সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশ ধরতে নদী-সাগরে ফিরছেন জেলেরা


​নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, চাঁদপুর
​নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, চাঁদপুর
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশ ধরতে নদী-সাগরে ফিরছেন জেলেরা
মাছ ধরার প্রস্তুতি শেষ। মধ্যরাতেই পদ্মা-মেঘনায় নামছেন জেলেরা। ছবি: সংবাদ

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের নির্ধারিত দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে আবারও নদী ও সাগরে মাছ ধরতে নামছেন চাঁদপুরের জেলেরা। ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিয়ে চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ পদ্মা-মেঘনা নদীর চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন আড়তঘাটে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। নৌকা ও ট্রলার মেরামত, জাল ধোয়া-মোছা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুছিয়ে মৌসুমের শেষভাগে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন মৎস্যজীবীরা।

জেলেদের প্রস্তুতি

গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণের এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মেঘনা তীরের মাছের আড়তগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য থেমে গিয়ে এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করছিল। 

তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবারও চঞ্চলতা ফিরে এসেছে ঘাটে ঘাটে। জেলেরা ট্রলার ও জাল নিয়ে প্রস্তুত হয়ে নদী চষে বেড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। মৎস্য কর্মকর্তারাও আশা করছেন, গভীর সাগরে জাল ফেলতে পারলে জেলেদের জালে এবার ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।

নিষেধাজ্ঞা সফল করতে চাঁদপুর নদী এলাকায় মৎস্য বিভাগ ও জেলা টাস্কফোর্স ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। গত ০৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জেলাজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী: ​মোট ২০৬টি অভিযান ও ৭২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।​

প্রায় ৩ মেট্রিক টন মা ইলিশ জব্দ করা হয়।​আইন অমান্য করার দায়ে ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে ১৮৩ জন জেলেকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।​এছাড়া ৩৭টি অবতরণ কেন্দ্র, ২৫৫টি ঘাট, ১,৩১০টি আড়ত এবং ২৮০টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।

​অন্যদিকে, চাঁদপুর সদর নৌ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই সময়ে মৎস্য সুরক্ষা আইন অসংক্রান্ত ১৩০টি ও পুলিশ অ্যাসল্ট সংক্রান্ত ২টিসহ মোট ১৩২টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে সর্বমোট ৪৬৩ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে ৩৪৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ১২০ জন শিশুকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। 

এ সময় প্রায় ৩০,৯০,৫৮৫ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ১,৩২০ কেজি মাছ এবং ৭৭টি নৌকা জব্দ করা হয়। অভিযানকালে সংঘবদ্ধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েও পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

মা-ইলিশ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলার ৪২ হাজার ৭৯০ জন নিবন্ধিত জেলেকে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে প্রণোদনার চাল দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে জেলের ক্ষোভ ও আক্ষেপও রয়েছে। অনেক জেলের অভিযোগ, প্রকৃত অনেক জেলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অথচ নদীতে কখনো যাননি এমন অনেকে কার্ড পেয়েছেন। 

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় মহাজন ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিবার চালাতে হয়েছে অনেককে। যারা সরকারি চাল পেয়েও আইন অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে পরবর্তী সরকারি সহায়তা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “জেলা-উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে সমন্বয় করে দিনরাত আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে অভিযান সফল করার চেষ্টা করেছি। যারা আইন অমান্য করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আশা করছি এবার নদীতে মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা নদীতে নামলে সুফল পাবেন।”

​উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা এবং ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখাই এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য। নিষেধাজ্ঞা সফল হওয়ায় ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশ ধরতে নদী-সাগরে ফিরছেন জেলেরা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের নির্ধারিত দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে আবারও নদী ও সাগরে মাছ ধরতে নামছেন চাঁদপুরের জেলেরা। ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিয়ে চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ পদ্মা-মেঘনা নদীর চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন আড়তঘাটে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। নৌকা ও ট্রলার মেরামত, জাল ধোয়া-মোছা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুছিয়ে মৌসুমের শেষভাগে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন মৎস্যজীবীরা।

জেলেদের প্রস্তুতি

গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণের এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মেঘনা তীরের মাছের আড়তগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য থেমে গিয়ে এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করছিল। 

তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবারও চঞ্চলতা ফিরে এসেছে ঘাটে ঘাটে। জেলেরা ট্রলার ও জাল নিয়ে প্রস্তুত হয়ে নদী চষে বেড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। মৎস্য কর্মকর্তারাও আশা করছেন, গভীর সাগরে জাল ফেলতে পারলে জেলেদের জালে এবার ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।

নিষেধাজ্ঞা সফল করতে চাঁদপুর নদী এলাকায় মৎস্য বিভাগ ও জেলা টাস্কফোর্স ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। গত ০৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জেলাজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী: ​মোট ২০৬টি অভিযান ও ৭২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।​

প্রায় ৩ মেট্রিক টন মা ইলিশ জব্দ করা হয়।​আইন অমান্য করার দায়ে ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে ১৮৩ জন জেলেকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।​এছাড়া ৩৭টি অবতরণ কেন্দ্র, ২৫৫টি ঘাট, ১,৩১০টি আড়ত এবং ২৮০টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।

​অন্যদিকে, চাঁদপুর সদর নৌ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই সময়ে মৎস্য সুরক্ষা আইন অসংক্রান্ত ১৩০টি ও পুলিশ অ্যাসল্ট সংক্রান্ত ২টিসহ মোট ১৩২টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে সর্বমোট ৪৬৩ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে ৩৪৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ১২০ জন শিশুকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। 

এ সময় প্রায় ৩০,৯০,৫৮৫ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ১,৩২০ কেজি মাছ এবং ৭৭টি নৌকা জব্দ করা হয়। অভিযানকালে সংঘবদ্ধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েও পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

মা-ইলিশ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলার ৪২ হাজার ৭৯০ জন নিবন্ধিত জেলেকে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে প্রণোদনার চাল দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে জেলের ক্ষোভ ও আক্ষেপও রয়েছে। অনেক জেলের অভিযোগ, প্রকৃত অনেক জেলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অথচ নদীতে কখনো যাননি এমন অনেকে কার্ড পেয়েছেন। 

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় মহাজন ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিবার চালাতে হয়েছে অনেককে। যারা সরকারি চাল পেয়েও আইন অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে পরবর্তী সরকারি সহায়তা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “জেলা-উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে সমন্বয় করে দিনরাত আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে অভিযান সফল করার চেষ্টা করেছি। যারা আইন অমান্য করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আশা করছি এবার নদীতে মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা নদীতে নামলে সুফল পাবেন।”

​উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা এবং ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখাই এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য। নিষেধাজ্ঞা সফল হওয়ায় ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত