সংবাদ

পণ্য কিনতে রাজশাহী গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে


প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

পণ্য কিনতে রাজশাহী গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ৫ জন ব্যবসায়ী। ছবি : সংবাদ

ব্যবসার কাজে কৃষিপণ্য কিনতে শরীয়তপুর থেকে রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তারা। সেখান থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে এনে স্থানীয় বাজারে বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু সেই ব্যবসায়িক যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। এতে পুরো জাজিরাজুড়ে এখন শোকের মাতম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নিহত পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী। দুর্ঘটনায় জাজিরার ফয়সাল ও আলমগীর মাদবর নামের অপর দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ও ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই জাজিরার কাজিরহাট ও আশপাশের এলাকার খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী। জাজিরা থেকে একসঙ্গে সাতজন ব্যবসায়ী রওনা হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে জুয়েল মাদবর ভুসামাল ও রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন, সামাদ ফকির ভুসামাল ব্যবসায়ী এবং শাহিন বেপারী হলুদের বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত সূত্রে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল।

কাজিরহাট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের বাজারের সাতজন ব্যবসায়ী একসংগে মালামাল কিনতে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় পাঁচজনই মারা গেছেন এবং দুজন আহত। নিহতদের মধ্যে আমার এক নিকট আত্মীয়ও রয়েছেন।'

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের যোগাযোগ সাপেক্ষে মরদেহ জাজিরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, 'কাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও কষ্টকর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে ব্যক্তিগত ও সরকারিভাবে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


পণ্য কিনতে রাজশাহী গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ব্যবসার কাজে কৃষিপণ্য কিনতে শরীয়তপুর থেকে রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তারা। সেখান থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে এনে স্থানীয় বাজারে বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু সেই ব্যবসায়িক যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। এতে পুরো জাজিরাজুড়ে এখন শোকের মাতম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নিহত পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী। দুর্ঘটনায় জাজিরার ফয়সাল ও আলমগীর মাদবর নামের অপর দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ও ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই জাজিরার কাজিরহাট ও আশপাশের এলাকার খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী। জাজিরা থেকে একসঙ্গে সাতজন ব্যবসায়ী রওনা হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে জুয়েল মাদবর ভুসামাল ও রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন, সামাদ ফকির ভুসামাল ব্যবসায়ী এবং শাহিন বেপারী হলুদের বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত সূত্রে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল।

কাজিরহাট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের বাজারের সাতজন ব্যবসায়ী একসংগে মালামাল কিনতে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় পাঁচজনই মারা গেছেন এবং দুজন আহত। নিহতদের মধ্যে আমার এক নিকট আত্মীয়ও রয়েছেন।'

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের যোগাযোগ সাপেক্ষে মরদেহ জাজিরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, 'কাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও কষ্টকর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে ব্যক্তিগত ও সরকারিভাবে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত