ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামের শতবর্ষী যাত্রা মোহন সেন (জে এম সেন) হলে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে। সেখানে তিনি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা ও সৌজন্য বিনিময় করবেন। এরপর তিনি নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।
পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বীর চট্টলায় এটি তার দ্বিতীয় সফর। এর আগে গত ৯ আগস্ট তিনি চট্টগ্রামে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।
ইতিহাসের স্মৃতিকাতরতা ও জিয়া পরিবারের আবেগ
চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে অবস্থিত জে এম সেন হল আসাম-বেঙ্গল রেলপথ আন্দোলন, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, অসহযোগ আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নীরব সাক্ষী। ১৯৯৩ সালে এই হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিন দশকেরও বেশি সময় পর তারই উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে যাচ্ছেন।
বিএনপি নেতারা জানান, জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ও আত্মিক ইতিহাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, বিটিভি ও বিএনপির গোড়াপত্তন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করার ইতিহাস এই চট্টগ্রামের সঙ্গেই যুক্ত। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ সফর কেবল রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক নয়, বরং গভীর এক আবেগের পুনর্মিলন।
সনাতনী সম্প্রদায়ের উৎসবের আমেজ ও প্রত্যাশা
কোনো রাষ্ট্রপ্রধান প্রথমবার শারদীয় দুর্গোৎসবে সরাসরি তাদের মাঝে আসছেন–এমন খবরে উচ্ছ্বসিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সাগরিকায় হাজার হাজার সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “স্বাধীনতার পর কোনো সরকারপ্রধান আমাদের চট্টগ্রামের শারদীয় দুর্গোৎসবে আসেননি। তিনি আসছেন, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাকে আমরা যথাযথ সম্মান দিয়ে স্বাগত জানাব। তার কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশা–একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করতে পারে।”
অন্যদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় অভয়মিত্ৰ মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল দুর্গাপূজার ছুটি বৃদ্ধি ও অনুদান প্রদানসহ সার্বিক পদক্ষেপে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জে এম সেন হলে ২০ তলাবিশিষ্ট একটি মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জে এম সেন হলে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গীতা পাঠ উপভোগ করবেন। এরপর উত্তরীয় ও স্মারক শুভেচ্ছা গ্রহণ শেষে বক্তব্য রাখবেন এবং পরিষদের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।ট
সাংগঠনিক বৈঠকের কড়া বার্তা ও নিরাপত্তা
জে এম সেন হলের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী নগরের রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত বিশেষ সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সেখানে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তৃণমূলের নেতারা এতে সরাসরি দলীয় প্রধানের সামনে তাদের মতামত ও স্থানীয় রাজনীতির চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য তার ঘোষিত ‘৩১ দফা’ ও ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার বাস্তবায়ন প্রদর্শন করা। সাংগঠনিক বৈঠক থেকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দলে বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কড়া নির্দেশনা দিতে পারেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় এড়াতে এবার নির্ধারিত ‘এন্ট্রি পাস’-এর মাধ্যমে নেতাদের প্রবেশের কঠোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, এপিবিএন, আনসার ও বিজিবিসহ ২০ হাজারের বেশি সদস্য চার স্তরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামের শতবর্ষী যাত্রা মোহন সেন (জে এম সেন) হলে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে। সেখানে তিনি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা ও সৌজন্য বিনিময় করবেন। এরপর তিনি নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।
পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বীর চট্টলায় এটি তার দ্বিতীয় সফর। এর আগে গত ৯ আগস্ট তিনি চট্টগ্রামে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।
ইতিহাসের স্মৃতিকাতরতা ও জিয়া পরিবারের আবেগ
চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে অবস্থিত জে এম সেন হল আসাম-বেঙ্গল রেলপথ আন্দোলন, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, অসহযোগ আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নীরব সাক্ষী। ১৯৯৩ সালে এই হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিন দশকেরও বেশি সময় পর তারই উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে যাচ্ছেন।
বিএনপি নেতারা জানান, জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ও আত্মিক ইতিহাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, বিটিভি ও বিএনপির গোড়াপত্তন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করার ইতিহাস এই চট্টগ্রামের সঙ্গেই যুক্ত। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ সফর কেবল রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক নয়, বরং গভীর এক আবেগের পুনর্মিলন।
সনাতনী সম্প্রদায়ের উৎসবের আমেজ ও প্রত্যাশা
কোনো রাষ্ট্রপ্রধান প্রথমবার শারদীয় দুর্গোৎসবে সরাসরি তাদের মাঝে আসছেন–এমন খবরে উচ্ছ্বসিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে সাগরিকায় হাজার হাজার সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “স্বাধীনতার পর কোনো সরকারপ্রধান আমাদের চট্টগ্রামের শারদীয় দুর্গোৎসবে আসেননি। তিনি আসছেন, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাকে আমরা যথাযথ সম্মান দিয়ে স্বাগত জানাব। তার কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশা–একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করতে পারে।”
অন্যদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় অভয়মিত্ৰ মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল দুর্গাপূজার ছুটি বৃদ্ধি ও অনুদান প্রদানসহ সার্বিক পদক্ষেপে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি চন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জে এম সেন হলে ২০ তলাবিশিষ্ট একটি মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জে এম সেন হলে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গীতা পাঠ উপভোগ করবেন। এরপর উত্তরীয় ও স্মারক শুভেচ্ছা গ্রহণ শেষে বক্তব্য রাখবেন এবং পরিষদের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।ট
সাংগঠনিক বৈঠকের কড়া বার্তা ও নিরাপত্তা
জে এম সেন হলের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী নগরের রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত বিশেষ সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সেখানে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তৃণমূলের নেতারা এতে সরাসরি দলীয় প্রধানের সামনে তাদের মতামত ও স্থানীয় রাজনীতির চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য তার ঘোষিত ‘৩১ দফা’ ও ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার বাস্তবায়ন প্রদর্শন করা। সাংগঠনিক বৈঠক থেকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দলে বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কড়া নির্দেশনা দিতে পারেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় এড়াতে এবার নির্ধারিত ‘এন্ট্রি পাস’-এর মাধ্যমে নেতাদের প্রবেশের কঠোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, এপিবিএন, আনসার ও বিজিবিসহ ২০ হাজারের বেশি সদস্য চার স্তরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন