সংবাদ

লালমোহনে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ৪ শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ


প্রতিনিধি, লালমোহন (ভোলা)
প্রতিনিধি, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

লালমোহনে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ৪ শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ
ছবি : সংবাদ

ভোলার লালমোহনে সড়কের দুই পাশ থেকে চার শতাধিক সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কাটা চললেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে উপজেলার কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সড়কের পাশের কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দেওয়ায়, উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে কাটার উপযোগী গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউএনও।

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা ও সেগুলোর টেন্ডারমূল্য নির্ধারণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই গাছগুলো বন বিভাগের মালিকানাধীন নয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এ ঘটনায় রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহর নাম উঠে এসেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কাটা গাছগুলোর অধিকাংশ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু গাছ স্থানীয় মো. মনিরের স-মিলে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। গাছ কাটার চিহ্ন আড়াল করতে অনেক গাছের গোড়া সড়কের চলমান কাজের মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় স-মিল মালিক মো. মনিরের বিরুদ্ধেও গাছ কাটা ও বিক্রিতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম মাস্টার ও মাসুম বিল্লাহর কথামতো গাছ কাটার লোক ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি, তবে নিজে কোনো গাছ কাটেননি।

গাছ কাটা শ্রমিক মো. মামুন জানান, তিনি পারিশ্রমিকে গাছ কাটার কাজ করেন এবং জসিম মাস্টারের নির্দেশেই কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটেছেন।

তবে অভিযুক্ত রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশের ৪৮টি গাছ ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দরপত্র পেয়েছেন এবং তারা সে গাছগুলোই কাটছেন।

এদিকে সড়কের পাশের গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে দ্বিধা থাকায় বিষয়টি বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সড়কের পাশ থেকে গাছ কাটার বিষয়টি তিনি জানেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, গাছ কাটার অনুমোদন ও দরপত্রের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ রোপণের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ১০ থেকে ১২ দিন আগে সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অধিকাংশ গাছ কাটা শেষ হয়েছে এবং এখনো প্রকাশ্যে গাছ কাটা চলছে। এতে প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


লালমোহনে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ৪ শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভোলার লালমোহনে সড়কের দুই পাশ থেকে চার শতাধিক সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কাটা চললেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে উপজেলার কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সড়কের পাশের কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দেওয়ায়, উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে কাটার উপযোগী গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউএনও।

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা ও সেগুলোর টেন্ডারমূল্য নির্ধারণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই গাছগুলো বন বিভাগের মালিকানাধীন নয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এ ঘটনায় রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহর নাম উঠে এসেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কাটা গাছগুলোর অধিকাংশ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু গাছ স্থানীয় মো. মনিরের স-মিলে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। গাছ কাটার চিহ্ন আড়াল করতে অনেক গাছের গোড়া সড়কের চলমান কাজের মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় স-মিল মালিক মো. মনিরের বিরুদ্ধেও গাছ কাটা ও বিক্রিতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম মাস্টার ও মাসুম বিল্লাহর কথামতো গাছ কাটার লোক ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি, তবে নিজে কোনো গাছ কাটেননি।

গাছ কাটা শ্রমিক মো. মামুন জানান, তিনি পারিশ্রমিকে গাছ কাটার কাজ করেন এবং জসিম মাস্টারের নির্দেশেই কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটেছেন।

তবে অভিযুক্ত রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশের ৪৮টি গাছ ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দরপত্র পেয়েছেন এবং তারা সে গাছগুলোই কাটছেন।

এদিকে সড়কের পাশের গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে দ্বিধা থাকায় বিষয়টি বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সড়কের পাশ থেকে গাছ কাটার বিষয়টি তিনি জানেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, গাছ কাটার অনুমোদন ও দরপত্রের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ রোপণের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ১০ থেকে ১২ দিন আগে সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অধিকাংশ গাছ কাটা শেষ হয়েছে এবং এখনো প্রকাশ্যে গাছ কাটা চলছে। এতে প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত