সংবাদ

ক্রোম ব্যবহারকারীদের জন্য গোপনীয়তা রক্ষার ৭ পরামর্শ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

ক্রোম ব্যবহারকারীদের জন্য গোপনীয়তা রক্ষার ৭ পরামর্শ

ওয়েবসাইটে প্রবেশ, অনলাইনে তথ্য খোঁজা কিংবা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে লগইন করার সময় ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। অনিরাপদ ওয়েবসাইট, ক্ষতিকর ডাউনলোড এবং দুর্বল পাসওয়ার্ড থেকেও তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি হয়।

গুগল ক্রোমে এমন কিছু সেটিংস রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে ব্রাউজিংয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কিছু দিক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।

১. থার্ড-পার্টি কুকিজ নিয়ন্ত্রণ করুন

বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে কুকিজ ব্যবহার করে। থার্ড-পার্টি কুকিজ একাধিক ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অনুসরণ করতেও ব্যবহৃত হতে পারে।

এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ক্রোমের ওপরের ডান পাশের তিন ডট মেনু থেকে সেটিংস, এরপর প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে যান। সেখানে থার্ড-পার্টি কুকিজের অপশন থেকে ব্লক করার সুবিধা থাকলে সেটি চালু করতে পারেন।

তবে কুকিজ ব্লক করলে কিছু ওয়েবসাইটে লগইন, পছন্দ সংরক্ষণ কিংবা অন্যান্য সুবিধা ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। ব্রাউজারের সংস্করণ অনুযায়ী সেটিংসের নাম ও অবস্থানেও পার্থক্য থাকতে পারে।

২. ‘ডু নট ট্র্যাক’ সুবিধার সীমাবদ্ধতা বুঝুন

ক্রোমের কিছু সংস্করণে ‘ডু নট ট্র্যাক’ সুবিধা রয়েছে। এটি চালু করলে ওয়েবসাইটকে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অনুসরণ না করার অনুরোধ পাঠানো হয়।

তবে এই অনুরোধ মানতে ওয়েবসাইট বাধ্য নয়। ফলে শুধু ‘ডু নট ট্র্যাক’ চালু রাখলেই অনলাইন কার্যক্রম পুরোপুরি গোপন থাকবে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

৩. গুগল অ্যাকাউন্টে তথ্য সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করুন

ক্রোমে গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করা থাকলে সার্চ, অ্যাপ ব্যবহার এবং অন্যান্য কার্যক্রমের কিছু তথ্য অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হতে পারে।

এগুলো পর্যালোচনা করতে গুগল অ্যাকাউন্টের ‘ম্যানেজ ইউর গুগল অ্যাকাউন্ট’ বিভাগে গিয়ে ‘ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি’ অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ সেটিংস দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী এটি বন্ধ করতে পারেন।

এতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তথ্য অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হওয়ার পরিমাণ কমতে পারে। তবে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

৪. নিয়মিত সেফটি চেক চালান

ক্রোমের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাই করতে তিন ডট মেনু থেকে সেটিংস, এরপর প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে গিয়ে ‘সেফটি চেক’ চালাতে পারেন।

এ সুবিধা ব্যবহার করে কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করা যায়:

·         ব্রাউজার আপডেট করা প্রয়োজন কি না

·         সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড নিয়ে কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা রয়েছে কি না

·         ঝুঁকিপূর্ণ এক্সটেনশন সম্পর্কে সতর্কবার্তা আছে কি না

·         নিরাপত্তার জন্য আরও কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না

নিয়মিত এই পরীক্ষা চালালে ব্রাউজারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক হওয়া সহজ হয়।

৫. সেফ ব্রাউজিংয়ের উন্নত সুরক্ষা ব্যবহার করুন

ক্রোমের সেটিংসে ‘সেফ ব্রাউজিং’ বিভাগে ওয়েবসাইট, ডাউনলোড ও এক্সটেনশন থেকে আসা ঝুঁকি শনাক্ত করার সুবিধা রয়েছে। এখানে সাধারণ সুরক্ষার পাশাপাশি ‘ইনহ্যান্সড প্রটেকশন’ চালু করার সুযোগও থাকতে পারে।

উন্নত সুরক্ষা ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও অন্যান্য অনলাইন হুমকি শনাক্ত করতে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে পারে। তবে এটি ব্যবহার করলে গুগলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু তথ্য আদান-প্রদান হতে পারে। তাই নিরাপত্তার সুবিধা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

৬. নিরাপদ সংযোগ ব্যবহারের সেটিংস চালু রাখুন

ক্রোমের ‘অলওয়েজ ইউজ সিকিউর কানেকশনস’ সেটিংস চালু করলে এইচটিটিপিএস সংযোগ সমর্থন করে না, এমন ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় সতর্কবার্তা পাওয়া যেতে পারে।

এইচটিটিপিএস সংযোগে ব্রাউজার ও ওয়েবসাইটের মধ্যে আদান-প্রদান করা তথ্য এনক্রিপ্ট করা থাকে। তবে কোনো ওয়েবসাইটে এইচটিটিপিএস থাকলেই সেটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বা বিশ্বাসযোগ্য, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৭. ব্রাউজার, অপারেটিং সিস্টেম ও পাসওয়ার্ড আপডেট করুন

অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে শুধু ক্রোম নয়, ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমও নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন। এতে পরিচিত নিরাপত্তা দুর্বলতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার না করে প্রতিটির জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখা ভালো। যেখানে সুবিধা রয়েছে, সেখানে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু সেটিংস পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়

ক্রোমের নিরাপত্তা সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীর অনলাইন সুরক্ষা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় কোন তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, কোন অ্যাপ বা এক্সটেনশনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে, সেসব বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ক্রোম ব্যবহারকারীদের জন্য গোপনীয়তা রক্ষার ৭ পরামর্শ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ওয়েবসাইটে প্রবেশ, অনলাইনে তথ্য খোঁজা কিংবা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে লগইন করার সময় ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। অনিরাপদ ওয়েবসাইট, ক্ষতিকর ডাউনলোড এবং দুর্বল পাসওয়ার্ড থেকেও তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি হয়।

গুগল ক্রোমে এমন কিছু সেটিংস রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে ব্রাউজিংয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কিছু দিক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।

১. থার্ড-পার্টি কুকিজ নিয়ন্ত্রণ করুন

বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে কুকিজ ব্যবহার করে। থার্ড-পার্টি কুকিজ একাধিক ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অনুসরণ করতেও ব্যবহৃত হতে পারে।

এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ক্রোমের ওপরের ডান পাশের তিন ডট মেনু থেকে সেটিংস, এরপর প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে যান। সেখানে থার্ড-পার্টি কুকিজের অপশন থেকে ব্লক করার সুবিধা থাকলে সেটি চালু করতে পারেন।

তবে কুকিজ ব্লক করলে কিছু ওয়েবসাইটে লগইন, পছন্দ সংরক্ষণ কিংবা অন্যান্য সুবিধা ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। ব্রাউজারের সংস্করণ অনুযায়ী সেটিংসের নাম ও অবস্থানেও পার্থক্য থাকতে পারে।

২. ‘ডু নট ট্র্যাক’ সুবিধার সীমাবদ্ধতা বুঝুন

ক্রোমের কিছু সংস্করণে ‘ডু নট ট্র্যাক’ সুবিধা রয়েছে। এটি চালু করলে ওয়েবসাইটকে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অনুসরণ না করার অনুরোধ পাঠানো হয়।

তবে এই অনুরোধ মানতে ওয়েবসাইট বাধ্য নয়। ফলে শুধু ‘ডু নট ট্র্যাক’ চালু রাখলেই অনলাইন কার্যক্রম পুরোপুরি গোপন থাকবে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

৩. গুগল অ্যাকাউন্টে তথ্য সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করুন

ক্রোমে গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করা থাকলে সার্চ, অ্যাপ ব্যবহার এবং অন্যান্য কার্যক্রমের কিছু তথ্য অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হতে পারে।

এগুলো পর্যালোচনা করতে গুগল অ্যাকাউন্টের ‘ম্যানেজ ইউর গুগল অ্যাকাউন্ট’ বিভাগে গিয়ে ‘ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি’ অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ সেটিংস দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী এটি বন্ধ করতে পারেন।

এতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তথ্য অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হওয়ার পরিমাণ কমতে পারে। তবে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

৪. নিয়মিত সেফটি চেক চালান

ক্রোমের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাই করতে তিন ডট মেনু থেকে সেটিংস, এরপর প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে গিয়ে ‘সেফটি চেক’ চালাতে পারেন।

এ সুবিধা ব্যবহার করে কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করা যায়:

·         ব্রাউজার আপডেট করা প্রয়োজন কি না

·         সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড নিয়ে কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা রয়েছে কি না

·         ঝুঁকিপূর্ণ এক্সটেনশন সম্পর্কে সতর্কবার্তা আছে কি না

·         নিরাপত্তার জন্য আরও কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না

নিয়মিত এই পরীক্ষা চালালে ব্রাউজারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক হওয়া সহজ হয়।

৫. সেফ ব্রাউজিংয়ের উন্নত সুরক্ষা ব্যবহার করুন

ক্রোমের সেটিংসে ‘সেফ ব্রাউজিং’ বিভাগে ওয়েবসাইট, ডাউনলোড ও এক্সটেনশন থেকে আসা ঝুঁকি শনাক্ত করার সুবিধা রয়েছে। এখানে সাধারণ সুরক্ষার পাশাপাশি ‘ইনহ্যান্সড প্রটেকশন’ চালু করার সুযোগও থাকতে পারে।

উন্নত সুরক্ষা ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও অন্যান্য অনলাইন হুমকি শনাক্ত করতে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে পারে। তবে এটি ব্যবহার করলে গুগলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু তথ্য আদান-প্রদান হতে পারে। তাই নিরাপত্তার সুবিধা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

৬. নিরাপদ সংযোগ ব্যবহারের সেটিংস চালু রাখুন

ক্রোমের ‘অলওয়েজ ইউজ সিকিউর কানেকশনস’ সেটিংস চালু করলে এইচটিটিপিএস সংযোগ সমর্থন করে না, এমন ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় সতর্কবার্তা পাওয়া যেতে পারে।

এইচটিটিপিএস সংযোগে ব্রাউজার ও ওয়েবসাইটের মধ্যে আদান-প্রদান করা তথ্য এনক্রিপ্ট করা থাকে। তবে কোনো ওয়েবসাইটে এইচটিটিপিএস থাকলেই সেটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বা বিশ্বাসযোগ্য, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৭. ব্রাউজার, অপারেটিং সিস্টেম ও পাসওয়ার্ড আপডেট করুন

অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে শুধু ক্রোম নয়, ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেমও নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন। এতে পরিচিত নিরাপত্তা দুর্বলতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার না করে প্রতিটির জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখা ভালো। যেখানে সুবিধা রয়েছে, সেখানে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু সেটিংস পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়

ক্রোমের নিরাপত্তা সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীর অনলাইন সুরক্ষা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় কোন তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, কোন অ্যাপ বা এক্সটেনশনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে, সেসব বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত