই ভয় পান না জানিয়ে রাহুল গান্ধী আরও বলেন, "মোদীজি, আপনি যা খুশি করুন। যত পুলিশ ডাকতে চান, ডাকুন—১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, কিংবা তারও বেশি। সমস্ত নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সমস্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরছি, আর আমরা এক পা-ও পিছিয়ে যাব না। আমার কথা মনে রাখবেন, আমাদের যে তথ্যের প্রয়োজন, তা ইতিমধ্যেই আমাদের হাতে রয়েছে।"

​সংবিধান ও দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, "আমরা আমাদের সংবিধানকে রক্ষা করব। আমরা ভারতের মানুষের কণ্ঠস্বরকে সুরক্ষিত রাখব। আর আমরা নিশ্চিত করব, গত ১০–১৫ বছরে ভারতের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা যেন আর কখনও, কোনও পরিস্থিতিতেই না ঘটে।"

​দেশের প্রতিবাদী যুবসমাজকে উৎসাহিত করে কংগ্রেস নেতা বলেন, "ভারতের যুবসমাজ, তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। তোমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমরা তোমাদের পাশে আছি। আমরা নিশ্চিত করব, এই শাসনব্যবস্থা এবং আমাদের সংবিধানের উপর যারা আক্রমণ চালিয়েছে, তাদের পরাজয় ঘটবে।"

​রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের প্রশাসনিক চাপ, পুলিশি কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন মামলার হুমকির মুখেও বিরোধী শিবির নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে দাঁড়াতে নারাজ।

ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক সুরক্ষা এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত তাদের এই রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও আন্দোলন রাজপথে অব্যাহত থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত