সংবাদ

এমআরএনএ প্রযুক্তিতে ক্যানসারের চিকিৎসায় এলো নতুন দিগন্ত


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

এমআরএনএ প্রযুক্তিতে ক্যানসারের চিকিৎসায় এলো নতুন দিগন্ত

ত্বকের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ভয়ংকর ক্যানসার হলো মেলানোমা। সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করার পরও এই রোগটি যেকোনো সময় আবার ফিরে আসার মারাত্মক আশঙ্কা থাকে। তবে ক্যানসার চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন ও যুগান্তকারী সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্ক। তাদের তৈরি করা একটি নতুন টিকা ক্যানসার ফিরে আসা কিংবা এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে বলে এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, তাদের উদ্ভাবিত 'ইনটিসমেরান অটোজিন' নামক এই টিকাটির তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসার তুলনায় ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে।

একই সঙ্গে, ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া কিংবা তাতে মৃত্যুর ঝুঁকিও ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই টিকাটি ব্যবহারের ফলে রোগীদের সামগ্রিকভাবে বেঁচে থাকার সময় ঠিক কতটা দীর্ঘ হচ্ছে, সেসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

এমআরএনএ বা মেসেঞ্জার আরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই মূলত এই অভিনব টিকাটি তৈরি করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে করোনাভাইরাসের সফল টিকা তৈরিতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এতে রোগীর শরীরের নিজস্ব টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে স্বতন্ত্র টিকা তৈরি করা হয়।

ফলে এই টিকাটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট রোগীর ক্যানসারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে সরাসরি আক্রমণ করতে পারে। এছাড়া এই থেরাপির কার্যকারিতা বহুগুণে বাড়িয়ে তুলতে এর সঙ্গে প্রচলিত একটি বিশেষ ইমিউনোথেরাপির ওষুধও সংযুক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে ক্যানসার গবেষণাবিষয়ক স্বনামধন্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পার্কার ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কারেন নুডসেন পরীক্ষার এই চমৎকার ফলকে অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি মনে করেন, এই গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমআরএনএ প্রযুক্তির অসীম সম্ভাবনাকে আরও অনেক বেশি জোরালো করে তুলেছে। তবে নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীর কাঁপুনি এবং ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে সাময়িক ব্যথা অনুভূত হওয়া। তাছাড়া চিকিৎসাটির সুদূর প্রসারী বা দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও গভীর ও দীর্ঘ মেয়াদী তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে একাই দেশটিতে মেলানোমায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা রোগীদের চিকিৎসায় এই টিকাটি যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করতে পারে, তবে তা ক্যানসার চিকিৎসায় এক বিপ্লব ঘটাবে।

মডার্না ও মার্ক যৌথভাবে জানিয়েছে, এই পরীক্ষার সন্তোষজনক ফলের ওপর ভিত্তি করে তারা বর্তমানে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ ইতিপূর্বে এ ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধী কোনো টিকা মূল্যায়ন করেনি বলে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে ঠিক কত সময় লাগতে পারে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এর পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা অগ্ন্যাশয়, ফুসফুস, স্তন এবং মাথা ও ঘাড়ের মারাত্মক ক্যানসারের টিকা নিয়ে ও সমানভাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেলানোমার চিকিৎসায় অর্জিত এই অভাবনীয় সাফল্য পরবর্তীতে অন্য যেকোনো কঠিন ক্যানসারের চিকিৎসায় একইভাবে সফলভাবে কাজে লাগতে পারে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য আরও ব্যাপকভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন বলে গবেষকরা মনে করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


এমআরএনএ প্রযুক্তিতে ক্যানসারের চিকিৎসায় এলো নতুন দিগন্ত

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ত্বকের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ভয়ংকর ক্যানসার হলো মেলানোমা। সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করার পরও এই রোগটি যেকোনো সময় আবার ফিরে আসার মারাত্মক আশঙ্কা থাকে। তবে ক্যানসার চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন ও যুগান্তকারী সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্ক। তাদের তৈরি করা একটি নতুন টিকা ক্যানসার ফিরে আসা কিংবা এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে বলে এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, তাদের উদ্ভাবিত 'ইনটিসমেরান অটোজিন' নামক এই টিকাটির তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসার তুলনায় ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে।

একই সঙ্গে, ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া কিংবা তাতে মৃত্যুর ঝুঁকিও ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই টিকাটি ব্যবহারের ফলে রোগীদের সামগ্রিকভাবে বেঁচে থাকার সময় ঠিক কতটা দীর্ঘ হচ্ছে, সেসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

এমআরএনএ বা মেসেঞ্জার আরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই মূলত এই অভিনব টিকাটি তৈরি করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে করোনাভাইরাসের সফল টিকা তৈরিতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এতে রোগীর শরীরের নিজস্ব টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে স্বতন্ত্র টিকা তৈরি করা হয়।

ফলে এই টিকাটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট রোগীর ক্যানসারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে সরাসরি আক্রমণ করতে পারে। এছাড়া এই থেরাপির কার্যকারিতা বহুগুণে বাড়িয়ে তুলতে এর সঙ্গে প্রচলিত একটি বিশেষ ইমিউনোথেরাপির ওষুধও সংযুক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে ক্যানসার গবেষণাবিষয়ক স্বনামধন্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পার্কার ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কারেন নুডসেন পরীক্ষার এই চমৎকার ফলকে অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি মনে করেন, এই গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমআরএনএ প্রযুক্তির অসীম সম্ভাবনাকে আরও অনেক বেশি জোরালো করে তুলেছে। তবে নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীর কাঁপুনি এবং ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে সাময়িক ব্যথা অনুভূত হওয়া। তাছাড়া চিকিৎসাটির সুদূর প্রসারী বা দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও গভীর ও দীর্ঘ মেয়াদী তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে একাই দেশটিতে মেলানোমায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা রোগীদের চিকিৎসায় এই টিকাটি যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করতে পারে, তবে তা ক্যানসার চিকিৎসায় এক বিপ্লব ঘটাবে।

মডার্না ও মার্ক যৌথভাবে জানিয়েছে, এই পরীক্ষার সন্তোষজনক ফলের ওপর ভিত্তি করে তারা বর্তমানে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ ইতিপূর্বে এ ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধী কোনো টিকা মূল্যায়ন করেনি বলে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে ঠিক কত সময় লাগতে পারে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এর পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা অগ্ন্যাশয়, ফুসফুস, স্তন এবং মাথা ও ঘাড়ের মারাত্মক ক্যানসারের টিকা নিয়ে ও সমানভাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেলানোমার চিকিৎসায় অর্জিত এই অভাবনীয় সাফল্য পরবর্তীতে অন্য যেকোনো কঠিন ক্যানসারের চিকিৎসায় একইভাবে সফলভাবে কাজে লাগতে পারে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য আরও ব্যাপকভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন বলে গবেষকরা মনে করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত