সংবাদ

শিক্ষকতা জীবনের বর্ণিল অধ্যায় শেষে ভোলার ফজলুর রহমানের বিদায় সংবর্ধনা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

শিক্ষকতা জীবনের বর্ণিল অধ্যায় শেষে ভোলার ফজলুর রহমানের বিদায় সংবর্ধনা
ছবি : সংবাদ

​শিক্ষকতা কেবল কোনো সাধারণ পেশা নয়, এটি একটি প্রদীপ যা নিজে জ্বলে অন্যকে আলোর পথ দেখায়।

দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তি টেনে তেমনই এক আলোকিত মানুষ, ভোলা সদরের ৫৫নং চরসামাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান সম্প্রতি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

গত ১৪ অক্টোবর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘণ ও অশ্রুসিক্ত পরিবেশে তার সম্মানে ‘বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান’ আয়োজন করা হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গুণীজনদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক আবেগপ্রবণ ও মায়াবী রূপ নেয়।

​আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের বহু আগে থেকেই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মো. ফজলুর রহমান। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ভোলা সদরের ঐতিহ্যবাহী চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন।

পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর তিনি সততা, একনিষ্ঠতা ও অনন্য মেধার সাক্ষর রেখে যান একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। চর রমেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরাদ ছবুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ব্যাংকের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা আজও তার স্নেহমাখা পাঠদানের শৈলী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

​তার এই অসামান্য কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ২০১১ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সম্মানিত হন। এছাড়া ২০১৬ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ মনোনয়নে তিনি থাইল্যান্ড সফর করে নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছিলেন। ভোলা সদরের চৌমুহনীর ঐতিহ্যবাহী সেকান্দার আলী হাজী বাড়ির মরহুম নুরুল হক হাওলাদার ও মরহুমা আনোয়ারা বেগমের সুযোগ্য পুত্র মো. ফজলুর রহমান ব্যক্তিজীবনে চার সন্তানের জনক।

তার সহধর্মিণী মোহসেন আরা বেগমও একজন শিক্ষক; তিনি জেলা সদরের পশ্চিম রুহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেছেন। এই শিক্ষক দম্পতির সন্তানরাও সমাজে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।

তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় একটি গণমাধ্যমে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তাদের বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কর্মরত আছেন।

​বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে চরম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সহকর্মীরা এ সময় স্মৃতিচারণ করে জানান, ফজলুর রহমান কেবল একজন প্রধান শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি মানুষের এক সত্যিকারের অভিভাবক, সহকর্মীদের সঠিক পথপ্রদর্শক এবং শিক্ষার্থীদের পরম শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব।

অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী এই শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করে একটি বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


শিক্ষকতা জীবনের বর্ণিল অধ্যায় শেষে ভোলার ফজলুর রহমানের বিদায় সংবর্ধনা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​শিক্ষকতা কেবল কোনো সাধারণ পেশা নয়, এটি একটি প্রদীপ যা নিজে জ্বলে অন্যকে আলোর পথ দেখায়।

দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তি টেনে তেমনই এক আলোকিত মানুষ, ভোলা সদরের ৫৫নং চরসামাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান সম্প্রতি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

গত ১৪ অক্টোবর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘণ ও অশ্রুসিক্ত পরিবেশে তার সম্মানে ‘বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান’ আয়োজন করা হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গুণীজনদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক আবেগপ্রবণ ও মায়াবী রূপ নেয়।

​আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের বহু আগে থেকেই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মো. ফজলুর রহমান। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ভোলা সদরের ঐতিহ্যবাহী চরনোয়াবাদ মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন।

পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর তিনি সততা, একনিষ্ঠতা ও অনন্য মেধার সাক্ষর রেখে যান একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। চর রমেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরাদ ছবুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ব্যাংকের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা আজও তার স্নেহমাখা পাঠদানের শৈলী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

​তার এই অসামান্য কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ২০১১ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সম্মানিত হন। এছাড়া ২০১৬ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ মনোনয়নে তিনি থাইল্যান্ড সফর করে নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছিলেন। ভোলা সদরের চৌমুহনীর ঐতিহ্যবাহী সেকান্দার আলী হাজী বাড়ির মরহুম নুরুল হক হাওলাদার ও মরহুমা আনোয়ারা বেগমের সুযোগ্য পুত্র মো. ফজলুর রহমান ব্যক্তিজীবনে চার সন্তানের জনক।

তার সহধর্মিণী মোহসেন আরা বেগমও একজন শিক্ষক; তিনি জেলা সদরের পশ্চিম রুহিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেছেন। এই শিক্ষক দম্পতির সন্তানরাও সমাজে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।

তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় একটি গণমাধ্যমে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তাদের বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কর্মরত আছেন।

​বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে চরম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সহকর্মীরা এ সময় স্মৃতিচারণ করে জানান, ফজলুর রহমান কেবল একজন প্রধান শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি মানুষের এক সত্যিকারের অভিভাবক, সহকর্মীদের সঠিক পথপ্রদর্শক এবং শিক্ষার্থীদের পরম শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব।

অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী এই শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করে একটি বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত