রাজধানীতে নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জনকে আটকের ঘটনার পর পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে ক্লোজড করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে। এমনকি মাদকবিরোধী ওই অভিযান থামাতে তিনি তদবিরও করেছিলেন বলে ডিবি সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে তার ওই বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানের পর বিকালে এই কর্মকর্তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদরদপ্তরের সদরদপ্তর শাখায় সংযুক্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত সোমবার রাতে রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসায় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে আইস, সিসা, ইয়াবা, মদ, গাঁজা, কুশসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ২৬ নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এ জন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। বাসাটি ওই পুলিশ কর্মকর্তা ভাড়া দিয়েছেন। তিনি সেখানে থাকেন না।’
ডিবি সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি–১ এ পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের একটি প্লট রয়েছে। সেখানে পাঁচটি কক্ষ নির্মাণ করে ‘এয়ারবিএনবি’ ওয়েবসাইটে ভাড়ার জন্য দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবসাইট থেকে তরুণ-তরুণী ও আগ্রহীরা ভাড়ার জন্য বুকিং নিয়ে সেখানে ডিজে পার্টি ও মাদক সেবনসহ নানা অসামাজিক কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ করে আসার তথ্যের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, বাসাটিতে প্রায় এক বছর ধরে মাদক সেবন ও রাতভর ডিজে পার্টির আসর বসত। এসব আয়োজনে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীরাও অংশ নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আফগানিস্তানের এক নাগরিকও রয়েছেন। অভিযানে মাদকসহ প্লটটির কক্ষগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাহবুবুল আলম নামের এক ব্যক্তিসহ ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
ডিবির একটি সূত্রের দাবি, কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য এবং অভিযান থামাতে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির তদবির করেছিলেন। তবে পুলিশ সদস্য ও ডিএমপির কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অভিযান শেষে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এতে সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষ করতে মঙ্গলবার সকাল হয়ে যায়।
ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অতিরিক্ত ডিআইজির প্রভাব ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ওই বাসায় মাদক কারবারিদের একটি আখড়া গড়ে উঠেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে মাদক সেবন ও রাতভর আনন্দ-উল্লাসের সুযোগ করে দিয়ে অর্থ আদায় করা হতো।’
এসব কর্মকাণ্ড থেকে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হতো এবং প্রায় ৭০ শতাংশ টাকা অতিরিক্ত ডিআইজির তহবিলে জমা পড়ত বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই বাসা আমি ভাড়া দিয়েছি। ভাড়া দেওয়ার সময় সব নিয়মনীতি তাদের বলা হয়েছিল। এখন তারা যদি কোনো অপরাধ করে, সেই বিচার তাদের হবে। আমি তো ওই বাসায় থাকি না।’

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীতে নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জনকে আটকের ঘটনার পর পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে ক্লোজড করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে। এমনকি মাদকবিরোধী ওই অভিযান থামাতে তিনি তদবিরও করেছিলেন বলে ডিবি সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে তার ওই বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানের পর বিকালে এই কর্মকর্তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদরদপ্তরের সদরদপ্তর শাখায় সংযুক্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত সোমবার রাতে রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসায় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে আইস, সিসা, ইয়াবা, মদ, গাঁজা, কুশসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ২৬ নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এ জন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। বাসাটি ওই পুলিশ কর্মকর্তা ভাড়া দিয়েছেন। তিনি সেখানে থাকেন না।’
ডিবি সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি–১ এ পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের একটি প্লট রয়েছে। সেখানে পাঁচটি কক্ষ নির্মাণ করে ‘এয়ারবিএনবি’ ওয়েবসাইটে ভাড়ার জন্য দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবসাইট থেকে তরুণ-তরুণী ও আগ্রহীরা ভাড়ার জন্য বুকিং নিয়ে সেখানে ডিজে পার্টি ও মাদক সেবনসহ নানা অসামাজিক কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ করে আসার তথ্যের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, বাসাটিতে প্রায় এক বছর ধরে মাদক সেবন ও রাতভর ডিজে পার্টির আসর বসত। এসব আয়োজনে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীরাও অংশ নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আফগানিস্তানের এক নাগরিকও রয়েছেন। অভিযানে মাদকসহ প্লটটির কক্ষগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাহবুবুল আলম নামের এক ব্যক্তিসহ ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
ডিবির একটি সূত্রের দাবি, কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য এবং অভিযান থামাতে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির তদবির করেছিলেন। তবে পুলিশ সদস্য ও ডিএমপির কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অভিযান শেষে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এতে সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষ করতে মঙ্গলবার সকাল হয়ে যায়।
ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অতিরিক্ত ডিআইজির প্রভাব ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ওই বাসায় মাদক কারবারিদের একটি আখড়া গড়ে উঠেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে মাদক সেবন ও রাতভর আনন্দ-উল্লাসের সুযোগ করে দিয়ে অর্থ আদায় করা হতো।’
এসব কর্মকাণ্ড থেকে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হতো এবং প্রায় ৭০ শতাংশ টাকা অতিরিক্ত ডিআইজির তহবিলে জমা পড়ত বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই বাসা আমি ভাড়া দিয়েছি। ভাড়া দেওয়ার সময় সব নিয়মনীতি তাদের বলা হয়েছিল। এখন তারা যদি কোনো অপরাধ করে, সেই বিচার তাদের হবে। আমি তো ওই বাসায় থাকি না।’

আপনার মতামত লিখুন