ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় তীব্র খাবার পানির সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে মাদ্রাসার একমাত্র টিউবওয়েলটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও তা মেরামতে প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের এমন চরম উদাসীনতায় ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর ঐতিহ্যবাহী এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ক্লাস করতে আসে। কিন্তু বিশাল এই শিক্ষার্থী বাহিনীর জন্য পুরো ক্যাম্পাসে মাত্র একটি নলকূপ বা টিউবওয়েল রয়েছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, গত ছয় মাস ধরে সেই একমাত্র টিউবওয়েলটিও পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মাদ্রাসায় এক ফোঁটা খাবার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র গরমে পানির জন্য হাহাকার করছে শিক্ষার্থীরা। পিপাসা মেটাতে বাধ্য হয়ে অনেকে মাদ্রাসার বাইরের দূরবর্তী দোকানপাট বা আশপাশের বাড়িঘর থেকে পানি সংগ্রহ করছে। আবার অনেকে অনিরাপদ পানি পান করে পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দূর-দূরান্ত থেকে মাদ্রাসায় আসি। কিন্তু এখানে এসে এক গ্লাস পানি পর্যন্ত পানের ব্যবস্থা পাই না। ৬ মাস ধরে একটা টিউবওয়েল নষ্ট, অথচ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এটা ঠিক করছে না। আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।”
এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই চরম কষ্ট ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও উদাসীনতার কারণেই আজ আমাদের সন্তানদের এই দশা। বারবার বিষয়টি জানানোর পরও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। আমরা নিয়মিত ফি দিচ্ছি, অথচ আমাদের সন্তানেরা পানিটুকু পর্যন্ত পাচ্ছে না।”
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কারণে মাদ্রাসার পরিবেশ বর্তমানে বেশ থমথমে। যেকোনো মুহূর্তে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিতে পারেন এবং কর্তৃপক্ষের সাথে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মাদ্রাসার কামিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী গিয়াস উদ্দিন হৃদয় বলেন, “ফেনীর ঐতিহ্যবাহী সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় গত ছয় মাস ধরে তীব্র খাবার পানির সংকট চলছে। মাদ্রাসার টিউবওয়েলটি দীর্ঘ ৬ মাস যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও এটি মেরামতে বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ”
গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য, দ্রুত এই পানি সংকটের সমাধান না হলে যেকোনো সময় মাদ্রাসার স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে এবং শিক্ষার্থীরা পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই অবিলম্বে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান জরুরী।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ভালো ও বেশি পানির জন্য আমরা টিউবওয়েল বাদ দিয়ে মোটর লাগিয়েছি। কিন্তু মোটরটিও বারবার নষ্ট হচ্ছে। আমি গত সোমবারও মেকানিক এনে মেরামত করেছি, তারপরও সঠিকভাবে পানি উঠছে না। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে সাবমারসিবল টিউবওয়েলের জন্য আবেদন করেছি প্রায় এক বছর হলো। এখনও আমরা নতুন টিউবওয়েল পাইনি।
ছয় মাস আগে অকেজো একমাত্র টিউবয়েল। এরপর আর ক্যাম্পাসে পানি পাচ্ছে না দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে একটি নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন অথবা বিদ্যমান ত্রুটি মেরামতের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে এই মানবিক সংকটের সমাধান করে মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হোক, অন্যথায় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় তীব্র খাবার পানির সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে মাদ্রাসার একমাত্র টিউবওয়েলটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও তা মেরামতে প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের এমন চরম উদাসীনতায় ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর ঐতিহ্যবাহী এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ক্লাস করতে আসে। কিন্তু বিশাল এই শিক্ষার্থী বাহিনীর জন্য পুরো ক্যাম্পাসে মাত্র একটি নলকূপ বা টিউবওয়েল রয়েছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, গত ছয় মাস ধরে সেই একমাত্র টিউবওয়েলটিও পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মাদ্রাসায় এক ফোঁটা খাবার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র গরমে পানির জন্য হাহাকার করছে শিক্ষার্থীরা। পিপাসা মেটাতে বাধ্য হয়ে অনেকে মাদ্রাসার বাইরের দূরবর্তী দোকানপাট বা আশপাশের বাড়িঘর থেকে পানি সংগ্রহ করছে। আবার অনেকে অনিরাপদ পানি পান করে পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দূর-দূরান্ত থেকে মাদ্রাসায় আসি। কিন্তু এখানে এসে এক গ্লাস পানি পর্যন্ত পানের ব্যবস্থা পাই না। ৬ মাস ধরে একটা টিউবওয়েল নষ্ট, অথচ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এটা ঠিক করছে না। আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।”
এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই চরম কষ্ট ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও উদাসীনতার কারণেই আজ আমাদের সন্তানদের এই দশা। বারবার বিষয়টি জানানোর পরও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। আমরা নিয়মিত ফি দিচ্ছি, অথচ আমাদের সন্তানেরা পানিটুকু পর্যন্ত পাচ্ছে না।”
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কারণে মাদ্রাসার পরিবেশ বর্তমানে বেশ থমথমে। যেকোনো মুহূর্তে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিতে পারেন এবং কর্তৃপক্ষের সাথে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মাদ্রাসার কামিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী গিয়াস উদ্দিন হৃদয় বলেন, “ফেনীর ঐতিহ্যবাহী সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় গত ছয় মাস ধরে তীব্র খাবার পানির সংকট চলছে। মাদ্রাসার টিউবওয়েলটি দীর্ঘ ৬ মাস যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও এটি মেরামতে বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ”
গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য, দ্রুত এই পানি সংকটের সমাধান না হলে যেকোনো সময় মাদ্রাসার স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে এবং শিক্ষার্থীরা পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই অবিলম্বে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান জরুরী।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ভালো ও বেশি পানির জন্য আমরা টিউবওয়েল বাদ দিয়ে মোটর লাগিয়েছি। কিন্তু মোটরটিও বারবার নষ্ট হচ্ছে। আমি গত সোমবারও মেকানিক এনে মেরামত করেছি, তারপরও সঠিকভাবে পানি উঠছে না। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে সাবমারসিবল টিউবওয়েলের জন্য আবেদন করেছি প্রায় এক বছর হলো। এখনও আমরা নতুন টিউবওয়েল পাইনি।
ছয় মাস আগে অকেজো একমাত্র টিউবয়েল। এরপর আর ক্যাম্পাসে পানি পাচ্ছে না দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে একটি নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন অথবা বিদ্যমান ত্রুটি মেরামতের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে এই মানবিক সংকটের সমাধান করে মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হোক, অন্যথায় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন