সংবাদ

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে যে সতর্কতা জরুরি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে যে সতর্কতা জরুরি

শুষ্ক আবহাওয়া ও শীত মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অসাবধানতা কিংবা সচেতনতার অভাবে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এ পরিস্থিতিতে অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

নিজের পরিবার, বাসস্থান ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা জরুরি। রান্নাঘর থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক সংযোগ, দাহ্যবস্তুর ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি - প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।

অগ্নিকাণ্ড এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সতর্কতা

রান্না শেষ হলে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করতে হবে। চুলা নেভানোর সময় ফুঁ না দিয়ে নব সঠিকভাবে বন্ধ করতে হবে। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ঘরে গ্যাস জমে থাকলে আগুন জ্বালানো বিপজ্জনক হতে পারে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বাসা বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ চালু করা, আগুন জ্বালানো কিংবা দিয়াশলাই ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপদ স্থানে গিয়ে জরুরি সহায়তা নিতে হবে।

বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করুন

বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সংযোগ ও যন্ত্রপাতির অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ত্রুটিপূর্ণ তার ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক সংযোগে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ধূমপান ও খোলা আগুনে সাবধানতা

বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। দাহ্যবস্তু সংরক্ষণের গুদামে খোলা বাতি বা মশার কয়েল ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্য স্থানেও এসব ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না। সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং পরিকল্পনার সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’সহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা জরুরি।

বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখতে হবে। পাশাপাশি এসব যন্ত্র ব্যবহারের নিয়ম জানতে হবে এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার আয়োজন করতে হবে।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাড়তি নজরদারি

হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তার বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি

অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, আগুন নেভানো, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করে রাখা প্রয়োজন। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।

সচেতনতাই সুরক্ষার প্রথম ধাপ

অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি ভবন, বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়ম মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা এবং জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। তাই নিজে সচেতন হোন, নিরাপত্তাবিধি মেনে চলুন এবং অন্যকেও নিরাপদ থাকতে উৎসাহিত করুন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে যে সতর্কতা জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শুষ্ক আবহাওয়া ও শীত মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অসাবধানতা কিংবা সচেতনতার অভাবে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এ পরিস্থিতিতে অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

নিজের পরিবার, বাসস্থান ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা জরুরি। রান্নাঘর থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক সংযোগ, দাহ্যবস্তুর ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি - প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।

অগ্নিকাণ্ড এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সতর্কতা

রান্না শেষ হলে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করতে হবে। চুলা নেভানোর সময় ফুঁ না দিয়ে নব সঠিকভাবে বন্ধ করতে হবে। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ঘরে গ্যাস জমে থাকলে আগুন জ্বালানো বিপজ্জনক হতে পারে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বাসা বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ চালু করা, আগুন জ্বালানো কিংবা দিয়াশলাই ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপদ স্থানে গিয়ে জরুরি সহায়তা নিতে হবে।

বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করুন

বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সংযোগ ও যন্ত্রপাতির অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ত্রুটিপূর্ণ তার ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক সংযোগে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ধূমপান ও খোলা আগুনে সাবধানতা

বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। দাহ্যবস্তু সংরক্ষণের গুদামে খোলা বাতি বা মশার কয়েল ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্য স্থানেও এসব ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না। সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং পরিকল্পনার সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’সহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা জরুরি।

বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখতে হবে। পাশাপাশি এসব যন্ত্র ব্যবহারের নিয়ম জানতে হবে এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার আয়োজন করতে হবে।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাড়তি নজরদারি

হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তার বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি

অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, আগুন নেভানো, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করে রাখা প্রয়োজন। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।

সচেতনতাই সুরক্ষার প্রথম ধাপ

অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি ভবন, বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়ম মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা এবং জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। তাই নিজে সচেতন হোন, নিরাপত্তাবিধি মেনে চলুন এবং অন্যকেও নিরাপদ থাকতে উৎসাহিত করুন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত