ভারতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের সুর বাজতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর একটি সাম্প্রতিক পোস্টকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
জন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে গিয়ে সিজেপির শীর্ষ দুই নেতা সৌরভ দাশ ও অভিষেক রাঙ্কা গ্রেফতার হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাহুল গান্ধী। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কঠোর সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এজন্য তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষতার কাজ।"
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, "শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক ও ইন্ডিয়া জোট—সবার ব্যানার আলাদা হতে পারে, কিন্তু দাবি এক। সবাই সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন।" জন্তর মন্তর সাধারণ মানুষের জায়গা উল্লেখ করে তা পুনরায় জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর এই সাহসী অবস্থানের পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কারাবন্দী নেতাদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় রাহুলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা ভোটার তালিকার অনিয়ম নিয়ে দুই দল পৃথক কর্মসূচি পালন করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, "আর আলাদা কোনো আন্দোলন নয়। আন্দোলন একটাই, আর তার লক্ষ্য ভারতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।" রাহুলের এই আহ্বানের পর থেকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে নতুন মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
শুধু রাহুল গান্ধীই নন, সিজেপি নেতাদের এই অন্যায় গ্রেফতারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন 'ইন্ডিয়া' জোটের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারাও। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নিজের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে ভারতীয়দের গ্রেফতার করা হচ্ছে।"
অন্যদিকে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই গ্রেফতারের নিন্দা জানান। তাঁর মতে, জন্তর মন্তর সাধারণ জনগণের ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং এটি দিল্লির সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল। সরকার এটিকে বিক্ষোভের স্থান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বিরোধী নেতারা যেকোনো মূল্যে তা আবার আন্দোলনকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার সর্বাত্মক দাবি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, জাতীয় স্বার্থে যৌথ প্রতিবাদের যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতির চলমান প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক মোড় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের সুর বাজতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর একটি সাম্প্রতিক পোস্টকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
জন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে গিয়ে সিজেপির শীর্ষ দুই নেতা সৌরভ দাশ ও অভিষেক রাঙ্কা গ্রেফতার হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাহুল গান্ধী। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কঠোর সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এজন্য তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষতার কাজ।"
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, "শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক ও ইন্ডিয়া জোট—সবার ব্যানার আলাদা হতে পারে, কিন্তু দাবি এক। সবাই সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন।" জন্তর মন্তর সাধারণ মানুষের জায়গা উল্লেখ করে তা পুনরায় জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর এই সাহসী অবস্থানের পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কারাবন্দী নেতাদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় রাহুলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা ভোটার তালিকার অনিয়ম নিয়ে দুই দল পৃথক কর্মসূচি পালন করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, "আর আলাদা কোনো আন্দোলন নয়। আন্দোলন একটাই, আর তার লক্ষ্য ভারতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।" রাহুলের এই আহ্বানের পর থেকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে নতুন মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
শুধু রাহুল গান্ধীই নন, সিজেপি নেতাদের এই অন্যায় গ্রেফতারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন 'ইন্ডিয়া' জোটের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারাও। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নিজের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে ভারতীয়দের গ্রেফতার করা হচ্ছে।"
অন্যদিকে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই গ্রেফতারের নিন্দা জানান। তাঁর মতে, জন্তর মন্তর সাধারণ জনগণের ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং এটি দিল্লির সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল। সরকার এটিকে বিক্ষোভের স্থান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বিরোধী নেতারা যেকোনো মূল্যে তা আবার আন্দোলনকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার সর্বাত্মক দাবি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, জাতীয় স্বার্থে যৌথ প্রতিবাদের যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতির চলমান প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক মোড় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন