সংবাদ

যে ইতিহাসে জন্ম, সেই ইতিহাসেরই অবমাননা


জাহেদ সেলিম
জাহেদ সেলিম
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

যে ইতিহাসে জন্ম, সেই ইতিহাসেরই অবমাননা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের জন্মপরিচয়, জাতীয় আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের ভিত্তি। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস এবং অসংখ্য মানুষের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের একক সম্পত্তি নয়। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলাতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা কোনো রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বদলে যাওয়ার বিষয় নয়। অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিসৌধ ভাঙচুরের ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘসূত্রতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার অভিযোগ আমাদের সামনে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে: মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকা কোথায়?

২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ব্যাপকতা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। ২১ আগস্ট ২০২৪-এ প্রকাশিত প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে ৫৯ জেলায় ১ হাজার ৪৯২টি ভাস্কর্য, রিলিফ ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব স্থাপনার মধ্যে অধিকাংশই ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক। তবে এই হিসাবের সব স্থাপনাই মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত নয়। ক্ষয়ক্ষতির এই ব্যাপকতা দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্নকে গভীরভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলোর ক্ষতি ও সেগুলোর পুনরুদ্ধার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ পরবর্তী সংবাদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি উঠে এসেছে। মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোরও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অর্থসংকটের কথাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে। কিন্তু যে মুজিবনগর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনার ক্ষত দীর্ঘদিন অমেরামত অবস্থায় থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অর্থসংকট বাস্তবতা হতে পারে, কিন্তু তা যেন জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক সংরক্ষণে অনির্দিষ্ট বিলম্বের অজুহাত না হয়ে ওঠে। ভাঙচুরের পর শুধু নিন্দা জানানো নয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ভাস্কর্য কিংবা স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে কারও রাজনৈতিক আপত্তি বা শিল্পরীতি সম্পর্কে ভিন্নমত থাকতে পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের অধিকার সবারই রয়েছে। কিন্তু মতবিরোধের সমাধান ভাঙচুর নয়। কোনো স্থাপনা নিয়ে আপত্তি থাকলে যুক্তি, আলোচনা ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তা প্রকাশ করা যায়। ঐতিহাসিক স্মারক ধ্বংস করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা কেবল ইট-পাথর বা ধাতুর নির্মাণ নয়, এগুলো আমাদের জাতীয় ইতিহাসের দৃশ্যমান দলিল। এগুলো ধ্বংস করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

কিন্তু ভাঙচুরের পর রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? কোন স্থাপনা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কতটির সংস্কার হয়েছে, কতটির কাজ এখনো বাকি এবং এসব কাজ শেষ করতে কত সময় লাগবে-এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তথ্য জনগণের সামনে থাকা উচিত। একই সঙ্গে ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে মামলা, তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের কী অগ্রগতি হয়েছে, তা-ও প্রকাশ করা দরকার। তদন্ত শুরু হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি কী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা কোন পর্যায়ে রয়েছে-এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। 

তদন্তের কথা বলা হলেও তার দৃশ্যমান অগ্রগতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়। শুধু আশ্বাস কিংবা নিন্দা জানিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ করা যায় না। কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহির দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলে তা প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সক্ষমতাকেও দুর্বল করে।

মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদার প্রশ্নটি শুধু স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান। ২৪ অক্টোবর ২০২৬-এ পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে বাধা এবং বিলম্বের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এ ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনগুলোতে স্থানীয় জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। 

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও প্রশাসনের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তাই অভিযোগের প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে যে জটিলতা, বিলম্ব এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কথা সংবাদে উঠে এসেছে, সেসব বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ও গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা জনসমক্ষে থাকা উচিত। একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায় যেন রাজনৈতিক বিরোধ, সামাজিক চাপ কিংবা কোনো গোষ্ঠীর বাধার কারণে অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

একইভাবে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ ঘটনায় সিপিবির অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়। তবে নীতিগত প্রশ্নটি স্পষ্ট: রাজনৈতিক মত, স্লোগান কিংবা সংগঠনের পরিচয়ের কারণে কারও ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ঐতিহাসিক স্লোগান। এ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বা মতভেদ থাকলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হতে হবে যুক্তি, গণতান্ত্রিক আচরণ ও আইনের মাধ্যমে-সহিংসতার মাধ্যমে নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও তদন্তের অগ্রগতি কী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা দরকার।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এটা নিশ্চিত করা যে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার কোনো রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিহিংসার শিকার হবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম, ত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাস। তাই যে রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষই অপরাধে জড়িত থাকুক, প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অপরাধী ঘোষণা করাও চলবে না। 

ন্যায়বিচারের ভিত্তি হবে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ ও আইনের সমান প্রয়োগ। এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় স্পষ্ট। ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও স্থাপনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করার পাশাপাশি সংস্কারের অগ্রাধিকার, ব্যয় ও সময়সীমা জানাতে হবে। কোন স্থাপনার সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে, কোনটির কাজ চলছে এবং কোনটি অর্থসংকট বা প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে, তা-ও জনগণকে জানাতে হবে। 

ভাঙচুর এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের অভিযোগগুলোতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোন পর্যায়ে তদন্ত রয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপের অবস্থা কী-এসব তথ্য প্রকাশ করা দরকার। তদন্ত না হয়ে থাকলে তার কারণ জানিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার ও দাফনসংক্রান্ত প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব কাজে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য চলতে পারে না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মান করার অর্থ কেবল জাতীয় দিবসে ফুল দেওয়া কিংবা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন নয়। এর অর্থ ইতিহাসের সত্যনিষ্ঠ চর্চা, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা, স্বাধীনতার স্মারক সংরক্ষণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। ইতিহাস নিয়ে গবেষণা, প্রশ্ন কিংবা আলোচনা বন্ধ করা মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষার পথ নয়, বরং তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে ইতিহাসকে আরও সুদৃঢ় করাই সঠিক পথ। একইভাবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংস করা কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করাও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকার বদলায়, কিন্তু রাষ্ট্রের ইতিহাস বদলে ফেলার অধিকার কারও নেই। ভাঙা ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ করা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতিস্তম্ভ মেরামত করা যায়, কিন্তু ইতিহাসের প্রতি অবহেলা যদি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা ক্ষুণ্ন হবে। মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষার প্রকৃত পরীক্ষা বক্তব্যে নয়-ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতিস্তম্ভের পুনরুদ্ধার, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান, অভিযোগের কার্যকর তদন্ত এবং আইনের সমান প্রয়োগে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশকে এই অঙ্গীকারই স্পষ্ট করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা কোনো সরকারের দয়া নয়, এটি জাতির অর্জন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার।

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, মাছরাঙা টেলিভিশন

তথ্যসূত্র: ১. প্রথম আলো, ২১ আগস্ট ২০২৪ - সারা দেশে দেড় হাজার ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুর।/ ২. প্রথম আলো, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ - মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পুনরুদ্ধার ও সংস্কারসংক্রান্ত প্রতিবেদন।/ ৩. প্রথম আলো, ২৫ মার্চ ২০২৬ - মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও সংস্কারসংক্রান্ত প্রতিবেদন।/ ৪. বাংলা ট্রিবিউন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ - বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও গার্ড অব অনার নিয়ে জটিলতার প্রতিবেদন।/ ৫. ঢাকা ট্রিবিউন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ - মানিক পশারীর দাফনসংক্রান্ত প্রতিবেদন।/ ৬. প্রথম আলো, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ - ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


যে ইতিহাসে জন্ম, সেই ইতিহাসেরই অবমাননা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের জন্মপরিচয়, জাতীয় আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের ভিত্তি। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস এবং অসংখ্য মানুষের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের একক সম্পত্তি নয়। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলাতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা কোনো রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বদলে যাওয়ার বিষয় নয়। অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিসৌধ ভাঙচুরের ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘসূত্রতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার অভিযোগ আমাদের সামনে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে: মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকা কোথায়?

২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ব্যাপকতা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। ২১ আগস্ট ২০২৪-এ প্রকাশিত প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে ৫৯ জেলায় ১ হাজার ৪৯২টি ভাস্কর্য, রিলিফ ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব স্থাপনার মধ্যে অধিকাংশই ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক। তবে এই হিসাবের সব স্থাপনাই মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত নয়। ক্ষয়ক্ষতির এই ব্যাপকতা দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্নকে গভীরভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলোর ক্ষতি ও সেগুলোর পুনরুদ্ধার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ পরবর্তী সংবাদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি উঠে এসেছে। মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোরও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অর্থসংকটের কথাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে। কিন্তু যে মুজিবনগর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনার ক্ষত দীর্ঘদিন অমেরামত অবস্থায় থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অর্থসংকট বাস্তবতা হতে পারে, কিন্তু তা যেন জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক সংরক্ষণে অনির্দিষ্ট বিলম্বের অজুহাত না হয়ে ওঠে। ভাঙচুরের পর শুধু নিন্দা জানানো নয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ভাস্কর্য কিংবা স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে কারও রাজনৈতিক আপত্তি বা শিল্পরীতি সম্পর্কে ভিন্নমত থাকতে পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের অধিকার সবারই রয়েছে। কিন্তু মতবিরোধের সমাধান ভাঙচুর নয়। কোনো স্থাপনা নিয়ে আপত্তি থাকলে যুক্তি, আলোচনা ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তা প্রকাশ করা যায়। ঐতিহাসিক স্মারক ধ্বংস করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা কেবল ইট-পাথর বা ধাতুর নির্মাণ নয়, এগুলো আমাদের জাতীয় ইতিহাসের দৃশ্যমান দলিল। এগুলো ধ্বংস করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

কিন্তু ভাঙচুরের পর রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? কোন স্থাপনা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কতটির সংস্কার হয়েছে, কতটির কাজ এখনো বাকি এবং এসব কাজ শেষ করতে কত সময় লাগবে-এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তথ্য জনগণের সামনে থাকা উচিত। একই সঙ্গে ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে মামলা, তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের কী অগ্রগতি হয়েছে, তা-ও প্রকাশ করা দরকার। তদন্ত শুরু হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি কী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা কোন পর্যায়ে রয়েছে-এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। 

তদন্তের কথা বলা হলেও তার দৃশ্যমান অগ্রগতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়। শুধু আশ্বাস কিংবা নিন্দা জানিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ করা যায় না। কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহির দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলে তা প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সক্ষমতাকেও দুর্বল করে।

মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদার প্রশ্নটি শুধু স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান। ২৪ অক্টোবর ২০২৬-এ পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে বাধা এবং বিলম্বের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এ ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনগুলোতে স্থানীয় জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। 

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও প্রশাসনের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তাই অভিযোগের প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে যে জটিলতা, বিলম্ব এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কথা সংবাদে উঠে এসেছে, সেসব বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ও গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা জনসমক্ষে থাকা উচিত। একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায় যেন রাজনৈতিক বিরোধ, সামাজিক চাপ কিংবা কোনো গোষ্ঠীর বাধার কারণে অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

একইভাবে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ ঘটনায় সিপিবির অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়। তবে নীতিগত প্রশ্নটি স্পষ্ট: রাজনৈতিক মত, স্লোগান কিংবা সংগঠনের পরিচয়ের কারণে কারও ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ঐতিহাসিক স্লোগান। এ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বা মতভেদ থাকলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হতে হবে যুক্তি, গণতান্ত্রিক আচরণ ও আইনের মাধ্যমে-সহিংসতার মাধ্যমে নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও তদন্তের অগ্রগতি কী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা দরকার।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এটা নিশ্চিত করা যে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার কোনো রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিহিংসার শিকার হবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম, ত্যাগ ও স্বাধীনতার ইতিহাস। তাই যে রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষই অপরাধে জড়িত থাকুক, প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অপরাধী ঘোষণা করাও চলবে না। 

ন্যায়বিচারের ভিত্তি হবে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ ও আইনের সমান প্রয়োগ। এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় স্পষ্ট। ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও স্থাপনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করার পাশাপাশি সংস্কারের অগ্রাধিকার, ব্যয় ও সময়সীমা জানাতে হবে। কোন স্থাপনার সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে, কোনটির কাজ চলছে এবং কোনটি অর্থসংকট বা প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে, তা-ও জনগণকে জানাতে হবে। 

ভাঙচুর এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের অভিযোগগুলোতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোন পর্যায়ে তদন্ত রয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপের অবস্থা কী-এসব তথ্য প্রকাশ করা দরকার। তদন্ত না হয়ে থাকলে তার কারণ জানিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার ও দাফনসংক্রান্ত প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব কাজে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য চলতে পারে না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মান করার অর্থ কেবল জাতীয় দিবসে ফুল দেওয়া কিংবা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন নয়। এর অর্থ ইতিহাসের সত্যনিষ্ঠ চর্চা, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা, স্বাধীনতার স্মারক সংরক্ষণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। ইতিহাস নিয়ে গবেষণা, প্রশ্ন কিংবা আলোচনা বন্ধ করা মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষার পথ নয়, বরং তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে ইতিহাসকে আরও সুদৃঢ় করাই সঠিক পথ। একইভাবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংস করা কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করাও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকার বদলায়, কিন্তু রাষ্ট্রের ইতিহাস বদলে ফেলার অধিকার কারও নেই। ভাঙা ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ করা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতিস্তম্ভ মেরামত করা যায়, কিন্তু ইতিহাসের প্রতি অবহেলা যদি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা ক্ষুণ্ন হবে। মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষার প্রকৃত পরীক্ষা বক্তব্যে নয়-ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতিস্তম্ভের পুনরুদ্ধার, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান, অভিযোগের কার্যকর তদন্ত এবং আইনের সমান প্রয়োগে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশকে এই অঙ্গীকারই স্পষ্ট করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা কোনো সরকারের দয়া নয়, এটি জাতির অর্জন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার।

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, মাছরাঙা টেলিভিশন

তথ্যসূত্র: ১. প্রথম আলো, ২১ আগস্ট ২০২৪ - সারা দেশে দেড় হাজার ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুর।/ ২. প্রথম আলো, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ - মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পুনরুদ্ধার ও সংস্কারসংক্রান্ত প্রতিবেদন।/ ৩. প্রথম আলো, ২৫ মার্চ ২০২৬ - মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও সংস্কারসংক্রান্ত প্রতিবেদন।/ ৪. বাংলা ট্রিবিউন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ - বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও গার্ড অব অনার নিয়ে জটিলতার প্রতিবেদন।/ ৫. ঢাকা ট্রিবিউন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ - মানিক পশারীর দাফনসংক্রান্ত প্রতিবেদন।/ ৬. প্রথম আলো, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ - ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত