সংবাদ

মেগাবন্দরের পথে চট্টগ্রাম বন্দর, বিশাল সৌর প্রকল্প


প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

মেগাবন্দরের পথে চট্টগ্রাম বন্দর, বিশাল সৌর প্রকল্প
পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন পোর্ট’ গড়তে ৮.৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের চুক্তি সই করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ছবি : সংবাদ

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ‘গ্রিন পোর্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় বন্দরের বিভিন্ন ভবন ও শেডের অব্যবহৃত ছাদে ৮.৪২ মেগাওয়াট (পিক) উৎপাদন ক্ষমতার সর্বাধুনিক রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ‘গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভ লিমিটেড’ (জিজিআই)-এর মধ্যে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। অন্যদিকে জিজিআইয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ নূরে আলম।

বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ মেনে বেসরকারি বিনিয়োগে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। অপারেটিং-এক্সপেন্স (OpEx) মডেলে জিজিআই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প পরিচালনা করবে। ফলে শুরুতেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে কোনো মূলধনি বিনিয়োগ বা প্রাথমিক অর্থায়ন করতে হচ্ছে না।

চুক্তি অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর থেকে পরবর্তী ২০ বছর জিজিআই চট্টগ্রাম বন্দরকে নিরবচ্ছিন্ন সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। প্রকল্পটির সামগ্রিক নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম ক্রয়, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে জিজিআই। বন্দর কর্তৃপক্ষ পূর্বনির্ধারিত স্থির ট্যারিফ হারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে এবং তাদের দৈনন্দিন বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে।

অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সাফল্য:

ব্যাপক সাশ্রয় : চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০ বছরে এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বন্দরের বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি : নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।

নেট মিটারিং সুযোগ : উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুবিধা থাকবে।

কার্বন ক্রেডিট ও এসডিজি : জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ও প্যারিস চুক্তি অনুসরণে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে কার্বন ক্রেডিট অর্জনে এই প্রকল্প মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে একটি বৈশ্বিক মডেল ও ‘সবুজ বন্দর’ (Green Port) হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


মেগাবন্দরের পথে চট্টগ্রাম বন্দর, বিশাল সৌর প্রকল্প

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ‘গ্রিন পোর্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় বন্দরের বিভিন্ন ভবন ও শেডের অব্যবহৃত ছাদে ৮.৪২ মেগাওয়াট (পিক) উৎপাদন ক্ষমতার সর্বাধুনিক রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ‘গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভ লিমিটেড’ (জিজিআই)-এর মধ্যে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। অন্যদিকে জিজিআইয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ নূরে আলম।

বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ মেনে বেসরকারি বিনিয়োগে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। অপারেটিং-এক্সপেন্স (OpEx) মডেলে জিজিআই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প পরিচালনা করবে। ফলে শুরুতেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে কোনো মূলধনি বিনিয়োগ বা প্রাথমিক অর্থায়ন করতে হচ্ছে না।

চুক্তি অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর থেকে পরবর্তী ২০ বছর জিজিআই চট্টগ্রাম বন্দরকে নিরবচ্ছিন্ন সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। প্রকল্পটির সামগ্রিক নকশা প্রণয়ন, সরঞ্জাম ক্রয়, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে জিজিআই। বন্দর কর্তৃপক্ষ পূর্বনির্ধারিত স্থির ট্যারিফ হারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে এবং তাদের দৈনন্দিন বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে।

অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সাফল্য:

ব্যাপক সাশ্রয় : চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০ বছরে এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বন্দরের বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি : নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।

নেট মিটারিং সুযোগ : উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুবিধা থাকবে।

কার্বন ক্রেডিট ও এসডিজি : জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ও প্যারিস চুক্তি অনুসরণে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে কার্বন ক্রেডিট অর্জনে এই প্রকল্প মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে একটি বৈশ্বিক মডেল ও ‘সবুজ বন্দর’ (Green Port) হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত