সংসারের কাজের ব্যস্ততায় নিজের শরীরের দিকে নজর দেওয়ার সময় পান না অনেক নারী। দিনের বড় একটি অংশ রান্না, সবজি কাটা, বাসন পরিষ্কার ও ভারী রান্নার পাত্র সামলাতে কাটে। এসব কাজের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা বারবার ঝুঁকে কাজ করার কারণে হাঁটু, কোমর ও পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
অনেকে এমন ব্যথাকে স্বাভাবিক ক্লান্তি মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু একই সমস্যা নিয়মিত হলে কাজের ধরন ও শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করা প্রয়োজন। রান্নাঘরে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।
এক ভঙ্গিতে কাজ করলে কেন বাড়ে অস্বস্তি
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে পা ও হাঁটুর পেশিতে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সবজি কাটার সময় অতিরিক্ত ঝুঁকে থাকা, সিঙ্কে বাসন ধোয়া কিংবা নিচু জায়গা থেকে পাত্র তোলার কারণে কোমর ও পিঠে চাপ পড়তে পারে। ভারী হাঁড়ি-পাতিল বারবার সরানোর কাজেও পেশিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
যাঁদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ব্যথা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বেড়ে যেতে পারে। বয়স, বংশগত প্রবণতা, আগের জয়েন্টের আঘাত ও অতিরিক্ত ওজনও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিয়মিত ব্যথা হলে সেটিকে শুধু কাজের ক্লান্তি বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
রান্নার ফাঁকে শরীরকে বিশ্রাম দিন
রান্নাঘরের কাজ একটানা না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট কাজের পর কয়েক মিনিট বসে থাকুন কিংবা অবস্থান পরিবর্তন করুন। এতে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকার চাপ কমতে পারে।
কাজের চাপ থাকলেও অল্প সময়ের বিরতি শরীরকে স্বস্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রান্না করার ক্ষেত্রে এই অভ্যাস কাজে আসতে পারে।
সব কাজ দাঁড়িয়ে করার প্রয়োজন নেই
সবজি কাটা ও অন্যান্য ছোটখাটো কাজের কিছু অংশ বসে করা যায়। এ জন্য স্থিতিশীল ও মজবুত টুল ব্যবহার করতে পারেন। বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন এবং কাজের জায়গা এমন উচ্চতায় রাখুন, যাতে ঘাড় ও কোমর বেশি বাঁকাতে না হয়।
কাজের জায়গার উচ্চতা ও বসার ভঙ্গি ঠিক থাকলে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকে থাকার প্রবণতা কমানো সম্ভব।
পায়ের আরাম ও নিরাপত্তায় নজর দিন
রান্নাঘরে দীর্ঘক্ষণ কাজের সময় আরামদায়ক এবং পায়ের জন্য যথাযথ সাপোর্ট দেয় এমন জুতা ব্যবহার করতে পারেন। শক্ত মেঝেতে দীর্ঘ সময় খালি পায়ে দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ের পাতায় অস্বস্তি হতে পারে।
একই সঙ্গে মেঝে পিচ্ছিল কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখুন। রান্নাঘরে চলাফেরার সময় পিছলে পড়ে গেলে হাঁটু বা কোমরে আঘাত লাগতে পারে।
ভারী পাত্র তোলার সময় যে ভুল এড়াবেন
বারবার নিচু হওয়া কিংবা মাথার ওপর হাত তুলে ভারী পাত্র নামানোর প্রয়োজন হলে কোমর ও পিঠে চাপ বাড়তে পারে। তাই বেশি ব্যবহৃত হাঁড়ি-পাতিল হাতের নাগালে রাখুন।
ভারী কিছু তোলার সময় পাত্রটি শরীরের কাছাকাছি ধরে তুলুন। কোমর অতিরিক্ত বাঁকিয়ে বা শরীর মোচড় দিয়ে ওজন তোলা এড়িয়ে চলুন। পাত্র বেশি ভারী হলে একা তোলার পরিবর্তে অন্যের সাহায্য নিন।
হাঁটু ও কোমরের পেশি শক্তিশালী রাখুন
শরীরের পেশি শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, হালকা স্ট্রেচিং এবং উরু, নিতম্ব ও পেটের পেশির উপযোগী ব্যায়াম করা যেতে পারে। এসব পেশি শরীরকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে সাহায্য করে।
তবে আগে থেকেই হাঁটু বা কোমরে ব্যথা থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে কঠিন ব্যায়াম শুরু করবেন না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কোন লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
হাঁটুতে বারবার ব্যথা হওয়া, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, দীর্ঘ সময় শক্তভাব থাকা কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যথা তীব্র হলে, হাঁটু হঠাৎ ফুলে গেলে বা পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
সংসারের কাজ দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও তার জন্য নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন বাদ দেওয়া উচিত নয়। কাজের মধ্যে বিরতি, সঠিক ভঙ্গি, নিরাপদে ভার তোলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস হাঁটু ও কোমরের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সংসারের কাজের ব্যস্ততায় নিজের শরীরের দিকে নজর দেওয়ার সময় পান না অনেক নারী। দিনের বড় একটি অংশ রান্না, সবজি কাটা, বাসন পরিষ্কার ও ভারী রান্নার পাত্র সামলাতে কাটে। এসব কাজের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা বারবার ঝুঁকে কাজ করার কারণে হাঁটু, কোমর ও পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
অনেকে এমন ব্যথাকে স্বাভাবিক ক্লান্তি মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু একই সমস্যা নিয়মিত হলে কাজের ধরন ও শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করা প্রয়োজন। রান্নাঘরে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।
এক ভঙ্গিতে কাজ করলে কেন বাড়ে অস্বস্তি
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে পা ও হাঁটুর পেশিতে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সবজি কাটার সময় অতিরিক্ত ঝুঁকে থাকা, সিঙ্কে বাসন ধোয়া কিংবা নিচু জায়গা থেকে পাত্র তোলার কারণে কোমর ও পিঠে চাপ পড়তে পারে। ভারী হাঁড়ি-পাতিল বারবার সরানোর কাজেও পেশিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
যাঁদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ব্যথা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বেড়ে যেতে পারে। বয়স, বংশগত প্রবণতা, আগের জয়েন্টের আঘাত ও অতিরিক্ত ওজনও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিয়মিত ব্যথা হলে সেটিকে শুধু কাজের ক্লান্তি বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
রান্নার ফাঁকে শরীরকে বিশ্রাম দিন
রান্নাঘরের কাজ একটানা না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট কাজের পর কয়েক মিনিট বসে থাকুন কিংবা অবস্থান পরিবর্তন করুন। এতে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকার চাপ কমতে পারে।
কাজের চাপ থাকলেও অল্প সময়ের বিরতি শরীরকে স্বস্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রান্না করার ক্ষেত্রে এই অভ্যাস কাজে আসতে পারে।
সব কাজ দাঁড়িয়ে করার প্রয়োজন নেই
সবজি কাটা ও অন্যান্য ছোটখাটো কাজের কিছু অংশ বসে করা যায়। এ জন্য স্থিতিশীল ও মজবুত টুল ব্যবহার করতে পারেন। বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন এবং কাজের জায়গা এমন উচ্চতায় রাখুন, যাতে ঘাড় ও কোমর বেশি বাঁকাতে না হয়।
কাজের জায়গার উচ্চতা ও বসার ভঙ্গি ঠিক থাকলে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকে থাকার প্রবণতা কমানো সম্ভব।
পায়ের আরাম ও নিরাপত্তায় নজর দিন
রান্নাঘরে দীর্ঘক্ষণ কাজের সময় আরামদায়ক এবং পায়ের জন্য যথাযথ সাপোর্ট দেয় এমন জুতা ব্যবহার করতে পারেন। শক্ত মেঝেতে দীর্ঘ সময় খালি পায়ে দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ের পাতায় অস্বস্তি হতে পারে।
একই সঙ্গে মেঝে পিচ্ছিল কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখুন। রান্নাঘরে চলাফেরার সময় পিছলে পড়ে গেলে হাঁটু বা কোমরে আঘাত লাগতে পারে।
ভারী পাত্র তোলার সময় যে ভুল এড়াবেন
বারবার নিচু হওয়া কিংবা মাথার ওপর হাত তুলে ভারী পাত্র নামানোর প্রয়োজন হলে কোমর ও পিঠে চাপ বাড়তে পারে। তাই বেশি ব্যবহৃত হাঁড়ি-পাতিল হাতের নাগালে রাখুন।
ভারী কিছু তোলার সময় পাত্রটি শরীরের কাছাকাছি ধরে তুলুন। কোমর অতিরিক্ত বাঁকিয়ে বা শরীর মোচড় দিয়ে ওজন তোলা এড়িয়ে চলুন। পাত্র বেশি ভারী হলে একা তোলার পরিবর্তে অন্যের সাহায্য নিন।
হাঁটু ও কোমরের পেশি শক্তিশালী রাখুন
শরীরের পেশি শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, হালকা স্ট্রেচিং এবং উরু, নিতম্ব ও পেটের পেশির উপযোগী ব্যায়াম করা যেতে পারে। এসব পেশি শরীরকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে সাহায্য করে।
তবে আগে থেকেই হাঁটু বা কোমরে ব্যথা থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে কঠিন ব্যায়াম শুরু করবেন না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কোন লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
হাঁটুতে বারবার ব্যথা হওয়া, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, দীর্ঘ সময় শক্তভাব থাকা কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যথা তীব্র হলে, হাঁটু হঠাৎ ফুলে গেলে বা পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
সংসারের কাজ দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও তার জন্য নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন বাদ দেওয়া উচিত নয়। কাজের মধ্যে বিরতি, সঠিক ভঙ্গি, নিরাপদে ভার তোলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস হাঁটু ও কোমরের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন