সংবাদ

‘সৌদিতে ফাঁসি কার্যকর হওয়া নজরুল ও সুইটি স্বামী-স্ত্রী নন’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

‘সৌদিতে ফাঁসি কার্যকর হওয়া নজরুল ও সুইটি স্বামী-স্ত্রী নন’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান নজরুল ইসলাম এবং সুইটি আক্তারকে সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নানা তথ্য ছড়ানো হলেও মূলত তারা স্বামী-স্ত্রী নন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির জানিয়ে দিয়েছেন, সুইটি আক্তারকে তারা চেনেনও না। তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ছেলেকে পরিবারের অভাব অনটন দূর করতে কলেজে পড়ার সময় বিদেশে পাঠিয়েছিলাম, সে কখন বিয়ে করল? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, আমরা তাকে চিনি না। শুনেছি তারা একই এলাকায় কাজ করত এবং তাদের মরদেহ দেশে আসছে।

আব্দুল বাছির আরও জানান, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মাত্র ছয় মাস কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল নজরুল এবং এরপর তাকে দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকতে হয়। তবে কী সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবার পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই মর্মান্তিক খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্থানীয় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম, এর মধ্যে সে মাত্র দেড় লাখ টাকা পাঠাতে পেরেছিল। এখন পাওনাদাররা ঋণের টাকার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার কলিজার টুকরো ছেলের মরদেহ নিজ জন্মভূমিতে ফিরে পেতে চাই এবং বিনা কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর সঠিক বিচার চাই।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমায় নজরুল। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামের এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

তিন বছর তিন মাস কারাবন্দির পর গত বুধবার তাদের ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও স্বজনরা তাদের বাড়িতে এসে সমবেদনা জানাচ্ছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নজরুল এমন কোনো অপরাধ করেছে বলে আমাদের বিশ্বাস হয় না।

বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দূতাবাস সময়মতো উদ্যোগ নিলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ফাঁসি কার্যকরের তীব্র নিন্দা জানান এবং শোকার্ত দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দুই দেশের সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


‘সৌদিতে ফাঁসি কার্যকর হওয়া নজরুল ও সুইটি স্বামী-স্ত্রী নন’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান নজরুল ইসলাম এবং সুইটি আক্তারকে সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নানা তথ্য ছড়ানো হলেও মূলত তারা স্বামী-স্ত্রী নন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির জানিয়ে দিয়েছেন, সুইটি আক্তারকে তারা চেনেনও না। তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ছেলেকে পরিবারের অভাব অনটন দূর করতে কলেজে পড়ার সময় বিদেশে পাঠিয়েছিলাম, সে কখন বিয়ে করল? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, আমরা তাকে চিনি না। শুনেছি তারা একই এলাকায় কাজ করত এবং তাদের মরদেহ দেশে আসছে।

আব্দুল বাছির আরও জানান, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মাত্র ছয় মাস কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল নজরুল এবং এরপর তাকে দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকতে হয়। তবে কী সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবার পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই মর্মান্তিক খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্থানীয় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম, এর মধ্যে সে মাত্র দেড় লাখ টাকা পাঠাতে পেরেছিল। এখন পাওনাদাররা ঋণের টাকার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার কলিজার টুকরো ছেলের মরদেহ নিজ জন্মভূমিতে ফিরে পেতে চাই এবং বিনা কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর সঠিক বিচার চাই।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমায় নজরুল। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামের এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

তিন বছর তিন মাস কারাবন্দির পর গত বুধবার তাদের ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও স্বজনরা তাদের বাড়িতে এসে সমবেদনা জানাচ্ছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নজরুল এমন কোনো অপরাধ করেছে বলে আমাদের বিশ্বাস হয় না।

বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দূতাবাস সময়মতো উদ্যোগ নিলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ফাঁসি কার্যকরের তীব্র নিন্দা জানান এবং শোকার্ত দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দুই দেশের সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত