সংবাদ

অনূদিত কবিতা

অ্যান কারসন-এর কবিতা


অনুবাদ: শাহেদ কায়েস
অনুবাদ: শাহেদ কায়েস
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

অ্যান কারসন-এর কবিতা
অ্যান কারসন

প্রেমের ছোট্ট বিষণ্ন উচ্ছ্বাস 

চোখ বুজে রাতভর তোমাকে পেতে চাই

কী ভাগ্য আমার আজ, তুমি এলে কাছে!

তারাদের পথ ধরে এসেছ যে তুমি

মনের সমস্ত পথে ঘুরেছি একাকী।


হৃদয়ের পথে পথে করেছি ভ্রমণ

পথের কিনারে তুমি হাঁটু গেড়ে বসে...

তোমার যন্ত্রের বাক্স রেখেছ পাশেই

কিছু একটা সারাচ্ছিলে নিজেরই মনে।

আমাকে নতুন বিশ্ব দাও তুমি আবার

নিজেই ছিলাম বিশ্ব, কেড়ে নিলে তুমি।

[২০২০ সালে অ্যাকাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটসের ‘Poem-a-Day’ আয়োজনে প্রকাশিত হয়]



পিছু হাঁটা নিয়ে দু-চার কথা

মা আমাদের পেছন দিকে হাঁটতে বারণ করতেন। বলতেন, মৃতেরা এভাবেই হাঁটে। এমন ধারণা তিনি কোথায় পেয়েছিলেন? হয়তো কোনো ভুল অনুবাদ থেকে।

মৃতেরা তো পেছন দিকে হাঁটে না, তারা হাঁটে আমাদের পেছনে। তাদের ফুসফুস নেই, ডাকতে পারে না, তবু খুব চায় আমরা যেন ফিরে তাকাই। তাদের অনেকেই ভালোবাসার শিকার।

[গ্রন্থ : ‘শর্ট টকস’, ১৯৯২]



নতুন নিয়ম


নববর্ষের সাদা সকাল, সদ্য জমা শক্ত বরফ।

জমাট ডালের অনেক ওপরে একটি কাঠবিড়ালি

দেখলাম লাফ দিয়ে পিছলে গেল।

‘ভয় লাগে?’ যেন বলল সে, আর চোখ তুলে তাকাল

নিচে, আমার দিকে, আঁকড়ে রইল তার ডাল

যা শক্ত হয়ে ফিরে আসার ধাক্কায় দুলছিল,

নাকি আজ সবকিছুর শব্দই কেমন বেমানান লাগছে?

ডালগুলো—

ঠোকাঠুকিতে টুং করে উঠল।

এক হাতে সে মুছল তার ছোট্ট ঠাণ্ডা ঠোঁট।

আমার যেসব জিনিসে ভয়,
তোমারও কি সেসবেই ভয়?

পাল্টা জিজ্ঞেস করলাম,

ওপরে তাকিয়ে।

তার ডালপালার সাম্রাজ্য বাতাস ঘেঁষে সরে গেল।

বড়শির রাত?

সিঁড়িতে খোলা পড়ে থাকা পুরুষের ফলাটি?

এতে যথেষ্ট ঘূর্ণি নেই, বলেছিল—

আমার সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষ

আমাদের সম্পর্কের পঞ্চম বছরে চলে যাওয়ার সময়

কাঠবিড়ালিটি লাফিয়ে নামল একটি ডাল বেয়ে,

আঁকড়ে ধরল অশ্রুর একটি খুঁটি।

কীভাবে আঁকড়ে থাকতে হয়

শেষের কথায় তা এত স্পষ্ট!

[গ্রন্থ: মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স, ২০০০]



ধর্মদূতদের নগর


তোমার মৃত্যুর পর

প্রতিদিন বাতাস বইত।

প্রতিদিন—

দেয়াল হয়ে দাঁড়াত আমাদের সামনে

হেঁটে যেতাম আমরা;

পাশ ফিরে চিৎকার করে কথা বলতাম।

পথ ধরে আরও দূরে...

কিছুই কাজে আসত না।

আমাদের মাঝের ফাঁকগুলো

কঠিন হয়ে উঠত।

শূন্য সেই ফাঁকগুলো,

তবু তারা জমাট—

কালো আর বেদনায় ভরা

এক বৃদ্ধার দাঁতের ফাঁকের মতো।

বহু বছর আগে তুমি তাকে চিনতে,

যখন সে ছিল সুন্দরী,

তার ভেতর স্নায়ুর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ত

প্রাসাদে ছড়ানো আগুনের মতো।

[গ্রন্থ— প্লেইন ওয়াটার: এসেজ অ্যান্ড পোয়েট্রি, ১৯৯৫]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


অ্যান কারসন-এর কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রেমের ছোট্ট বিষণ্ন উচ্ছ্বাস 

চোখ বুজে রাতভর তোমাকে পেতে চাই

কী ভাগ্য আমার আজ, তুমি এলে কাছে!

তারাদের পথ ধরে এসেছ যে তুমি

মনের সমস্ত পথে ঘুরেছি একাকী।


হৃদয়ের পথে পথে করেছি ভ্রমণ

পথের কিনারে তুমি হাঁটু গেড়ে বসে...

তোমার যন্ত্রের বাক্স রেখেছ পাশেই

কিছু একটা সারাচ্ছিলে নিজেরই মনে।


আমাকে নতুন বিশ্ব দাও তুমি আবার

নিজেই ছিলাম বিশ্ব, কেড়ে নিলে তুমি।

[২০২০ সালে অ্যাকাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটসের ‘Poem-a-Day’ আয়োজনে প্রকাশিত হয়]



পিছু হাঁটা নিয়ে দু-চার কথা

মা আমাদের পেছন দিকে হাঁটতে বারণ করতেন। বলতেন, মৃতেরা এভাবেই হাঁটে। এমন ধারণা তিনি কোথায় পেয়েছিলেন? হয়তো কোনো ভুল অনুবাদ থেকে।

মৃতেরা তো পেছন দিকে হাঁটে না, তারা হাঁটে আমাদের পেছনে। তাদের ফুসফুস নেই, ডাকতে পারে না, তবু খুব চায় আমরা যেন ফিরে তাকাই। তাদের অনেকেই ভালোবাসার শিকার।

[গ্রন্থ : ‘শর্ট টকস’, ১৯৯২]



নতুন নিয়ম


নববর্ষের সাদা সকাল, সদ্য জমা শক্ত বরফ।

জমাট ডালের অনেক ওপরে একটি কাঠবিড়ালি

দেখলাম লাফ দিয়ে পিছলে গেল।

‘ভয় লাগে?’ যেন বলল সে, আর চোখ তুলে তাকাল

নিচে, আমার দিকে, আঁকড়ে রইল তার ডাল

যা শক্ত হয়ে ফিরে আসার ধাক্কায় দুলছিল,

নাকি আজ সবকিছুর শব্দই কেমন বেমানান লাগছে?


ডালগুলো—

ঠোকাঠুকিতে টুং করে উঠল।

এক হাতে সে মুছল তার ছোট্ট ঠাণ্ডা ঠোঁট।

আমার যেসব জিনিসে ভয়,
তোমারও কি সেসবেই ভয়?

পাল্টা জিজ্ঞেস করলাম,

ওপরে তাকিয়ে।


তার ডালপালার সাম্রাজ্য বাতাস ঘেঁষে সরে গেল।

বড়শির রাত?

সিঁড়িতে খোলা পড়ে থাকা পুরুষের ফলাটি?

এতে যথেষ্ট ঘূর্ণি নেই, বলেছিল—

আমার সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষ


আমাদের সম্পর্কের পঞ্চম বছরে চলে যাওয়ার সময়

কাঠবিড়ালিটি লাফিয়ে নামল একটি ডাল বেয়ে,

আঁকড়ে ধরল অশ্রুর একটি খুঁটি।

কীভাবে আঁকড়ে থাকতে হয়

শেষের কথায় তা এত স্পষ্ট!

[গ্রন্থ: মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স, ২০০০]



ধর্মদূতদের নগর


তোমার মৃত্যুর পর

প্রতিদিন বাতাস বইত।

প্রতিদিন—

দেয়াল হয়ে দাঁড়াত আমাদের সামনে

হেঁটে যেতাম আমরা;

পাশ ফিরে চিৎকার করে কথা বলতাম।


পথ ধরে আরও দূরে...

কিছুই কাজে আসত না।

আমাদের মাঝের ফাঁকগুলো

কঠিন হয়ে উঠত।

শূন্য সেই ফাঁকগুলো,

তবু তারা জমাট—

কালো আর বেদনায় ভরা

এক বৃদ্ধার দাঁতের ফাঁকের মতো।

বহু বছর আগে তুমি তাকে চিনতে,

যখন সে ছিল সুন্দরী,

তার ভেতর স্নায়ুর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ত

প্রাসাদে ছড়ানো আগুনের মতো।

[গ্রন্থ— প্লেইন ওয়াটার: এসেজ অ্যান্ড পোয়েট্রি, ১৯৯৫]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত