ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাসুর রোডের একটি আটতলা ভবনের আটতলায় অবস্থিত এস এস টয় নামক একটি খেলনা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
সোমবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান। জনবহুল এই এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে আমরা কেরানীগঞ্জের আতাসুর রোডের আটতলা ভবনে আগুন লাগার খবর পাই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কেরানীগঞ্জ স্টেশন থেকে দুইটি ইউনিট ও পোস্তগোলা থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে দ্রুত রওনা হয়। আমাদের কর্মীরা আটতলা ভবনে গিয়ে দেখতে পান সেখানে প্রচণ্ড ধোঁয়া এবং ভেতরে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও তিনটি ইউনিট এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা সত্ত্বেও আমাদের কর্মীরা মাত্র দেড় ঘণ্টার ভেতরেই আগুনটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
কারখানার ভেতরের ভয়ঙ্কর পরিবেশ তুলে ধরে কাজী নজমুজ্জামান আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি যে ভেতরে অনেক লোক আটকা পড়া অবস্থায় ছিল। এই আশঙ্কা থেকেই আমরা হেডকোয়ার্টার থেকে রিজার্ভ আরও তিনটা ইউনিট এনে প্রস্তুত রাখি। টিটিএল, বিশেষ পানিবাহী গাড়ি এবং বিএ টেন্ডার ঘটনাস্থলে আনা হলেও সৌভাগ্যবশত এগুলো ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি। ভবনটার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে রং ও থিনার রাখা ছিল। এগুলো দিয়ে মূলত শিশুদের খেলনায় রঙের কাজ করা হতো। রঙের কাজ করার ঠিক সেই মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়, যার কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভেতরে একজন মানুষ মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
কারখানাটিতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত এই ধরনের কারখানাগুলো স্থাপন করতে গেলে ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট থেকে যথাযথ তদারকি করার কথা থাকে। তবে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কি না জানতে চাইলে আমরা ঘটনাস্থলে কেবল কয়েকটি সাধারণ ফায়ার এক্সটিংগুইশার দেখতে পেয়েছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ভবনটা পুরোটাই একটা মৃত্যুকূপের মতো ছিল। আমরা যখন ওপরে উঠেছি, তখন দেখতে পেয়েছি যে প্রত্যেক তলায় প্লাস্টিকের জঞ্জাল যেখানে-সেখানে বিশৃঙ্খলভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল।
কারখানাটির কোনো বৈধ লাইসেন্স বা ফায়ার সেফটি প্ল্যান ছিল কি না সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত আগুন নেভানো এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা। তাই কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স বা সেফটি প্ল্যান সঠিকভাবে দেওয়া ছিল কি না, তা আমরা পরবর্তীতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে নিশ্চিতভাবে বলতে পারব।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাসুর রোডের একটি আটতলা ভবনের আটতলায় অবস্থিত এস এস টয় নামক একটি খেলনা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
সোমবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান। জনবহুল এই এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে আমরা কেরানীগঞ্জের আতাসুর রোডের আটতলা ভবনে আগুন লাগার খবর পাই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কেরানীগঞ্জ স্টেশন থেকে দুইটি ইউনিট ও পোস্তগোলা থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে দ্রুত রওনা হয়। আমাদের কর্মীরা আটতলা ভবনে গিয়ে দেখতে পান সেখানে প্রচণ্ড ধোঁয়া এবং ভেতরে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও তিনটি ইউনিট এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা সত্ত্বেও আমাদের কর্মীরা মাত্র দেড় ঘণ্টার ভেতরেই আগুনটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
কারখানার ভেতরের ভয়ঙ্কর পরিবেশ তুলে ধরে কাজী নজমুজ্জামান আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি যে ভেতরে অনেক লোক আটকা পড়া অবস্থায় ছিল। এই আশঙ্কা থেকেই আমরা হেডকোয়ার্টার থেকে রিজার্ভ আরও তিনটা ইউনিট এনে প্রস্তুত রাখি। টিটিএল, বিশেষ পানিবাহী গাড়ি এবং বিএ টেন্ডার ঘটনাস্থলে আনা হলেও সৌভাগ্যবশত এগুলো ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি। ভবনটার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে রং ও থিনার রাখা ছিল। এগুলো দিয়ে মূলত শিশুদের খেলনায় রঙের কাজ করা হতো। রঙের কাজ করার ঠিক সেই মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়, যার কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভেতরে একজন মানুষ মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
কারখানাটিতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত এই ধরনের কারখানাগুলো স্থাপন করতে গেলে ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট থেকে যথাযথ তদারকি করার কথা থাকে। তবে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কি না জানতে চাইলে আমরা ঘটনাস্থলে কেবল কয়েকটি সাধারণ ফায়ার এক্সটিংগুইশার দেখতে পেয়েছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ভবনটা পুরোটাই একটা মৃত্যুকূপের মতো ছিল। আমরা যখন ওপরে উঠেছি, তখন দেখতে পেয়েছি যে প্রত্যেক তলায় প্লাস্টিকের জঞ্জাল যেখানে-সেখানে বিশৃঙ্খলভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছিল।
কারখানাটির কোনো বৈধ লাইসেন্স বা ফায়ার সেফটি প্ল্যান ছিল কি না সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত আগুন নেভানো এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা। তাই কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স বা সেফটি প্ল্যান সঠিকভাবে দেওয়া ছিল কি না, তা আমরা পরবর্তীতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে নিশ্চিতভাবে বলতে পারব।

আপনার মতামত লিখুন