কম্পিউটারে গেম খেলার সময় ফ্রেম রেট কমে যাওয়া, গেম আটকে যাওয়া কিংবা মসৃণভাবে না চলার সমস্যা অনেকেরই পরিচিত। বিশেষ করে আধুনিক গেমে উন্নত গ্রাফিকস ও রে ট্রেসিংয়ের ব্যবহার বাড়ায় পুরোনো গ্রাফিকস কার্ডে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া কঠিন হতে পারে।
তবে এ ধরনের সমস্যার সমাধানে সব সময় নতুন গ্রাফিকস কার্ড কেনার প্রয়োজন হয় না। গেমের গ্রাফিকস সেটিংস পরিবর্তন, ড্রাইভার হালনাগাদ এবং কম্পিউটারের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বর্তমান জিপিইউর কার্যক্ষমতা থেকে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে গ্রাফিকস কার্ডের পারফরম্যান্স বাড়ানোর কয়েকটি কৌশল তুলে ধরা হয়েছে।
১. এফএসআর, ডিএলএসএস ও এক্সইএসএস কাজে লাগান
গেমের দৃশ্যমান মান ধরে রেখে ফ্রেম রেট বাড়াতে এএমডির এফএসআর, এনভিডিয়ার ডিএলএসএস এবং ইন্টেলের এক্সইএসএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব প্রযুক্তিতে গেম তুলনামূলক কম রেজল্যুশনে রেন্ডার করার পর উন্নত ইমেজ প্রসেসিং বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ছবির রেজল্যুশন বাড়ানো হয়। এতে জিপিইউর কাজের চাপ কমতে পারে এবং গেমের গতি বাড়তে পারে।
ফ্রেম জেনারেশন প্রযুক্তিও অতিরিক্ত ফ্রেম তৈরি করে প্রদর্শিত ফ্রেমের সংখ্যা বাড়াতে পারে। তবে সব গেম ও গ্রাফিকস কার্ডে এ সুবিধা পাওয়া যায় না। কিছু ক্ষেত্রে এতে ইনপুট ল্যাগ বা ছবিতে দৃশ্যমান ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই নিজের হার্ডওয়্যার ও গেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ফিচার ব্যবহার করা উচিত।
২. গ্রাফিকসের মান প্রয়োজন অনুযায়ী কমান
গেমে ফ্রেম রেট কমে গেলে প্রথমেই গ্রাফিকস সেটিংস পর্যালোচনা করা দরকার। আল্ট্রা প্রিসেটের পরিবর্তে ব্যালান্সড বা পারফরম্যান্স মোড বেছে নিলে জিপিইউর ওপর চাপ কমতে পারে। পুরোনো বা তুলনামূলক কম ক্ষমতার গ্রাফিকস কার্ডে এ পরিবর্তন বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
এ ছাড়া অ্যাম্বিয়েন্ট অক্লুশন, স্ক্রিন স্পেস রিফ্লেকশনসহ উন্নত ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মাত্রা কমানো যায়। এতে গ্রাফিকসের সৌন্দর্যে কিছুটা পরিবর্তন এলেও গেম তুলনামূলক মসৃণভাবে চলতে পারে।
রে ট্রেসিংয়ের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। এই প্রযুক্তি আলো, ছায়া ও প্রতিফলনকে বাস্তবসম্মত করে তুললেও জিপিইউর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। পুরোনো বা কম ক্ষমতার গ্রাফিকস কার্ডে রে ট্রেসিং বন্ধ রাখলে ফ্রেম রেট বাড়তে পারে।
৩. জিপিইউর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
গ্রাফিকস কার্ড অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে এর কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফ্যান ও কুলিং সিস্টেমে ধুলা জমে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত তাপ থেকে যন্ত্রাংশকে সুরক্ষিত রাখতে জিপিইউ নিজেই কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় থার্মাল থ্রটলিং।
সমস্যা এড়াতে কম্পিউটারের ভেতরের ধুলা নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এ কাজের আগে কম্পিউটার বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এরপর উপযুক্ত কম্প্রেসড এয়ার ব্যবহার করে ফ্যান ও আশপাশের ধুলা সরানো যায়। পরিষ্কারের সময় ফ্যান বা অন্য যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়।
৪. ড্রাইভার আপডেট করুন, বন্ধ রাখুন অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ
গ্রাফিকস কার্ডের ড্রাইভার হালনাগাদ থাকলে নতুন গেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও পারফরম্যান্স উন্নত হতে পারে। এজন্য জিপিইউ প্রস্তুতকারকের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট কিংবা নির্ধারিত সফটওয়্যার থেকে উপযুক্ত ড্রাইভার ইনস্টল করা উচিত।
পাশাপাশি গেম খেলার সময় প্রয়োজন নেই এমন ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ রাখা যেতে পারে। এতে কম্পিউটারের সিস্টেম রিসোর্স অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ বাড়ে। বিশেষ করে কম র্যাম বা তুলনামূলক দুর্বল প্রসেসরের কম্পিউটারে এ অভ্যাস উপকারী হতে পারে।
৫. ওভারক্লকিংয়ের আগে সতর্ক থাকুন
জিপিইউর নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্লক স্পিড বাড়িয়ে অতিরিক্ত পারফরম্যান্স পাওয়ার পদ্ধতিকে ওভারক্লকিং বলা হয়। এমএসআই আফটারবার্নারের মতো সফটওয়্যারের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব।
তবে ভুলভাবে সেটিংস পরিবর্তন করলে গ্রাফিকস কার্ডের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, সিস্টেম অস্থিতিশীল হওয়া কিংবা গেম ক্র্যাশ করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ পদ্ধতি ব্যবহারের আগে নিজের জিপিইউর সক্ষমতা, তাপমাত্রা ও পাওয়ার লিমিট সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
যাঁরা নতুন, তাঁদের জন্য প্রথমে গ্রাফিকস সেটিংস ঠিক করা, ড্রাইভার হালনাগাদ রাখা এবং কম্পিউটার পরিষ্কার করার মতো পদ্ধতি অনুসরণ করাই ভালো।
নতুন জিপিইউ কেনার আগে যা করবেন
গেমের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য শুরুতেই নতুন গ্রাফিকস কার্ড কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে বর্তমান হার্ডওয়্যারের সেটিংস ও অবস্থা পরীক্ষা করা যেতে পারে। উপযুক্ত আপস্কেলিং প্রযুক্তি ব্যবহার, গ্রাফিকসের কিছু সেটিংস কমানো, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ড্রাইভার হালনাগাদ রাখার মাধ্যমে উন্নতি পাওয়া সম্ভব।
তবে এসব পরিবর্তনের ফলাফল নির্ভর করবে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, গেমের চাহিদা এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তির ওপর।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কম্পিউটারে গেম খেলার সময় ফ্রেম রেট কমে যাওয়া, গেম আটকে যাওয়া কিংবা মসৃণভাবে না চলার সমস্যা অনেকেরই পরিচিত। বিশেষ করে আধুনিক গেমে উন্নত গ্রাফিকস ও রে ট্রেসিংয়ের ব্যবহার বাড়ায় পুরোনো গ্রাফিকস কার্ডে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া কঠিন হতে পারে।
তবে এ ধরনের সমস্যার সমাধানে সব সময় নতুন গ্রাফিকস কার্ড কেনার প্রয়োজন হয় না। গেমের গ্রাফিকস সেটিংস পরিবর্তন, ড্রাইভার হালনাগাদ এবং কম্পিউটারের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বর্তমান জিপিইউর কার্যক্ষমতা থেকে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে গ্রাফিকস কার্ডের পারফরম্যান্স বাড়ানোর কয়েকটি কৌশল তুলে ধরা হয়েছে।
১. এফএসআর, ডিএলএসএস ও এক্সইএসএস কাজে লাগান
গেমের দৃশ্যমান মান ধরে রেখে ফ্রেম রেট বাড়াতে এএমডির এফএসআর, এনভিডিয়ার ডিএলএসএস এবং ইন্টেলের এক্সইএসএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব প্রযুক্তিতে গেম তুলনামূলক কম রেজল্যুশনে রেন্ডার করার পর উন্নত ইমেজ প্রসেসিং বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ছবির রেজল্যুশন বাড়ানো হয়। এতে জিপিইউর কাজের চাপ কমতে পারে এবং গেমের গতি বাড়তে পারে।
ফ্রেম জেনারেশন প্রযুক্তিও অতিরিক্ত ফ্রেম তৈরি করে প্রদর্শিত ফ্রেমের সংখ্যা বাড়াতে পারে। তবে সব গেম ও গ্রাফিকস কার্ডে এ সুবিধা পাওয়া যায় না। কিছু ক্ষেত্রে এতে ইনপুট ল্যাগ বা ছবিতে দৃশ্যমান ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই নিজের হার্ডওয়্যার ও গেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ফিচার ব্যবহার করা উচিত।
২. গ্রাফিকসের মান প্রয়োজন অনুযায়ী কমান
গেমে ফ্রেম রেট কমে গেলে প্রথমেই গ্রাফিকস সেটিংস পর্যালোচনা করা দরকার। আল্ট্রা প্রিসেটের পরিবর্তে ব্যালান্সড বা পারফরম্যান্স মোড বেছে নিলে জিপিইউর ওপর চাপ কমতে পারে। পুরোনো বা তুলনামূলক কম ক্ষমতার গ্রাফিকস কার্ডে এ পরিবর্তন বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
এ ছাড়া অ্যাম্বিয়েন্ট অক্লুশন, স্ক্রিন স্পেস রিফ্লেকশনসহ উন্নত ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মাত্রা কমানো যায়। এতে গ্রাফিকসের সৌন্দর্যে কিছুটা পরিবর্তন এলেও গেম তুলনামূলক মসৃণভাবে চলতে পারে।
রে ট্রেসিংয়ের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। এই প্রযুক্তি আলো, ছায়া ও প্রতিফলনকে বাস্তবসম্মত করে তুললেও জিপিইউর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। পুরোনো বা কম ক্ষমতার গ্রাফিকস কার্ডে রে ট্রেসিং বন্ধ রাখলে ফ্রেম রেট বাড়তে পারে।
৩. জিপিইউর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
গ্রাফিকস কার্ড অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে এর কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফ্যান ও কুলিং সিস্টেমে ধুলা জমে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত তাপ থেকে যন্ত্রাংশকে সুরক্ষিত রাখতে জিপিইউ নিজেই কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় থার্মাল থ্রটলিং।
সমস্যা এড়াতে কম্পিউটারের ভেতরের ধুলা নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এ কাজের আগে কম্পিউটার বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এরপর উপযুক্ত কম্প্রেসড এয়ার ব্যবহার করে ফ্যান ও আশপাশের ধুলা সরানো যায়। পরিষ্কারের সময় ফ্যান বা অন্য যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়।
৪. ড্রাইভার আপডেট করুন, বন্ধ রাখুন অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ
গ্রাফিকস কার্ডের ড্রাইভার হালনাগাদ থাকলে নতুন গেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও পারফরম্যান্স উন্নত হতে পারে। এজন্য জিপিইউ প্রস্তুতকারকের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট কিংবা নির্ধারিত সফটওয়্যার থেকে উপযুক্ত ড্রাইভার ইনস্টল করা উচিত।
পাশাপাশি গেম খেলার সময় প্রয়োজন নেই এমন ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ রাখা যেতে পারে। এতে কম্পিউটারের সিস্টেম রিসোর্স অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ বাড়ে। বিশেষ করে কম র্যাম বা তুলনামূলক দুর্বল প্রসেসরের কম্পিউটারে এ অভ্যাস উপকারী হতে পারে।
৫. ওভারক্লকিংয়ের আগে সতর্ক থাকুন
জিপিইউর নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্লক স্পিড বাড়িয়ে অতিরিক্ত পারফরম্যান্স পাওয়ার পদ্ধতিকে ওভারক্লকিং বলা হয়। এমএসআই আফটারবার্নারের মতো সফটওয়্যারের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব।
তবে ভুলভাবে সেটিংস পরিবর্তন করলে গ্রাফিকস কার্ডের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, সিস্টেম অস্থিতিশীল হওয়া কিংবা গেম ক্র্যাশ করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ পদ্ধতি ব্যবহারের আগে নিজের জিপিইউর সক্ষমতা, তাপমাত্রা ও পাওয়ার লিমিট সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
যাঁরা নতুন, তাঁদের জন্য প্রথমে গ্রাফিকস সেটিংস ঠিক করা, ড্রাইভার হালনাগাদ রাখা এবং কম্পিউটার পরিষ্কার করার মতো পদ্ধতি অনুসরণ করাই ভালো।
নতুন জিপিইউ কেনার আগে যা করবেন
গেমের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য শুরুতেই নতুন গ্রাফিকস কার্ড কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে বর্তমান হার্ডওয়্যারের সেটিংস ও অবস্থা পরীক্ষা করা যেতে পারে। উপযুক্ত আপস্কেলিং প্রযুক্তি ব্যবহার, গ্রাফিকসের কিছু সেটিংস কমানো, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ড্রাইভার হালনাগাদ রাখার মাধ্যমে উন্নতি পাওয়া সম্ভব।
তবে এসব পরিবর্তনের ফলাফল নির্ভর করবে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, গেমের চাহিদা এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তির ওপর।

আপনার মতামত লিখুন