সংবাদ

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শহরের পাশে চায় শরীয়তপুরবাসী


কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শহরের পাশে চায় শরীয়তপুরবাসী
জেলা শহরের আশপাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান।। ছবি : সংবাদ

শরীয়তপুর জেলা শহরের আশপাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের দাবি, জেলা শহরের কাছাকাছি এবং ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা জেলা শহরের পাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আগামী সোমবারের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে গত শুক্রবার ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের ডাগরীজোড়া এলাকায় মানববন্ধন করেন জেলার সর্বস্তরের জনগণ। এতে শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে জেলা শহরের কাছাকাছি, ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘জাগো শরীয়তপুর’ ব্যানারে একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকেও দাবি পূরণ না হলে ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শরীয়তপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য গত ১৬ অক্টোবর জেলার ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় একটি জমি পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর এবং জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। ওই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে পূর্ব ডামুড্যা এলাকাটি জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টি শহরের আশপাশে স্থাপনের দাবি তুলেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, জেলা শহরের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে যোগাযোগ, আবাসন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা গ্রহণ সহজ হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের অক্টোবরে শরীয়তপুরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন প্রণয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে চিঠি দেয়।

পরবর্তী সময়ে খসড়া আইনটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণের পর ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। একই বছরের ১২ জুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম নির্ধারণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর’। ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখে।

চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় জমি পরিদর্শন ও ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণার পর জেলা শহরের আশপাশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এখন দাবিটি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন আন্দোলনকারীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শহরের পাশে চায় শরীয়তপুরবাসী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুর জেলা শহরের আশপাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের দাবি, জেলা শহরের কাছাকাছি এবং ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা জেলা শহরের পাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আগামী সোমবারের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে গত শুক্রবার ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের ডাগরীজোড়া এলাকায় মানববন্ধন করেন জেলার সর্বস্তরের জনগণ। এতে শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে জেলা শহরের কাছাকাছি, ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘জাগো শরীয়তপুর’ ব্যানারে একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকেও দাবি পূরণ না হলে ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শরীয়তপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য গত ১৬ অক্টোবর জেলার ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় একটি জমি পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর এবং জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। ওই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে পূর্ব ডামুড্যা এলাকাটি জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টি শহরের আশপাশে স্থাপনের দাবি তুলেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, জেলা শহরের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে যোগাযোগ, আবাসন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা গ্রহণ সহজ হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের অক্টোবরে শরীয়তপুরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন প্রণয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে চিঠি দেয়।

পরবর্তী সময়ে খসড়া আইনটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণের পর ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। একই বছরের ১২ জুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম নির্ধারণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর’। ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখে।

চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় জমি পরিদর্শন ও ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণার পর জেলা শহরের আশপাশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এখন দাবিটি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন আন্দোলনকারীরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত