টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ও দেওপাড়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বংশাই নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি ছোট খেয়া নৌকা হওয়ায় প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সরাসাক ও গাংগাইর গ্রামের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বংশাই নদীর দুই পাড়েই পাকা সড়ক রয়েছে। কিন্তু নদীর ওপর সেতু না থাকায় গাংগাইর, সরাসাক, আমজানি, বাদেআমজানি, গোলাবাড়ি, ধলাপাড়া, মলাজানি, জুগিয়াটেংগর, নয়ারহাট ও বর্গাসহ ১০টি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এক পাড় থেকে যাত্রী পূর্ণ হয়ে অন্য পাড়ে নৌকা পৌঁছাতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে। এতে নদীর অন্য পাড়ে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রহর গুনতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরাসাক গ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাংগাইর গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ধলাপাড়ায় কলেজ, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বড় একটি হাট-বাজার রয়েছে। প্রতিদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় সেতু নির্মাণের নানা আশ্বাস দিলেও তা কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষকে টাঙ্গাইল জেলা সদরে যেতে বিকল্প সড়কে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ ঘুরে ঘাটাইলের ওপর দিয়ে যেতে হয়। এতে অতিরিক্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। অথচ এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে জেলা সদরের দূরত্ব ও সময় নেমে আসত মাত্র ৪০ মিনিটে।
গাংগাইর গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ ড্রাইভার বলেন, 'বর্ষাকালে সঠিক সময়ে খেয়া পার হতে না পেরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না। শুকনো মৌসুমেও ছোট নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। বংশাই নদীর ওপর দ্রুত সেতু নির্মাণ করা জরুরি।'
সরাসাক গ্রামের নজরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, 'স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও বংশাই নদীতে একটা ব্রিজ হলো না। নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা কথা দেন, কিন্তু পরে আর কারও দেখা মেলে না।'
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরী তাসমিন উর্মি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে দ্রুত সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শনের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ও দেওপাড়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বংশাই নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি ছোট খেয়া নৌকা হওয়ায় প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সরাসাক ও গাংগাইর গ্রামের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বংশাই নদীর দুই পাড়েই পাকা সড়ক রয়েছে। কিন্তু নদীর ওপর সেতু না থাকায় গাংগাইর, সরাসাক, আমজানি, বাদেআমজানি, গোলাবাড়ি, ধলাপাড়া, মলাজানি, জুগিয়াটেংগর, নয়ারহাট ও বর্গাসহ ১০টি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এক পাড় থেকে যাত্রী পূর্ণ হয়ে অন্য পাড়ে নৌকা পৌঁছাতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে। এতে নদীর অন্য পাড়ে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রহর গুনতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরাসাক গ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাংগাইর গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ধলাপাড়ায় কলেজ, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বড় একটি হাট-বাজার রয়েছে। প্রতিদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় সেতু নির্মাণের নানা আশ্বাস দিলেও তা কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষকে টাঙ্গাইল জেলা সদরে যেতে বিকল্প সড়কে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ ঘুরে ঘাটাইলের ওপর দিয়ে যেতে হয়। এতে অতিরিক্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। অথচ এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে জেলা সদরের দূরত্ব ও সময় নেমে আসত মাত্র ৪০ মিনিটে।
গাংগাইর গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ ড্রাইভার বলেন, 'বর্ষাকালে সঠিক সময়ে খেয়া পার হতে না পেরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না। শুকনো মৌসুমেও ছোট নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। বংশাই নদীর ওপর দ্রুত সেতু নির্মাণ করা জরুরি।'
সরাসাক গ্রামের নজরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, 'স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও বংশাই নদীতে একটা ব্রিজ হলো না। নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা কথা দেন, কিন্তু পরে আর কারও দেখা মেলে না।'
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরী তাসমিন উর্মি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে দ্রুত সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শনের মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন