সংবাদ

কুসংস্কার ভেঙে বৈষম্য দূর : ১১ বছর ধরে নারীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

কুসংস্কার ভেঙে বৈষম্য দূর : ১১ বছর ধরে নারীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা
টাঙ্গাইলের কালিহাতীর টুনি মগড়া গ্রামে ‘উজ্জয়িনী’ সংগঠনের উদ্যোগে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সম্পূর্ণ নারীদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা। ছবি : সংবাদ

দুর্গতিনাশিনী নারীশক্তিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সম্পূর্ণ নারীদের একক ব্যবস্থাপনায় দেবী দুর্গার পূজা আয়োজন করে আসছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর একদল অদম্য নারী। ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক এই দুর্গাপূজা মণ্ডপটি গড়ে উঠেছে উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের টুনি মগড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সনাতন ধর্মে প্রচলিত নানা সামাজিক কুসংস্কার ও বিধিনিষেধের কারণে একসময় নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পাশাপাশি পূজার আয়োজনেও বৈষম্যের শিকার হতে হতো। এই সামাজিক পিছিয়ে পড়া অবস্থান ও বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদেই টাঙ্গাইলের কয়েকজন নারী উদ্যোগী হয়ে 'উজ্জয়িনী' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সেই সংগঠনের ব্যানারে ২০১৬ সালে তারা প্রথমবার নিজেদের উদ্যোগে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করেন।

মণ্ডপের চাঁদা তোলা, হাঁড়ি-পাতিল আনা-নেওয়া, বাজারের সওদা করা, এমনকি ঢাকের ঢং বাজানো পর্যন্ত পূজার যাবতীয় কাজ নিজেরাই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদন করেন নারী সদস্যরা।

সরেজমিনে টুনি মগড়া গ্রামের ওই মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি শেষে নারী সদস্যরা আনন্দে মণ্ডপে অবস্থান করছেন। দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে মণ্ডপে এক কিশোরী ও তরুণীর তালে তালে ঢাক বাজানোর দৃশ্য। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ দেখতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে। দর্শনার্থীরা সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, নারীদের সুশৃঙ্খল ও আন্তরিক পরিচালনায় এই পূজা উদযাপন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

মগড়া গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জন কৃষ্ণ পণ্ডিত জানান, জেলাজুড়ে এই একটিই ব্যতিক্রমী পূজা মণ্ডপ, যার সমস্ত দায়িত্ব নারী কমিটি পরিচালনা করে। তাদের এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে কালিহাতী উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছর মণ্ডপ কমিটিকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করে আসছে।

পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সীমা কর্মকার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, 'নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নানা নিয়ম ও বৈষম্য দূর করতেই আমরা প্রথম চারজন মিলে এই পদক্ষেপ নিই। ২০১৬ সালে যখন যাত্রা শুরু করি, তখন অনেকেই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেননি। কিন্তু আমরা দমে যাইনি। পুরুষরা যা পারেন, নারীরাও যে তা সার্থকভাবে পারেন, সেটিই আমরা প্রমাণ করতে চেয়েছি। এখন সবার সার্বিক উৎসাহ ও সহযোগিতায় নিয়মিত সফলভাবে পূজা সম্পন্ন করছি।'

কালিহাতী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সহসভাপতি কাশিনাথ মজুমদার পিংকু জানান, চলতি বছর টাঙ্গাইল জেলায় মোট ১ হাজার ৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তার মধ্যে টুনি মগড়া গ্রামের এই পূজাটি অত্যন্ত বিশেষ ও অনন্য, কারণ পুরো আয়োজন পরিচালনা ও বাস্তবায়নে নারীরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


কুসংস্কার ভেঙে বৈষম্য দূর : ১১ বছর ধরে নারীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দুর্গতিনাশিনী নারীশক্তিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সম্পূর্ণ নারীদের একক ব্যবস্থাপনায় দেবী দুর্গার পূজা আয়োজন করে আসছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর একদল অদম্য নারী। ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক এই দুর্গাপূজা মণ্ডপটি গড়ে উঠেছে উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের টুনি মগড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সনাতন ধর্মে প্রচলিত নানা সামাজিক কুসংস্কার ও বিধিনিষেধের কারণে একসময় নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পাশাপাশি পূজার আয়োজনেও বৈষম্যের শিকার হতে হতো। এই সামাজিক পিছিয়ে পড়া অবস্থান ও বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদেই টাঙ্গাইলের কয়েকজন নারী উদ্যোগী হয়ে 'উজ্জয়িনী' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সেই সংগঠনের ব্যানারে ২০১৬ সালে তারা প্রথমবার নিজেদের উদ্যোগে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করেন।

মণ্ডপের চাঁদা তোলা, হাঁড়ি-পাতিল আনা-নেওয়া, বাজারের সওদা করা, এমনকি ঢাকের ঢং বাজানো পর্যন্ত পূজার যাবতীয় কাজ নিজেরাই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদন করেন নারী সদস্যরা।

সরেজমিনে টুনি মগড়া গ্রামের ওই মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি শেষে নারী সদস্যরা আনন্দে মণ্ডপে অবস্থান করছেন। দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে মণ্ডপে এক কিশোরী ও তরুণীর তালে তালে ঢাক বাজানোর দৃশ্য। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ দেখতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে। দর্শনার্থীরা সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, নারীদের সুশৃঙ্খল ও আন্তরিক পরিচালনায় এই পূজা উদযাপন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

মগড়া গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জন কৃষ্ণ পণ্ডিত জানান, জেলাজুড়ে এই একটিই ব্যতিক্রমী পূজা মণ্ডপ, যার সমস্ত দায়িত্ব নারী কমিটি পরিচালনা করে। তাদের এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে কালিহাতী উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছর মণ্ডপ কমিটিকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করে আসছে।

পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সীমা কর্মকার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, 'নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নানা নিয়ম ও বৈষম্য দূর করতেই আমরা প্রথম চারজন মিলে এই পদক্ষেপ নিই। ২০১৬ সালে যখন যাত্রা শুরু করি, তখন অনেকেই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেননি। কিন্তু আমরা দমে যাইনি। পুরুষরা যা পারেন, নারীরাও যে তা সার্থকভাবে পারেন, সেটিই আমরা প্রমাণ করতে চেয়েছি। এখন সবার সার্বিক উৎসাহ ও সহযোগিতায় নিয়মিত সফলভাবে পূজা সম্পন্ন করছি।'

কালিহাতী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সহসভাপতি কাশিনাথ মজুমদার পিংকু জানান, চলতি বছর টাঙ্গাইল জেলায় মোট ১ হাজার ৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তার মধ্যে টুনি মগড়া গ্রামের এই পূজাটি অত্যন্ত বিশেষ ও অনন্য, কারণ পুরো আয়োজন পরিচালনা ও বাস্তবায়নে নারীরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত