আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় এনে মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
আগামী ৭ নভেম্বর শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে তৃণমূলের এই বিশাল বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় খরচে রাজধানীতে জড়ো করা এবং তাদের ‘আইনি ক্ষমতা’ বাড়ানোর উদ্যোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এই মহাসমাবেশের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইতিহাসে এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে গ্রাম পুলিশদের জন্য এমন বড় আয়োজন করা হচ্ছে। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও আইনি ক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঠিক আগে গ্রাম পুলিশের মতো তৃণমূল পর্যায়ের একটি বাহিনীকে এভাবে ‘তুষ্ট’ করার চেষ্টা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। সাধারণত নির্বাচনের সময় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণাটি এমন সময়ে আসছে, যখন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ভোটের প্রস্তুতি চলছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘একদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাম পুলিশের মতো বাহিনীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি করা হচ্ছে, এটি মাঠ পর্যায়ে একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা বাড়ানো বা তাদের কথা শোনার জন্য এই বিশাল জনসমাগমের চেয়ে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই শ্রেয় ছিল। কয়েকশ’ কিলোমিটার দূর থেকে ৪৭ হাজার মানুষকে ঢাকায় আনার এই রাজকীয় আয়োজনে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, যাকে অনেকে ‘রাজনৈতিক শো-ডাউন’ হিসেবে দেখছেন।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থার চেয়ে প্রচারণানির্ভর কর্মকাণ্ডে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বুধবার থেকে ম্যাসিভ (ব্যপক) পরিসরে মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মাইকিং আর স্কাউটদের দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক কীটনাশক ও কারিগরি দক্ষতা, যার অভাব সরকারের প্রস্তুতিতে স্পষ্ট।
প্রস্তুতি সভায় দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ৬৪ জেলার উপ-পরিচালকদের (ডিডিএলজি) উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলেও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ে মহাসমাবেশ সফল করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে এই মহাসমাবেশ সরকারের রাজনৈতিক ভিত মজবুত করার কৌশল কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় এনে মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
আগামী ৭ নভেম্বর শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে তৃণমূলের এই বিশাল বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় খরচে রাজধানীতে জড়ো করা এবং তাদের ‘আইনি ক্ষমতা’ বাড়ানোর উদ্যোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এই মহাসমাবেশের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইতিহাসে এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে গ্রাম পুলিশদের জন্য এমন বড় আয়োজন করা হচ্ছে। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও আইনি ক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঠিক আগে গ্রাম পুলিশের মতো তৃণমূল পর্যায়ের একটি বাহিনীকে এভাবে ‘তুষ্ট’ করার চেষ্টা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। সাধারণত নির্বাচনের সময় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণাটি এমন সময়ে আসছে, যখন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ভোটের প্রস্তুতি চলছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘একদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাম পুলিশের মতো বাহিনীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি করা হচ্ছে, এটি মাঠ পর্যায়ে একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা বাড়ানো বা তাদের কথা শোনার জন্য এই বিশাল জনসমাগমের চেয়ে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই শ্রেয় ছিল। কয়েকশ’ কিলোমিটার দূর থেকে ৪৭ হাজার মানুষকে ঢাকায় আনার এই রাজকীয় আয়োজনে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, যাকে অনেকে ‘রাজনৈতিক শো-ডাউন’ হিসেবে দেখছেন।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থার চেয়ে প্রচারণানির্ভর কর্মকাণ্ডে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বুধবার থেকে ম্যাসিভ (ব্যপক) পরিসরে মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মাইকিং আর স্কাউটদের দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক কীটনাশক ও কারিগরি দক্ষতা, যার অভাব সরকারের প্রস্তুতিতে স্পষ্ট।
প্রস্তুতি সভায় দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ৬৪ জেলার উপ-পরিচালকদের (ডিডিএলজি) উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলেও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ে মহাসমাবেশ সফল করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে এই মহাসমাবেশ সরকারের রাজনৈতিক ভিত মজবুত করার কৌশল কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন