সংবাদ

মালয়েশিয়ার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

মালয়েশিয়ার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বা এফটিএ-র প্রথম দফার আলোচনা মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটানা চলবে।

তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে দেশটির সাথে দরকষাকষির নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে গিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চুক্তি নিয়ে আলোচনার মূল দায়িত্বে থাকা এফটিএ অনুবিভাগের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার আকস্মিক বদলি ও নতুন পদে পদায়নের কারণে মন্ত্রণালয়কে বাধ্য হয়ে শেষ মুহূর্তে সম্পূর্ণ নতুন করে আলোচক দল সাজাতে হয়েছে। ফলে এই ধরনের ‘স্পর্শকাতর ও জটিল’ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার ৩০ সদস্যের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদ এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সাধারণত বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত এফটিএ অনুবিভাগই এ ধরনের আন্তর্জাতিক আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি এই বিভাগের অত্যন্ত দক্ষ দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর তার এই নতুন পদায়ন সম্পন্ন হয়। এর আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির সফল আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধান আলোচক বা চিফ নেগোশিয়েটর হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

শুধু তাই নয়, এই একই বিভাগের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদও সম্প্রতি বদলি হয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চলে গেছেন। তিনি অতীতে বাংলাদেশের পক্ষে একাধিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় উপপ্রধান আলোচক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর ফলে এফটিএ অনুবিভাগের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিতেই মালয়েশিয়ার বিশাল প্রতিনিধিদলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে।

এর মধ্যে আবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী মাত্র দুদিন আগে যোগদান করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার পূর্বের কোনো বড় অভিজ্ঞতা তার নেই। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা পরিচালনার মূল দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের ওপর। একই সঙ্গে উপ-প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একই অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমানেকে। যদিও তারা পূর্বে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটিতে কমবেশি যুক্ত ছিলেন, তবে এই মাপের অত্যন্ত বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় প্রধান নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, গত সোমবার দুপুরে অর্থাৎ ঠিক আলোচনা শুরুর আগের দিন তাদের ওপর এই বড় দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে অর্পণ করা হয়। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এই জটিল বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি এখন বাণিজ্যাঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

এদিকে আকস্মিক নেতৃত্বের এই পরিবর্তন ও নতুন আলোচক দল গঠন নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, নেতৃত্ব ও ব্যক্তিতে পরিবর্তন এলেও পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ীই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার একটি স্থানীয় হোটেলে এই প্রথম দফার আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যসচিব।

এর আগে দুই দেশের পক্ষ থেকে নিজ নিজ খসড়া প্রস্তাব পারস্পরিকভাবে বিনিময় করা হয়েছে এবং আজকের বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া রাতে মালয়েশীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে মতবিনিময় করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার এই এফটিএ আলোচনা উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এই বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছিলেন। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই এই চুক্তি সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করার শক্তিশালী অঙ্গীকারও রয়েছে উভয় দেশের পক্ষ থেকে।

এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মূল কাঠামোর আওতায় দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় প্রধান অগ্রাধিকার পাবে। এক দেশ অন্য দেশকে ঠিক কী ধরনের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হবে।

পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুদৃঢ় করা, তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণ এবং হালাল পণ্যের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান তৈরির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে চলে আসতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর বিপরীতে একই নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করেছে মাত্র প্রায় ২২ কোটি ডলারের পণ্য। এই সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয়, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের হিসাবে বর্তমানে বেশ বড় ধরনের ব্যবধান ও ব্যবধানজনিত বাস্তবতা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


মালয়েশিয়ার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বা এফটিএ-র প্রথম দফার আলোচনা মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটানা চলবে।

তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে দেশটির সাথে দরকষাকষির নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে গিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চুক্তি নিয়ে আলোচনার মূল দায়িত্বে থাকা এফটিএ অনুবিভাগের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার আকস্মিক বদলি ও নতুন পদে পদায়নের কারণে মন্ত্রণালয়কে বাধ্য হয়ে শেষ মুহূর্তে সম্পূর্ণ নতুন করে আলোচক দল সাজাতে হয়েছে। ফলে এই ধরনের ‘স্পর্শকাতর ও জটিল’ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার ৩০ সদস্যের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদ এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সাধারণত বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত এফটিএ অনুবিভাগই এ ধরনের আন্তর্জাতিক আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি এই বিভাগের অত্যন্ত দক্ষ দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর তার এই নতুন পদায়ন সম্পন্ন হয়। এর আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির সফল আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধান আলোচক বা চিফ নেগোশিয়েটর হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

শুধু তাই নয়, এই একই বিভাগের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদও সম্প্রতি বদলি হয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চলে গেছেন। তিনি অতীতে বাংলাদেশের পক্ষে একাধিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় উপপ্রধান আলোচক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর ফলে এফটিএ অনুবিভাগের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিতেই মালয়েশিয়ার বিশাল প্রতিনিধিদলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে।

এর মধ্যে আবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী মাত্র দুদিন আগে যোগদান করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার পূর্বের কোনো বড় অভিজ্ঞতা তার নেই। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা পরিচালনার মূল দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের ওপর। একই সঙ্গে উপ-প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একই অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমানেকে। যদিও তারা পূর্বে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটিতে কমবেশি যুক্ত ছিলেন, তবে এই মাপের অত্যন্ত বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় প্রধান নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, গত সোমবার দুপুরে অর্থাৎ ঠিক আলোচনা শুরুর আগের দিন তাদের ওপর এই বড় দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে অর্পণ করা হয়। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এই জটিল বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি এখন বাণিজ্যাঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

এদিকে আকস্মিক নেতৃত্বের এই পরিবর্তন ও নতুন আলোচক দল গঠন নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, নেতৃত্ব ও ব্যক্তিতে পরিবর্তন এলেও পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ীই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার একটি স্থানীয় হোটেলে এই প্রথম দফার আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যসচিব।

এর আগে দুই দেশের পক্ষ থেকে নিজ নিজ খসড়া প্রস্তাব পারস্পরিকভাবে বিনিময় করা হয়েছে এবং আজকের বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া রাতে মালয়েশীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে মতবিনিময় করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার এই এফটিএ আলোচনা উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এই বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছিলেন। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই এই চুক্তি সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করার শক্তিশালী অঙ্গীকারও রয়েছে উভয় দেশের পক্ষ থেকে।

এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মূল কাঠামোর আওতায় দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় প্রধান অগ্রাধিকার পাবে। এক দেশ অন্য দেশকে ঠিক কী ধরনের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হবে।

পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুদৃঢ় করা, তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণ এবং হালাল পণ্যের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান তৈরির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে চলে আসতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর বিপরীতে একই নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করেছে মাত্র প্রায় ২২ কোটি ডলারের পণ্য। এই সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয়, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের হিসাবে বর্তমানে বেশ বড় ধরনের ব্যবধান ও ব্যবধানজনিত বাস্তবতা রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত