মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পদ্মা-যমুনায় মৌসুমি জেলেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের কঠোর অভিযান সত্ত্বেও কোনো কিছুতে থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ শিকার। মৎস্য দপ্তরসহ প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যেও অবৈধভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ শিকার করছে অসাধু জেলেরা। ফলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আশানুরূপ ফলপ্রসূ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার গত ৮ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মা-যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় মোট ১৩২টি অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ১৩টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২৮ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় এক লাখ ১৫ হাজার ৯৭৭ মিটার জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং দুই দশমিক ৮৮ টন ইলিশ জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৎস্য চোরাশিকারিদের নিয়োগ করা লোকবলের মাধ্যমে অভিযানের তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ফলে জাতীয় মাছ ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে সরকারিভাবে মা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। এতে মানিকগঞ্জের শিবালয়, হরিরামপুর ও দৌলতপুরে পদ্মা-যমুনা অংশে ইলিশ নিধন ও বিক্রির মহোৎসব চলছে।
চরাঞ্চল ও এলাকার কিছু সৌখিন এবং মৌসুমি চোরা মৎস্যশিকারীদের অপতৎপরতা এতটাই বেপরোয়া যে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোর অভিযানেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ নিধন। স্থানীয় কিছু সোর্সের কারণে মৎস্যশিকারীরা আগেই বিশেষ অভিযানের খবর পেয়ে যাচ্ছেন। এই সুযোগে মৎস্যশিকারী ও ক্রেতা-বিক্রেতারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলার শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত পদ্মা-যমুনায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দিনে ও রাতে অবৈধ কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকারের উৎসব চলছে। শিবালয়ের আলোকদিয়া চরে এক কেজি সাইজের ইলিশ ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া, জাফরগঞ্জ ও সাতুরিয়া এলাকায় ভোরে ও সন্ধ্যায় ইলিশের হাট বসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আলোকদিয়া এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনের কঠোর অভিযানের মধ্যেও মৌসুমি জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে হারে মা ইলিশ শিকার করছে, তাতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান তেমন ফলদায়ক হবে না। জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় আমাদের সবার সচেতন হওয়া দরকার। এ সময়ে আমরা যেন কেউ মা ইলিশ না ধরি।
যমুনা নদী সিকস্তি শিবালয়ের তেওতার আলোকদিয়া গ্রামের চান মিয়া বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নদীতে একদিকে চলছে ইলিশ নিধন, অন্যদিকে চলছে প্রশাসনের কঠোর অভিযান। অভিযানে জাল-নৌকা জব্দ করা হলেও থামানো যাচ্ছে না এসব অসাধু জেলেদের। তারা একাধিক জাল তৈরি করে রেখেছে। যে কারণে একটি বিনষ্ট হলে অন্যটি দিয়ে মাছ ধরছে। বিকল্প জাল ও নৌকা তারা সব সময় প্রস্তুত রাখে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে জাল-নৌকা জব্দ করা হলেও প্রকৃত শিকারীরা অধরা থেকে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় অন্যরাও ইলিশ শিকারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
অভিযানে আটক জেলে ও জালের একাংশ
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মানি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও চরাঞ্চলের কিছু অসাধু জেলে আছে, তারা কোনো কিছুই মানতে চায় না। কঠোর অভিযানের মধ্যেও তারা চুরি করে মাছ ধরার জন্য নদীতে নামছে।
তবে মা ইলিশ সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রশাসন, জেলা ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর, নৌপুলিশ এবং কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কঠোর অবস্থানে আছেন। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পদ্মা-যমুনায় মৌসুমি জেলেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের কঠোর অভিযান সত্ত্বেও কোনো কিছুতে থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ শিকার। মৎস্য দপ্তরসহ প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যেও অবৈধভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ শিকার করছে অসাধু জেলেরা। ফলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আশানুরূপ ফলপ্রসূ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার গত ৮ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মা-যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় মোট ১৩২টি অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ১৩টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২৮ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় এক লাখ ১৫ হাজার ৯৭৭ মিটার জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং দুই দশমিক ৮৮ টন ইলিশ জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৎস্য চোরাশিকারিদের নিয়োগ করা লোকবলের মাধ্যমে অভিযানের তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ফলে জাতীয় মাছ ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে সরকারিভাবে মা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। এতে মানিকগঞ্জের শিবালয়, হরিরামপুর ও দৌলতপুরে পদ্মা-যমুনা অংশে ইলিশ নিধন ও বিক্রির মহোৎসব চলছে।
চরাঞ্চল ও এলাকার কিছু সৌখিন এবং মৌসুমি চোরা মৎস্যশিকারীদের অপতৎপরতা এতটাই বেপরোয়া যে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোর অভিযানেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ নিধন। স্থানীয় কিছু সোর্সের কারণে মৎস্যশিকারীরা আগেই বিশেষ অভিযানের খবর পেয়ে যাচ্ছেন। এই সুযোগে মৎস্যশিকারী ও ক্রেতা-বিক্রেতারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলার শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত পদ্মা-যমুনায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দিনে ও রাতে অবৈধ কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকারের উৎসব চলছে। শিবালয়ের আলোকদিয়া চরে এক কেজি সাইজের ইলিশ ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া, জাফরগঞ্জ ও সাতুরিয়া এলাকায় ভোরে ও সন্ধ্যায় ইলিশের হাট বসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আলোকদিয়া এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনের কঠোর অভিযানের মধ্যেও মৌসুমি জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে হারে মা ইলিশ শিকার করছে, তাতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান তেমন ফলদায়ক হবে না। জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় আমাদের সবার সচেতন হওয়া দরকার। এ সময়ে আমরা যেন কেউ মা ইলিশ না ধরি।
যমুনা নদী সিকস্তি শিবালয়ের তেওতার আলোকদিয়া গ্রামের চান মিয়া বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নদীতে একদিকে চলছে ইলিশ নিধন, অন্যদিকে চলছে প্রশাসনের কঠোর অভিযান। অভিযানে জাল-নৌকা জব্দ করা হলেও থামানো যাচ্ছে না এসব অসাধু জেলেদের। তারা একাধিক জাল তৈরি করে রেখেছে। যে কারণে একটি বিনষ্ট হলে অন্যটি দিয়ে মাছ ধরছে। বিকল্প জাল ও নৌকা তারা সব সময় প্রস্তুত রাখে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে জাল-নৌকা জব্দ করা হলেও প্রকৃত শিকারীরা অধরা থেকে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় অন্যরাও ইলিশ শিকারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
অভিযানে আটক জেলে ও জালের একাংশ
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মানি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও চরাঞ্চলের কিছু অসাধু জেলে আছে, তারা কোনো কিছুই মানতে চায় না। কঠোর অভিযানের মধ্যেও তারা চুরি করে মাছ ধরার জন্য নদীতে নামছে।
তবে মা ইলিশ সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রশাসন, জেলা ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর, নৌপুলিশ এবং কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কঠোর অবস্থানে আছেন। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন