রাঙামাটির সাজেকে তিন দফা দাবিতে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। অবরোধের কারণে সাজেকে যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটকরা। এ পরিস্থিতিতে সাজেকে অবস্থান নেওয়া প্রায় চার হাজার পর্যটককে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
বারবার অবরোধের ঘটনায় পর্যটক কমে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবহন মালিক, শ্রমিক, হোটেল ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।
সকাল থেকে সাজেক সড়কের বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
অবরোধের খবর না জেনে খাগড়াছড়িতে এসে সাজেকে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েন অনেক পর্যটক। অন্যদিকে, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে সেনাবাহিনী।
আকস্মিক এ অবরোধে ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় হতাশ পর্যটকরা। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পরিবহন মালিক, চালক ও স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা।
পর্যটক ফারহানা আক্তার বলেন, অনেক আশা নিয়ে সাজেক ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে অবরোধের কথা জানতে পারি। এখন কোথায় যাব, কীভাবে ফিরব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। তাই খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে ঢাকায় ফিরব।
আরেক পর্যটক টিটু দে বলেন, সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলাম। কিন্তু অবরোধের কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুরতে পারিনি। পরিবার নিয়ে দুই দিনের ছুটিতে এসেছিলাম। এখন বাধ্য হয়ে বান্দরবান চলে যাচ্ছি।
সাজেকে কিছুদিন পরপর এমন অস্থিরতার কারণে পর্যটকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানান, অবরোধের কারণে সাজেকগামী কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। এতে বন্ধ রয়েছে চালকদের আয়-রোজগার।
সাজেকের জিপচালক ইব্রাহিম বলেন, “সড়ক বন্ধ থাকায় আমাদের গাড়ি বসে আছে। গাড়ি চালাতে না পারায় আয়-রোজগারও বন্ধ। এভাবে হঠাৎ অবরোধ হলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
খাগড়াছড়ি সাজেক কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. আরিফ জানান, প্রতিদিন তাদের কাউন্টার থেকে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যেত। কিন্তু তৃতীয়বারের মতো অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার কোনো পরিবহন সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। পরিস্থিতি জানিয়ে টিকিটপ্রত্যাশী পর্যটকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, সড়ক বন্ধ থাকায় আমাদের গাড়িগুলো ডিপোতে বসে আছে। এ ধরনের আকস্মিক অবরোধে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পর্যটকদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় হোটেল ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পর্যটন মোটেলের সহকারী ব্যবস্থাপক শংকর চৌধুরী বলেন, খাগড়াছড়িতে তুলনামূলকভাবে পর্যটক অনেক কমে গেছে। পর্যটনের এ মৌসুমে সাজেকে আবারও অবরোধের কারণে পর্যটকরা খাগড়াছড়িতে আসতে চাইছেন না। আমাদের হোটেলেও অতিথি কমে গেছে। তবে খাগড়াছড়িতে আলুটিলা, জেলা পরিষদ পার্কসহ অনেক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। পর্যটকরা চাইলে এসব স্থান ঘুরে দেখতে পারেন।খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কের কাউন্টার দায়িত্বে থাকা মনোতোষ ত্রিপুরা বলেন, সাজেকে কিছুদিন পরপর অবরোধের কারণে পর্যটক কমে যাচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে পর্যটনশিল্প রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, সাজেকে বারবার অবরোধের কারণে শুধু সাজেক নয়, এর প্রভাব পড়ছে খাগড়াছড়ির সামগ্রিক পর্যটন খাতেও। পর্যটন মৌসুমে এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরিবহন, হোটেল-মোটেল ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
তাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট নিরসন করে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং পর্যটনশিল্প সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
রাঙামাটির সাজেকে তিন দফা দাবিতে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। অবরোধের কারণে সাজেকে যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটকরা। এ পরিস্থিতিতে সাজেকে অবস্থান নেওয়া প্রায় চার হাজার পর্যটককে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
বারবার অবরোধের ঘটনায় পর্যটক কমে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবহন মালিক, শ্রমিক, হোটেল ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।
সকাল থেকে সাজেক সড়কের বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
অবরোধের খবর না জেনে খাগড়াছড়িতে এসে সাজেকে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েন অনেক পর্যটক। অন্যদিকে, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে সেনাবাহিনী।
আকস্মিক এ অবরোধে ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় হতাশ পর্যটকরা। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পরিবহন মালিক, চালক ও স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা।
পর্যটক ফারহানা আক্তার বলেন, অনেক আশা নিয়ে সাজেক ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে অবরোধের কথা জানতে পারি। এখন কোথায় যাব, কীভাবে ফিরব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। তাই খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে ঢাকায় ফিরব।
আরেক পর্যটক টিটু দে বলেন, সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলাম। কিন্তু অবরোধের কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুরতে পারিনি। পরিবার নিয়ে দুই দিনের ছুটিতে এসেছিলাম। এখন বাধ্য হয়ে বান্দরবান চলে যাচ্ছি।
সাজেকে কিছুদিন পরপর এমন অস্থিরতার কারণে পর্যটকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানান, অবরোধের কারণে সাজেকগামী কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। এতে বন্ধ রয়েছে চালকদের আয়-রোজগার।
সাজেকের জিপচালক ইব্রাহিম বলেন, “সড়ক বন্ধ থাকায় আমাদের গাড়ি বসে আছে। গাড়ি চালাতে না পারায় আয়-রোজগারও বন্ধ। এভাবে হঠাৎ অবরোধ হলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
খাগড়াছড়ি সাজেক কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. আরিফ জানান, প্রতিদিন তাদের কাউন্টার থেকে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যেত। কিন্তু তৃতীয়বারের মতো অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার কোনো পরিবহন সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। পরিস্থিতি জানিয়ে টিকিটপ্রত্যাশী পর্যটকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, সড়ক বন্ধ থাকায় আমাদের গাড়িগুলো ডিপোতে বসে আছে। এ ধরনের আকস্মিক অবরোধে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পর্যটকদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় হোটেল ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পর্যটন মোটেলের সহকারী ব্যবস্থাপক শংকর চৌধুরী বলেন, খাগড়াছড়িতে তুলনামূলকভাবে পর্যটক অনেক কমে গেছে। পর্যটনের এ মৌসুমে সাজেকে আবারও অবরোধের কারণে পর্যটকরা খাগড়াছড়িতে আসতে চাইছেন না। আমাদের হোটেলেও অতিথি কমে গেছে। তবে খাগড়াছড়িতে আলুটিলা, জেলা পরিষদ পার্কসহ অনেক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। পর্যটকরা চাইলে এসব স্থান ঘুরে দেখতে পারেন।খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কের কাউন্টার দায়িত্বে থাকা মনোতোষ ত্রিপুরা বলেন, সাজেকে কিছুদিন পরপর অবরোধের কারণে পর্যটক কমে যাচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে পর্যটনশিল্প রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, সাজেকে বারবার অবরোধের কারণে শুধু সাজেক নয়, এর প্রভাব পড়ছে খাগড়াছড়ির সামগ্রিক পর্যটন খাতেও। পর্যটন মৌসুমে এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরিবহন, হোটেল-মোটেল ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
তাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট নিরসন করে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং পর্যটনশিল্প সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন