এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আবারও রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। বদলি প্রক্রিয়ার দ্রুত বাস্তবায়ন, নবম পে-স্কেল কার্যকর করা এবং মূল বেতনের সমপরিমাণ শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে তারা এই আন্দোলন শুরু করবেন।
প্রাথমিকভাবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে এই কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হলেও শিক্ষকদের সার্বিক সুবিধা এবং যাতায়াতের কথা গভীরভাবে বিবেচনা করে আন্দোলনের স্থান পরিবর্তন করে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী গণমাধ্যমকে এই নতুন কর্মসূচি ও স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেদের অধিকার আদায়ে শিক্ষকরা সব সময় একতাবদ্ধ। অসংখ্য শিক্ষক এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেশের দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসবেন। এজন্য শিক্ষকদের জোরালো চাওয়া ছিল আন্দোলনের ভেন্যু পরিবর্তনের। শিক্ষকদের স্বার্থে এবং তাদের ভোগান্তি কমাতে আন্দোলনের ভেন্যু জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা ডিএমপি কমিশনার বরাবর যথাযথ অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি।’
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানান, শিক্ষকদের বদলির আবেদন গ্রহণের দীর্ঘ দেড় মাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বদলির ফল প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে নিজ বাড়ি এবং পরিবার থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে দুর্গম এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের চরম অমানবিক ও কষ্টকর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এই বদলির ফল প্রকাশ করার জোর দাবি জানান তিনি।
এছাড়া শিক্ষকদের নতুন অর্থনৈতিক দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি মাস থেকে নবম পে-স্কেল অনুযায়ী নতুন বেতন-ভাতা পাবেন। অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে এই নতুন পে-স্কেলের সুফল বা বেতন পাবেন, তা এখনো সম্পূর্ণ অনিশ্চিত ও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন রয়েছে।
শিক্ষকদের মনের এই গভীর অনিশ্চয়তা দূর করতে অবিলম্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সরকারি নির্দেশনা জারির দাবি জানান তিনি।
শিক্ষকদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান নিয়মে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের শতভাগ উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাস পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সেই বৈষম্যের শিকার হয়ে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধরনের বৈষম্য শিক্ষক সমাজের পেশাগত মর্যাদার ক্ষেত্রে এক বিরাট ব্যবধান ও অসন্তোষ তৈরি করেছে।
এই তীব্র বৈষম্য চিরতরে দূর করে শিক্ষক সমাজের জন্য শতভাগ উৎসব ভাতা দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছেন এই শিক্ষকনেতা।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আবারও রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। বদলি প্রক্রিয়ার দ্রুত বাস্তবায়ন, নবম পে-স্কেল কার্যকর করা এবং মূল বেতনের সমপরিমাণ শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে তারা এই আন্দোলন শুরু করবেন।
প্রাথমিকভাবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে এই কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হলেও শিক্ষকদের সার্বিক সুবিধা এবং যাতায়াতের কথা গভীরভাবে বিবেচনা করে আন্দোলনের স্থান পরিবর্তন করে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী গণমাধ্যমকে এই নতুন কর্মসূচি ও স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেদের অধিকার আদায়ে শিক্ষকরা সব সময় একতাবদ্ধ। অসংখ্য শিক্ষক এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেশের দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসবেন। এজন্য শিক্ষকদের জোরালো চাওয়া ছিল আন্দোলনের ভেন্যু পরিবর্তনের। শিক্ষকদের স্বার্থে এবং তাদের ভোগান্তি কমাতে আন্দোলনের ভেন্যু জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা ডিএমপি কমিশনার বরাবর যথাযথ অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি।’
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানান, শিক্ষকদের বদলির আবেদন গ্রহণের দীর্ঘ দেড় মাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বদলির ফল প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে নিজ বাড়ি এবং পরিবার থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে দুর্গম এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের চরম অমানবিক ও কষ্টকর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এই বদলির ফল প্রকাশ করার জোর দাবি জানান তিনি।
এছাড়া শিক্ষকদের নতুন অর্থনৈতিক দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি মাস থেকে নবম পে-স্কেল অনুযায়ী নতুন বেতন-ভাতা পাবেন। অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে এই নতুন পে-স্কেলের সুফল বা বেতন পাবেন, তা এখনো সম্পূর্ণ অনিশ্চিত ও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন রয়েছে।
শিক্ষকদের মনের এই গভীর অনিশ্চয়তা দূর করতে অবিলম্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সরকারি নির্দেশনা জারির দাবি জানান তিনি।
শিক্ষকদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান নিয়মে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের শতভাগ উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাস পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সেই বৈষম্যের শিকার হয়ে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধরনের বৈষম্য শিক্ষক সমাজের পেশাগত মর্যাদার ক্ষেত্রে এক বিরাট ব্যবধান ও অসন্তোষ তৈরি করেছে।
এই তীব্র বৈষম্য চিরতরে দূর করে শিক্ষক সমাজের জন্য শতভাগ উৎসব ভাতা দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছেন এই শিক্ষকনেতা।

আপনার মতামত লিখুন