সংবাদ

সারের দাবিতে লালমনিরহাটে মহাসড়ক অবরোধ


মনিরুজ্জামান সরকার, লালমনিরহাট
মনিরুজ্জামান সরকার, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

সারের দাবিতে লালমনিরহাটে মহাসড়ক অবরোধ
ছবি : সংবাদ

সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় সার ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার বিতরণের অভিযোগ তোলেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

কৃষকদের অভিযোগ, চরাঞ্চলে সাধারণত আগাম ভুট্টা বীজ রোপণ করতে হয়। কিন্তু সারের ডিলাররা সার দেওয়ার কথা বলে কৃষকদের দিনের পর দিন ঘোরাচ্ছেন এবং নানা টালবাহানা করছেন। কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি না করে তা কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, ডিলারের লোকজন একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে ১০ থেকে ১২ বস্তা করে সার দিচ্ছেন। অথচ সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন।

খবর পেয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র এবং কৃষি বিভাগের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা বিক্ষুব্ধ কৃষকদের তাৎক্ষণিকভাবে সার সরবরাহের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

কৃষক একরামুল হক বলেন, ‘যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে সার না পেলে আমরা কীভাবে বাঁচব? দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমেছি।’

চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ‘ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সার সরবরাহ চাই। সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

আরেক কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে কীভাবে চাষাবাদ করব? সময়মতো সার দিতে না পারলে আমাদের পুরো মৌসুমের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘সার বিতরণের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ চলছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে তা শেষ হবে। কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।’

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র বলেন, ‘কৃষক ভাইদের আমরা ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছি। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার আছে এবং কার্ডধারী প্রত্যেক কৃষকই সার পাবেন। এ বিষয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


সারের দাবিতে লালমনিরহাটে মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় সার ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার বিতরণের অভিযোগ তোলেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

কৃষকদের অভিযোগ, চরাঞ্চলে সাধারণত আগাম ভুট্টা বীজ রোপণ করতে হয়। কিন্তু সারের ডিলাররা সার দেওয়ার কথা বলে কৃষকদের দিনের পর দিন ঘোরাচ্ছেন এবং নানা টালবাহানা করছেন। কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি না করে তা কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, ডিলারের লোকজন একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে ১০ থেকে ১২ বস্তা করে সার দিচ্ছেন। অথচ সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন।

খবর পেয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র এবং কৃষি বিভাগের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা বিক্ষুব্ধ কৃষকদের তাৎক্ষণিকভাবে সার সরবরাহের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।

কৃষক একরামুল হক বলেন, ‘যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে সার না পেলে আমরা কীভাবে বাঁচব? দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমেছি।’

চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ‘ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সার সরবরাহ চাই। সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

আরেক কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে কীভাবে চাষাবাদ করব? সময়মতো সার দিতে না পারলে আমাদের পুরো মৌসুমের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘সার বিতরণের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ চলছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে তা শেষ হবে। কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।’

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র বলেন, ‘কৃষক ভাইদের আমরা ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছি। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার আছে এবং কার্ডধারী প্রত্যেক কৃষকই সার পাবেন। এ বিষয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত