প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় করা সত্ত্বেও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে মারাত্মক হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব।
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি গত বছর সামরিক খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে এবং তাদের হাতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র। তবে এত সামরিক শক্তি থাকার পরও রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব দিক থেকে ইরান, দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের হুথি এবং উত্তর দিক থেকে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ত্রিমুখী ঝুঁকির কারণে দেশটির বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চরম চাপে ফেলতে হুথিরা এখন একসঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহারের অভিনব কৌশল নিয়েছে। তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া এসব ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাডারে শনাক্ত করা খুবই কঠিন।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলি জানিয়েছেন যে হুথিরা ইরানের তৈরি প্রযুক্তির সহায়তায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে।
এদিকে, লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার হুমকির পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। রিয়াদে বসবাসরত এক প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে হামলার আগের দিনগুলোতে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা না পাওয়ায় তারা মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং বিমানবন্দরের ওপর হামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ নীরবতা জনমনে চরম হতাশার সৃষ্টি করেছে।
বিমানবন্দরে ভয়াবহ এই হামলার পর একদিকে হুতিদের সঙ্গে সমঝোতার রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে পাল্টা সামরিক হামলা জোরালো করার তীব্র চাপও তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনে আরও বেশি বিমান হামলা চালালে সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মেগা বিনিয়োগ ও পর্যটন পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে আন্তর্জাতিক করপোরেশনগুলোর অনীহা এবং অস্ত্রভান্ডারে মজুত কমে যাওয়ার মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এখন আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহায়তা কামনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কূটনীতির টেবিলে ফিরে যাওয়ার পথ বেছে নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে হুথিদের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় করা সত্ত্বেও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে মারাত্মক হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব।
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি গত বছর সামরিক খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে এবং তাদের হাতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র। তবে এত সামরিক শক্তি থাকার পরও রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব দিক থেকে ইরান, দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের হুথি এবং উত্তর দিক থেকে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ত্রিমুখী ঝুঁকির কারণে দেশটির বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চরম চাপে ফেলতে হুথিরা এখন একসঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহারের অভিনব কৌশল নিয়েছে। তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া এসব ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাডারে শনাক্ত করা খুবই কঠিন।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলি জানিয়েছেন যে হুথিরা ইরানের তৈরি প্রযুক্তির সহায়তায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে।
এদিকে, লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার হুমকির পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। রিয়াদে বসবাসরত এক প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে হামলার আগের দিনগুলোতে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা না পাওয়ায় তারা মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং বিমানবন্দরের ওপর হামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ নীরবতা জনমনে চরম হতাশার সৃষ্টি করেছে।
বিমানবন্দরে ভয়াবহ এই হামলার পর একদিকে হুতিদের সঙ্গে সমঝোতার রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে পাল্টা সামরিক হামলা জোরালো করার তীব্র চাপও তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনে আরও বেশি বিমান হামলা চালালে সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মেগা বিনিয়োগ ও পর্যটন পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে আন্তর্জাতিক করপোরেশনগুলোর অনীহা এবং অস্ত্রভান্ডারে মজুত কমে যাওয়ার মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এখন আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহায়তা কামনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কূটনীতির টেবিলে ফিরে যাওয়ার পথ বেছে নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে হুথিদের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন