সংবাদ

ডিপ্লোমা পাসের আগেই এমপিওভুক্তির অভিযোগ, নিষ্পত্তি নিয়ে সংশয়


প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

ডিপ্লোমা পাসের আগেই এমপিওভুক্তির অভিযোগ, নিষ্পত্তি নিয়ে সংশয়
ছবি : সংবাদ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম কফিলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাহার হোসেনের নিয়োগ, এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি ও চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষি ডিপ্লোমা অর্জনের আগেই এমপিওভুক্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আগে উচ্চতর পদে পদোন্নতি পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব বিষয়ে একাধিকবার তদন্ত হলেও অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি পুনরায় পদে পুনর্বহাল হয়েছেন।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোজাহার হোসেনের কৃষি ডিপ্লোমা পাসের সাময়িক সনদ ইস্যু করা হয় ২০০০ সালের ২ আগস্ট। অথচ নথিতে দেখা যায়, এর প্রায় চার মাস আগে, ২০০০ সালের ১ এপ্রিল থেকেই তিনি এমপিওভুক্ত হন। ডিপ্লোমা অর্জনের চার মাস আগেই তাঁর এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।

নথি অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি তিনি কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণের আগেই তিনি স্থায়ী নিয়োগ পান এবং পরবর্তী সময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করেন।

১৯৯৬ সালের ১৪ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সের চতুর্থ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট শর্তে কৃষি শিক্ষকের শূন্যপদে সাময়িকভাবে শিক্ষকতার সুযোগের কথা বলা হয়। তবে চূড়ান্ত পাসের পর বিধি মোতাবেক স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার বিধান থাকলেও মোজাহার হোসেনের ক্ষেত্রে বিধিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোজাহার হোসেনের নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটির ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে নানা অসংগতি উঠে আসে। একই বছর তাকে বরখাস্তও করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের মে মাসে তাকে পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আগের গুরুতর অভিযোগগুলোর সুরাহা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাহার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। নিয়ম মেনেই চাকরি করছি।’ তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন সাংবাদিকদের সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই সপ্তাহ পার হলেও কোনো নথি জমা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষক মোজাহার হোসেনের আগের নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পেলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে স্বপদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাউশির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।’

প্রধান শিক্ষকের বিতর্কিত নিয়োগ, এমপিওভুক্তি ও পদোন্নতির বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ ও মাউশির উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


ডিপ্লোমা পাসের আগেই এমপিওভুক্তির অভিযোগ, নিষ্পত্তি নিয়ে সংশয়

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম কফিলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাহার হোসেনের নিয়োগ, এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি ও চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষি ডিপ্লোমা অর্জনের আগেই এমপিওভুক্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আগে উচ্চতর পদে পদোন্নতি পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব বিষয়ে একাধিকবার তদন্ত হলেও অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি পুনরায় পদে পুনর্বহাল হয়েছেন।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোজাহার হোসেনের কৃষি ডিপ্লোমা পাসের সাময়িক সনদ ইস্যু করা হয় ২০০০ সালের ২ আগস্ট। অথচ নথিতে দেখা যায়, এর প্রায় চার মাস আগে, ২০০০ সালের ১ এপ্রিল থেকেই তিনি এমপিওভুক্ত হন। ডিপ্লোমা অর্জনের চার মাস আগেই তাঁর এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।

নথি অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি তিনি কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণের আগেই তিনি স্থায়ী নিয়োগ পান এবং পরবর্তী সময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করেন।

১৯৯৬ সালের ১৪ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সের চতুর্থ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট শর্তে কৃষি শিক্ষকের শূন্যপদে সাময়িকভাবে শিক্ষকতার সুযোগের কথা বলা হয়। তবে চূড়ান্ত পাসের পর বিধি মোতাবেক স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার বিধান থাকলেও মোজাহার হোসেনের ক্ষেত্রে বিধিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোজাহার হোসেনের নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটির ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে নানা অসংগতি উঠে আসে। একই বছর তাকে বরখাস্তও করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের মে মাসে তাকে পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আগের গুরুতর অভিযোগগুলোর সুরাহা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাহার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। নিয়ম মেনেই চাকরি করছি।’ তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন সাংবাদিকদের সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই সপ্তাহ পার হলেও কোনো নথি জমা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষক মোজাহার হোসেনের আগের নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পেলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে স্বপদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাউশির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।’

প্রধান শিক্ষকের বিতর্কিত নিয়োগ, এমপিওভুক্তি ও পদোন্নতির বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ ও মাউশির উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত