মাদারীপুর শহরে একটি ভবনে থাই গ্লাসের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাইম মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোর শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় মাত্র ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শহরের ভূঁইয়া বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাইম মোল্লা মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বানিয়াবহু গ্রামের সামছু মোল্লার ছেলে। সে পরিবার নিয়ে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ বাঁশতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত এবং স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা শামীম রাজিন নামের এক ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। তবে অ্যাপার্টমেন্টটির জানালাগুলো আগে থেকেই অপ্রস্তুত ছিল। ভাড়াটে শামীম রাজিন বাড়িওয়ালা সাইফুল ফকিরকে জানালা লাগানোর কথা বললে, বাড়িওয়ালা জানান-অফিস ভাড়া বাবদ অগ্রিম জামানত ২ লাখ টাকা থেকে খরচ করে কাজ করিয়ে নিতে এবং পরে হিসাব বুঝিয়ে দিতে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়াটে শামীম রাজিন নিজেই শ্রমিক ঠিক করে কাজ শুরু করান।
মঙ্গলবার সকালে সাইম মোল্লা জানালা লাগানোর জন্য দেয়ালের ওপাশে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ‘এই মৃত্যুর জন্য আমরা কাকে দোষ দেব? আমরা কি আমাদের ছেলেকে আর ফেরত পাব?’ তবে মীমাংসার বিষয়টি নিয়ে তারা জানান, স্থানীয়রা ৩ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। নিহত সাইম মোল্লার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করলেও পরবর্তীতে স্থানীয়দের চাপে আর কিছু বলতে চাননি।
ঘটনার পর থেকে বাড়িওয়ালা সাইফুল ফকির পলাতক রয়েছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, স্থানীয়রা বসে একটি মীমাংসা করে দিয়েছেন। তবে ৩ লাখ টাকায় মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাড়িওয়ালা সাইফুল ফকিরের অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাড়ি নির্মাণের ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও জানান, পৌর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পৌরসভা থেকে ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু বাড়িওয়ালা তা মানেননি।
ভাড়াটে ইঞ্জিনিয়ার শামীম রাজিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাড়িওয়ালা দূরে থাকেন এবং তিনিই লোক ঠিক করে কাজ করতে ও ভাউচার দিতে বলেছিলেন। নিজের দায়িত্বের কথা এড়িয়ে গিয়ে সমস্ত ঘটনার জন্য তিনি বাড়িওয়ালাকেই দোষারোপ করেন।
মাদারীপুর পৌর শহর পরিকল্পনাবিদ আরাফাত জামান জানান, ভবনটি পৌরসভা থেকে এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। লিটন ফকিরের নামে আবেদন করা হলেও তার ভাই সাইফুল্লাহ ফকির এটি দেখাশোনা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ওই ভবনটি সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন ও অবৈধ।
এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত এক উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, ঘটনার পর উভয়পক্ষ বসে একটি আপস মীমাংসা করে নিয়েছেন এবং এই মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন মর্মে থানায় লিখিত দিয়েছেন। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মাদারীপুর শহরে একটি ভবনে থাই গ্লাসের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাইম মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোর শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় মাত্র ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শহরের ভূঁইয়া বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাইম মোল্লা মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বানিয়াবহু গ্রামের সামছু মোল্লার ছেলে। সে পরিবার নিয়ে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ বাঁশতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত এবং স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা শামীম রাজিন নামের এক ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। তবে অ্যাপার্টমেন্টটির জানালাগুলো আগে থেকেই অপ্রস্তুত ছিল। ভাড়াটে শামীম রাজিন বাড়িওয়ালা সাইফুল ফকিরকে জানালা লাগানোর কথা বললে, বাড়িওয়ালা জানান-অফিস ভাড়া বাবদ অগ্রিম জামানত ২ লাখ টাকা থেকে খরচ করে কাজ করিয়ে নিতে এবং পরে হিসাব বুঝিয়ে দিতে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়াটে শামীম রাজিন নিজেই শ্রমিক ঠিক করে কাজ শুরু করান।
মঙ্গলবার সকালে সাইম মোল্লা জানালা লাগানোর জন্য দেয়ালের ওপাশে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ‘এই মৃত্যুর জন্য আমরা কাকে দোষ দেব? আমরা কি আমাদের ছেলেকে আর ফেরত পাব?’ তবে মীমাংসার বিষয়টি নিয়ে তারা জানান, স্থানীয়রা ৩ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। নিহত সাইম মোল্লার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করলেও পরবর্তীতে স্থানীয়দের চাপে আর কিছু বলতে চাননি।
ঘটনার পর থেকে বাড়িওয়ালা সাইফুল ফকির পলাতক রয়েছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, স্থানীয়রা বসে একটি মীমাংসা করে দিয়েছেন। তবে ৩ লাখ টাকায় মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাড়িওয়ালা সাইফুল ফকিরের অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাড়ি নির্মাণের ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও জানান, পৌর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পৌরসভা থেকে ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু বাড়িওয়ালা তা মানেননি।
ভাড়াটে ইঞ্জিনিয়ার শামীম রাজিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাড়িওয়ালা দূরে থাকেন এবং তিনিই লোক ঠিক করে কাজ করতে ও ভাউচার দিতে বলেছিলেন। নিজের দায়িত্বের কথা এড়িয়ে গিয়ে সমস্ত ঘটনার জন্য তিনি বাড়িওয়ালাকেই দোষারোপ করেন।
মাদারীপুর পৌর শহর পরিকল্পনাবিদ আরাফাত জামান জানান, ভবনটি পৌরসভা থেকে এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। লিটন ফকিরের নামে আবেদন করা হলেও তার ভাই সাইফুল্লাহ ফকির এটি দেখাশোনা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ওই ভবনটি সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন ও অবৈধ।
এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত এক উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, ঘটনার পর উভয়পক্ষ বসে একটি আপস মীমাংসা করে নিয়েছেন এবং এই মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন মর্মে থানায় লিখিত দিয়েছেন। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন