সংবাদ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা, দিল্লিতে আটক ১০০


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা, দিল্লিতে আটক ১০০
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে দিল্লিতে আটক অব্যাহত, কনট প্লেস থেকে ১০০ জন আটক

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ‘আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি’ ছাড়া আটক করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়ার পরও দিল্লি পুলিশ আটক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার (১১ অক্টোবর) কনট প্লেস এলাকা থেকে কমপক্ষে ১০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দুইটি বাসে করে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা আবারও রাস্তায় নামলে পুলিশ এই আটক অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিপিআই(এম) নেতা জন ব্রিটাসও রয়েছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজনকে বিক্ষোভকারী বলে সন্দেহ করে একটি বার্গার দোকান থেকে বের করে আনা হয়। তিনি পুলিশকে বলেন, তিনি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে যাবেন না। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

আরকে আশ্রমে অন্তত চার সাংবাদিককে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এলাকায় ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের পরিবহনের জন্য একাধিক খালি বাসও দেখা যায়।

এর আগে দিনের শুরুতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার একটি বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ‘আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি’ ছাড়া আটক করা যাবে না। গণআটক, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং শনিবারের বিক্ষোভের আগে পরিবহন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের ৯ অক্টোবরের নির্দেশ না মানার অভিযোগে জরুরি শুনানির পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত আরও নির্দেশ দেয়, দিল্লিতে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চলবে, ইন্টারনেট সংযোগ অক্ষত থাকবে এবং জনগণের অবাধ চলাচল পুনরুদ্ধার করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালত কমপ্লেক্সের আশপাশে জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক নোটিশ প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়, যাতে ‘বিচার পাওয়ার অধিকার’ অবাধ থাকে।

জন ব্রিটাস সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের আচরণ মৌলিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ‘যারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন তাদের বিরুদ্ধে পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই আন্দোলন যতই দমনের চেষ্টা করা হোক, তা আরও বেড়েই চলবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ যে একটি বিমানে উঠে অভিজিৎ দীপকে ও অন্যদের আটক করেছে, সেটা ভেবে দেখুন। বিমানে ওঠার এত তাড়া কীসের? তারা কি হাইজ্যাকার? এটি বেসামরিক বিমান চলাচলের মৌলিক নিয়মের লঙ্ঘন।’

আটক হওয়া একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ‘আমি একা থাকলে আমাকেও মারধর করা হতো। আমি শুধু প্রতিবাদের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারা প্রতিবাদ করলেও সেটা তাদের অধিকার। তাদের কেন আটক করা হচ্ছে এবং মারধর করা হচ্ছে?’

দিল্লি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার পুলিশের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজধানীতে প্রতিবাদ করার চেষ্টার ঘটনায় ২০টির বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। 

একজন কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভের সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগেও ২০টির বেশি এফআইআর হয়েছে। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টির আইনি বিষয়ক প্রধান রত্না সিং বলেন, ‘এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়েছে—এটাই অনেক কথা বলে। গতকালের ঘটনার পর আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতিকে কেন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’ এই প্রতিবেদন লেখার সময় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা, দিল্লিতে আটক ১০০

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ‘আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি’ ছাড়া আটক করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়ার পরও দিল্লি পুলিশ আটক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার (১১ অক্টোবর) কনট প্লেস এলাকা থেকে কমপক্ষে ১০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দুইটি বাসে করে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা আবারও রাস্তায় নামলে পুলিশ এই আটক অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিপিআই(এম) নেতা জন ব্রিটাসও রয়েছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজনকে বিক্ষোভকারী বলে সন্দেহ করে একটি বার্গার দোকান থেকে বের করে আনা হয়। তিনি পুলিশকে বলেন, তিনি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে যাবেন না। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

আরকে আশ্রমে অন্তত চার সাংবাদিককে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এলাকায় ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের পরিবহনের জন্য একাধিক খালি বাসও দেখা যায়।

এর আগে দিনের শুরুতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার একটি বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ‘আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি’ ছাড়া আটক করা যাবে না। গণআটক, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং শনিবারের বিক্ষোভের আগে পরিবহন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের ৯ অক্টোবরের নির্দেশ না মানার অভিযোগে জরুরি শুনানির পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত আরও নির্দেশ দেয়, দিল্লিতে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চলবে, ইন্টারনেট সংযোগ অক্ষত থাকবে এবং জনগণের অবাধ চলাচল পুনরুদ্ধার করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালত কমপ্লেক্সের আশপাশে জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক নোটিশ প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়, যাতে ‘বিচার পাওয়ার অধিকার’ অবাধ থাকে।

জন ব্রিটাস সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের আচরণ মৌলিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ‘যারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন তাদের বিরুদ্ধে পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই আন্দোলন যতই দমনের চেষ্টা করা হোক, তা আরও বেড়েই চলবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ যে একটি বিমানে উঠে অভিজিৎ দীপকে ও অন্যদের আটক করেছে, সেটা ভেবে দেখুন। বিমানে ওঠার এত তাড়া কীসের? তারা কি হাইজ্যাকার? এটি বেসামরিক বিমান চলাচলের মৌলিক নিয়মের লঙ্ঘন।’

আটক হওয়া একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ‘আমি একা থাকলে আমাকেও মারধর করা হতো। আমি শুধু প্রতিবাদের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারা প্রতিবাদ করলেও সেটা তাদের অধিকার। তাদের কেন আটক করা হচ্ছে এবং মারধর করা হচ্ছে?’

দিল্লি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার পুলিশের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজধানীতে প্রতিবাদ করার চেষ্টার ঘটনায় ২০টির বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। 

একজন কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভের সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগেও ২০টির বেশি এফআইআর হয়েছে। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টির আইনি বিষয়ক প্রধান রত্না সিং বলেন, ‘এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়েছে—এটাই অনেক কথা বলে। গতকালের ঘটনার পর আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতিকে কেন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’ এই প্রতিবেদন লেখার সময় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত