সংবাদ

বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
ছবি : প্রতীকী

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চরম নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে।

দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর দুদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর সেখানে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও রিয়াদ নিরাপদ শহর হিসেবে ভাবমূর্তি বজায় রাখলেও এখন বিমানবন্দরে ওমরাহ যাত্রীদের হুড়োহুড়ি, ধুলোবালি আর ছাদ ভেঙে পড়ার চিত্র সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ধারণাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

বিস্ফোরণ ও হামলায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাত বছরের বেশি সময় ধরে রিয়াদে বসবাসকারী ৩৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ধর্মীয় সফরে গিয়ে তীর্থযাত্রীদের কখনোই প্রাণহানির আশঙ্কায় থাকতে হওয়া উচিত নয়। হুথিরা কোনোভাবেই এই হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারবে না। সাধারণ মানুষের ওপর হামলার কোনো অজুহাত নেই। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অতীতে যুদ্ধে যা-ই করে থাকুক, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সমর্থনযোগ্য নয়।"

তিনি আরও যোগ করেন, "যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। আমি ও আমার পরিবার এখানে জীবন গড়ে তুলেছি। কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এবং হামলা ঘন ঘন ঘটতে থাকলে পরিবারকে দেশে পাঠানোর কথা ভাববো কি না? অবশ্যই ভাববো।"

অন্যদিকে, রিয়াদে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত আরেক ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ বিমানবন্দরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি তার পারিবারিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বলেন, "আমার সন্তানরাও এসব ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে তারা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কিছু বিদেশির দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর তাদের বোঝানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।" তিনি অত্যন্ত হতাশার সুর মিলিয়ে সংক্ষেপে যোগ করে বলেন, "রিয়াদ আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না।"

হুথিদের এই হামলা কেবল প্রবাসীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেনি, বরং সৌদি আরবের ভিশন ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনিয়োগের ভাবমূর্তির সামনেও বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। রিয়াদের জ্বালানি সম্মেলনে বিদেশি প্রতিনিধিদের কম উপস্থিতি এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোহিত সাগরের বিকল্প পথ ও হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়েও উপসাগরীয় অঞ্চলে হতাশা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসাগরীয় বিশ্লেষক ওয়াশিংটনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন অস্ত্র কিনতে এবং ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলেছে। কিন্তু যখন হুমকি বাস্তবে দেখা দেয়, তখন সেটিকে সৌদি আরবের নিজের সামলে নেওয়ার বিষয় বলে উড়িয়ে দিলে ওই অংশীদারত্বের প্রকৃত মূল্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।"

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তাপ এখন রিয়াদের সাধারণ নাগরিক, প্রবাসী কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চরম নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে।

দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর দুদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর সেখানে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও রিয়াদ নিরাপদ শহর হিসেবে ভাবমূর্তি বজায় রাখলেও এখন বিমানবন্দরে ওমরাহ যাত্রীদের হুড়োহুড়ি, ধুলোবালি আর ছাদ ভেঙে পড়ার চিত্র সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ধারণাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

বিস্ফোরণ ও হামলায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাত বছরের বেশি সময় ধরে রিয়াদে বসবাসকারী ৩৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ধর্মীয় সফরে গিয়ে তীর্থযাত্রীদের কখনোই প্রাণহানির আশঙ্কায় থাকতে হওয়া উচিত নয়। হুথিরা কোনোভাবেই এই হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারবে না। সাধারণ মানুষের ওপর হামলার কোনো অজুহাত নেই। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অতীতে যুদ্ধে যা-ই করে থাকুক, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সমর্থনযোগ্য নয়।"

তিনি আরও যোগ করেন, "যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। আমি ও আমার পরিবার এখানে জীবন গড়ে তুলেছি। কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এবং হামলা ঘন ঘন ঘটতে থাকলে পরিবারকে দেশে পাঠানোর কথা ভাববো কি না? অবশ্যই ভাববো।"

অন্যদিকে, রিয়াদে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত আরেক ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ বিমানবন্দরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি তার পারিবারিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বলেন, "আমার সন্তানরাও এসব ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে তারা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কিছু বিদেশির দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর তাদের বোঝানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।" তিনি অত্যন্ত হতাশার সুর মিলিয়ে সংক্ষেপে যোগ করে বলেন, "রিয়াদ আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না।"

হুথিদের এই হামলা কেবল প্রবাসীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেনি, বরং সৌদি আরবের ভিশন ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনিয়োগের ভাবমূর্তির সামনেও বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। রিয়াদের জ্বালানি সম্মেলনে বিদেশি প্রতিনিধিদের কম উপস্থিতি এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোহিত সাগরের বিকল্প পথ ও হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়েও উপসাগরীয় অঞ্চলে হতাশা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপসাগরীয় বিশ্লেষক ওয়াশিংটনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন অস্ত্র কিনতে এবং ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলেছে। কিন্তু যখন হুমকি বাস্তবে দেখা দেয়, তখন সেটিকে সৌদি আরবের নিজের সামলে নেওয়ার বিষয় বলে উড়িয়ে দিলে ওই অংশীদারত্বের প্রকৃত মূল্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।"

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তাপ এখন রিয়াদের সাধারণ নাগরিক, প্রবাসী কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত