রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাই শেষে পালানোর চেষ্টা করার সময় পথচারীর হাতে এক ছিনতাইকারী ধরা পড়ার পর, তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সঙ্গীর ছোড়ার ভুল আঘাতেই প্রাণ হারালেন আরেক ছিনতাইকারী। মর্মান্তিক এই ঘটনায় জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রবিবার খিলগাঁও বনশ্রী পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনার রোমহর্ষক বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, "হত্যার শিকার মো. জনি পেশায় অটোচালক। তিনি গত ২৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে বাসা থেকে বাহির হন। পরে ভোর ৫টার দিকে কদমতলী থানাধীন জুরাইন মোক্তার হোসেন সড়কে বুকে ছুরিকাঘাত অবস্থায় পেয়ে কদমতলী থানার টহল পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। ভুক্তভোগীর মা ডালিয়া অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।"
চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ দল গত ৯ অক্টোবর রাতে কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বাপ্পিকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার পরদিন ১০ অক্টোবর রাতে অপর সহযোগী মো. নুর আলম বারেককে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে জনি, বাপ্পি ও বারেক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। দুজন পথচারীকে আসতে দেখে তারা পথরোধ করে মোবাইল, নগদ টাকা ও একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তবে ছিনতাই শেষে পালানোর সময় একজন পথচারী কৌশল করে জনিকে শক্তভাবে ধরে ফেলেন। ধস্তাধস্তি করেও জনি নিজেকে মুক্ত করতে পারছিলেন না। তাকে ছাড়াতে বাপ্পি তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে পথচারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে আঘাত হানেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আঘাতটি পথচারীর গায়ে না লেগে নিজ দলীয় সদস্য জনির বুকে সরাসরি বিদ্ধ হয় এবং ছুরিটি আটকে যায়।
জনির চিৎকারে বাপ্পি ও বারেক ছিনতাই করা মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত জনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সঙ্গীর ভুল আঘাতেই যে জনির প্রাণ গেছে, পিবিআইয়ের অনুসন্ধানে তা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়েছে।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাই শেষে পালানোর চেষ্টা করার সময় পথচারীর হাতে এক ছিনতাইকারী ধরা পড়ার পর, তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সঙ্গীর ছোড়ার ভুল আঘাতেই প্রাণ হারালেন আরেক ছিনতাইকারী। মর্মান্তিক এই ঘটনায় জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রবিবার খিলগাঁও বনশ্রী পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনার রোমহর্ষক বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, "হত্যার শিকার মো. জনি পেশায় অটোচালক। তিনি গত ২৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে বাসা থেকে বাহির হন। পরে ভোর ৫টার দিকে কদমতলী থানাধীন জুরাইন মোক্তার হোসেন সড়কে বুকে ছুরিকাঘাত অবস্থায় পেয়ে কদমতলী থানার টহল পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। ভুক্তভোগীর মা ডালিয়া অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।"
চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ দল গত ৯ অক্টোবর রাতে কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বাপ্পিকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার পরদিন ১০ অক্টোবর রাতে অপর সহযোগী মো. নুর আলম বারেককে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে জনি, বাপ্পি ও বারেক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। দুজন পথচারীকে আসতে দেখে তারা পথরোধ করে মোবাইল, নগদ টাকা ও একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তবে ছিনতাই শেষে পালানোর সময় একজন পথচারী কৌশল করে জনিকে শক্তভাবে ধরে ফেলেন। ধস্তাধস্তি করেও জনি নিজেকে মুক্ত করতে পারছিলেন না। তাকে ছাড়াতে বাপ্পি তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে পথচারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে আঘাত হানেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আঘাতটি পথচারীর গায়ে না লেগে নিজ দলীয় সদস্য জনির বুকে সরাসরি বিদ্ধ হয় এবং ছুরিটি আটকে যায়।
জনির চিৎকারে বাপ্পি ও বারেক ছিনতাই করা মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত জনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সঙ্গীর ভুল আঘাতেই যে জনির প্রাণ গেছে, পিবিআইয়ের অনুসন্ধানে তা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন