স্মরণ
শামস আল মমীন
বিন্দু’র মৃত্যুকে মনে করে
তার সাথে দেখা হয় নাই খুব বেশি
কথাও হয় নাই তেমন কিছু
তবু মনে হয়, আকাশ মাটির ব্যবধানে
সত্য এক সুর লুকিয়ে আছে।
জোৎস্নার উৎস যে চাঁদ একথা কে না জানে...
জোৎস্না কি জানে চাঁদ তাকে ভালোবাসে,
মাটি কি জানে আকাশ তাকে যে আগলে রাখে?
তার সাথে দেখা হবে না আর
কথাও কবে না সে- বিধির বিধান এই; কিন্তু
ইচ্ছা হয় তাকে দেখি—
অল্প করে হলেও কিছু বলি।
পৃথিবীতে কি কোন লোভ ছিল তার,
কোন ঘৃণা, ক্ষোভ?
গোলাপের কাছে তার গন্ধ ছাড়া আর তো কিছু চায় নাই সে।
ও যেন ভালো থাকে, প্রার্থনা করি,
ও যেন ভালো থাকে, ঈশ্বর—
তোমার কাছে।
হেমন্তগান
পুলিন রায়
মাঠে মাঠে রোদ হাসে বিশ্বাসী প্রত্যয়ে
হেমন্ত মাঠ পাখিগানে ভরা
সোনালি ফসলে পূর্ণ
হেমন্তের গান ধরে বহুজন
দূরের সমুদ্রে ঝড় উঠলে
ফেরার পালায় থাকে দখিনের বাতাস
শস্য কাটা শুরু হলে
উগার তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক স্বপ্ন বুনবে
মাটির প্রদীপ জ্বলতে থাকে
আকাশগঙ্গা ছুঁয়ে যায় মন
হেমন্তগানে মন রাঙিয়ে
বুদ হয়ে আছে বাউলজন
অন্তর্বাস
তানিয়া হাসান
আমরা দাঁড়িয়ে ফিকে বারান্দায়
নিজ অঙ্কুরিত ফল হাতে
মরিচাধরা অতীতের ধাক্কায়
কাঁপে, শামুক কাঁপে!
জল তড়পায় বোবা তরঙ্গে
ভেজে না কদম চিলডানায়
হাঁড়িতে নৌকা নৌকা খেলে
দূরে গন্ধ চুরি যায়।
উড়িয়ে দেখা ও দৃশ্যভুলে
নজরবন্দি চোখ আরও উজ্জ্বল
হেরে যায় চঞ্চল প্রবাহ
আবহে কামনা— বুভুক্ষু করতল।
রুচি অপবাদে সুরগম্ভীর
গল্পের ভিড় বাড়ে পাগলা রাতে
লুকিয়ে আলোকণা অন্তর্বাসে
অতৃপ্তি বাজে পাতার বাঁশিতে।
ব্যাখ্যার ঈশ্বর
সাহিদ রেজা
যখন জল্লাদের চকচকে তলোয়ার
দুটি দেহ মুণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল,
তখন কোথায় ছিল কালো জমটুপিটা?
কোথায় ছিল বিশ্বাসের সেই অভেদ্য আবরণ?
ছিন্নমুণ্ড চোখ দুটিতে কি বলেছিল—
ভয়? নাকি ঘৃণা?
নাকি শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস নিয়ে
তারা তাকিয়েছিল সেই আকাশের দিকে,
যার নামে পৃথিবীর বুকে
এত রং রক্তের খেলা হয়?
বোবা বিচারক রায় পড়ে শোনায়,
কালো পোশাকের আড়ালে ঘুমিয়ে থাকে বিবেক;
আর কয়েকটি স্বাক্ষরের আঁচড়ে
মুছে যায় বেঁচে থাকার অধিকার।
ঐশী পুস্তকের পাতায় ভেসে ওঠে শব্দবন্ধ,
শানে নুযুলের ব্যাখ্যা হাজির হয় ইচ্ছেমতো।
এক্স সেলসম্যান
ঋজু রেজওয়ান
যন্ত্রণার ডাস্টবিন থেকে... তুলে আনি— প্রশান্ত বাড়ির
শান্ত স্নিগ্ধ সুখ!
একই রেখায় চললেও সে, চলছে... নিক্তিতে নিক্তিতে
বিপরীত লুপ;
কেউ কারও অধীনও নয়, সমান্তরাল দেখায়, দুটি—
লাশকাটা স্যুপ!
যন্ত্রণা ও সুখ— বিপ্রতীপ,গরলরেখায় মস্তিষ্কের
অভিন্ন ময়ূখ।
হুড়ুমভাজায় বাজিতেছ... সাদা সাদা নক্ষত্র বিমুখ—
মৃত্যুর দরজা!
যখন গড়িয়ে.. পড়ে যায়, অমনি ফুটে ওঠে নীল ও সায়ানের বেগুনি তরজা।
কর্টিসল অস্থি থেকে... খুলি,খোলা ডোপামিনের অন্তর;
মেলে দেখি... দাঁড়িপাল্লা!
সুখ যতটা, ততই দুঃখ— প্রকৃতির এ বিধান করে...!
কোন শালা মাল্লা?
মেঘে ঢাকা সমস্ত শরীরে... দৃষ্টি যতটুকু,ততটুকু—
অদৃশ্য কার্বন।
তবুও ব্ল্যাক হোলের মত দুটি— চোখে থমকে দাঁড়ায়,
বিস্মৃতি-পার্বণ।
হেড! নাকি— টেল? আগত্যাই,ক্ষয়ে যাওয়া জুয়ার আসর!
এমনই কয়েন;
সেখানেই..বাজি মেরে দাও, নিয়তি ও ম্যাজিকে... তুমিও—
এক্স সেলসম্যান।
তোমার গহন জলে
মাতিন মোসাব্বির
বাইরে অবিরাম বর্ষণ,
প্রকৃতি সিক্ত আকাশ প্রেমে।
বদ্ধ কামরায় বন্দি আমরা,
সিক্ত কামনার ঘাম-শ্রমে।
নিরুপায় দেওয়ালগুলো সয়েছে আমাদের আনন্দ শীৎকার,
ওরা সাক্ষী, তোমার গহন জলে ডুবে আমার ভেসে ওঠার।
বলো মেঘ বলো অশ্রুজল
রাজীব আর্জুনি
অবসাদ মৃত্যু আত্মহননের
দিনগুলো রাতগুলো লেখা হোক
অক্ষরে অক্ষরে বেদনায় মূর্ছনায়;
অন্তরীক্ষে আঁকা হোক রক্তদ্রুম,
হাজার বছর পর
কেমন ছিলো পাললিক বদ্বীপ?
কেমনতর ছিলো প্রকৃতি?
মালজোড়া; রক এন্ড রোল!
মাহফিল কোজাগরী?
অথবা ভাষার বিজ্ঞাপনে কারা ছিলো
স্লেইট অব হ্যান্ড; ছাইরঙা লিমেরিক,
রক্তপাতহীন অপরাহ্ণ নেই বুঝি
সমীক্ষার পৃথিবীতে?
প্রেমিকের কাছে প্রেমিকার নেই বুঝি
শর্তহীন প্রশ্রয় আশ্রয়?
তবে এই বহুদূর
চলে যাওয়া পথ পথের মায়া
আসমানজুড়ে থাকা নীল সাদা মেঘ
মানুষের পৃথিবী কোথায়
বলো মেঘ বলো অশ্রুজল?
আসমান
শিবলী মোকতাদির
বিতর্কে মেতেছে মেঘ, আতঙ্কে ঋতুমাতা
কটকটে ভাদ্রমাস মাথায় মেলেছে ছাতা
কিছুটা ন্যারেটিভ্ বাকিটা যায় ছন্দ ধরে
ঘনঘোর আকাশ অংশত গজাচ্ছে অঙ্কুরে
নিচে খেতমজুর, দিন-শ্রমিক ও ভাগচাষি
এক চিলতে মাঝি সুর ভুলে বাজায় বাঁশি
যেটুকু সুখ— জগৎ উথলে ওঠা কাশফুলে
তোমার চোখ নগরায়িত, তবু সমস্ত ভুলে
মধুরে মধুর করো, ধরো হৃদয়ে নুনমাটি
আগুনে ফোটে ভাত আঁচলের মতো খাঁটি
এ-গন্ধ নিসর্গের আহা! সকল জননী জানে
নিরন্ন মানুষের কথা লিখে রাখি আসমানে
মানুষ পাড়ায়
বাশার মাহফুজ
ছুটছি গন্তব্যহীন
আমাকে তাড়া করছে মৃত্যুময় নিঃশব্দ
মগজে কারফিউ
আগুনে আগুনে ভিজছে আগুনমুখো বৃষ্টি।
বাগান থেকে বেরিয়ে পড়ছে ঘ্রাণহীন গোলাপ
সৌন্দর্য চুষে নিয়ে দংশনে মত্ত দানপ সর্প
নীল রঙের একটা নদী আঁকছে বাকবদলের সন্ন্যাসী
যার চোখে শুধু পৃথিবীময় শ্রাবণ মাস!
হাতের মুঠো থেকে ইচ্ছেরা ছিটকে পড়ছে
কাগজের পাতায় একটা প্রজাপতি, হলুদ রঙ মাখতে
শিল্পীকে বলেছে আজ রঙবার
পৃথিবীকে রাঙিয়ে দাাও।
পৃথিবীর শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে বিষ গ্রহ
মানুষগুলোর চোখেমুখে হারানো পোস্ট অফিস
তারা সবাই মানুষ খুঁজছে মানুষ পাড়ায়!
দুটি কবিতা
শাখাওয়াত তানভীর
তুমিও সমুদ্র
সমুদ্র—
থেকে যায়, আবার ভেসেও যায়
কূলে কিংবা অকূলে...
যেমন তুমি—
চলে গিয়েও কী ভীষণভাবে থেকে যাও
জল হয়ে চোখে, বিষাদ হয়ে বুকে...
জলীয় মানুষ চাই
দুঃখ জমে জমে
মানুষও একদিন বরফ হয়!
কী আশ্চর্য মিল— বরফ আর মানুষের
দুটোই উষ্ণতায় ছোঁয়ায় গলে জল হয়ে যায়!
ভালোবাসাহীন আশ্চর্য শীতলতায়
ধূসর পৃথিবীর মানুষগুলোও আজ কঠিন বরফ!
বরফ গলা উত্তাপ— কোথায় খুঁজে পাই?
পাথুরে এই লোকালয়ে আজ জলীয় মানুষ চাই!
শব্দসংকট কাটলে
রিক্তা রিচি
শব্দসংকট কাটলে
রোদের কনা, ধানের খইয়ের মতো শব্দফুলও
তোমার উঠানে হিমঝুরি হয়ে ফুটবে
কলমিলতাও অভ্রের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে—
নাকে গজমতির নোলক আর পায়ে মল
পরে হয়ে ওঠবে রূপসী বেহুলা।
তুমি তারে দেখে দেখে স্বর্গের দেবতাদের মতো
প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে।
এজন্য অপেক্ষা করো প্রেমিক, কবি, সাধক
দরদ দিয়ে তাকে ডাকো
জেনো, সু-শব্দের জন্ম হয় ভালোবাসা থেকে।
একদিন শব্দ হয়ে উঠবে বীজ;
তোমার ভাবনার মাটিতে শাখা প্রশাখা ছড়াবে
সবুজ গাছ-গাছালি
একদিন ঘর ভরে যাবে ফুল ও ফসলে।
শব্দহীন দিন, সংকটের যে শূন্যতা এতকাল
বুকের ভেতর মরুভূমি হয়ে শুয়ে ছিল,
সেখানে জেগে উঠবে ধ্রুপদী নদী।
নদীতে ডুব দেবে পানকৌড়ি,
খাবারের খোঁজে ঝাপিয়ে পড়বে মাছরাঙাও।
কোথাও কি আগুন লেগেছে
টিপু সুলতান
কোথাও কি আগুন লেগেছে
আজকাল এমন বোধ সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় নিটোল বাস্তবতায় কেন উঠে আসে?
ক্রমশ: রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি এমন কি মানুষের একান্ত বাঁচার খড়-কুটোটুকুও কি আগুন থেকে দূরে নয়?
মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় অগাধ ইতিহাসজ্ঞান, অভিজ্ঞতালব্ধ হাজার বছরের মানুষের কৃতকর্ম, স্মারক
ইত্যবসরে আজকের মানুষ স্বপ্ন দেখে স্বপ্ন বোনে ক্ষমতার নকশিকাঁথায় সাজতে ব্যস্ত আজকের শাসক
অথচ বাবুই পাখির মতো একখানা বাসা বা টুনটুনি পাখির ডানায় ইচ্ছে মতো উড়তে পারে না সে

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
স্মরণ
শামস আল মমীন
বিন্দু’র মৃত্যুকে মনে করে
তার সাথে দেখা হয় নাই খুব বেশি
কথাও হয় নাই তেমন কিছু
তবু মনে হয়, আকাশ মাটির ব্যবধানে
সত্য এক সুর লুকিয়ে আছে।
জোৎস্নার উৎস যে চাঁদ একথা কে না জানে...
জোৎস্না কি জানে চাঁদ তাকে ভালোবাসে,
মাটি কি জানে আকাশ তাকে যে আগলে রাখে?
তার সাথে দেখা হবে না আর
কথাও কবে না সে- বিধির বিধান এই; কিন্তু
ইচ্ছা হয় তাকে দেখি—
অল্প করে হলেও কিছু বলি।
পৃথিবীতে কি কোন লোভ ছিল তার,
কোন ঘৃণা, ক্ষোভ?
গোলাপের কাছে তার গন্ধ ছাড়া আর তো কিছু চায় নাই সে।
ও যেন ভালো থাকে, প্রার্থনা করি,
ও যেন ভালো থাকে, ঈশ্বর—
তোমার কাছে।
হেমন্তগান
পুলিন রায়
মাঠে মাঠে রোদ হাসে বিশ্বাসী প্রত্যয়ে
হেমন্ত মাঠ পাখিগানে ভরা
সোনালি ফসলে পূর্ণ
হেমন্তের গান ধরে বহুজন
দূরের সমুদ্রে ঝড় উঠলে
ফেরার পালায় থাকে দখিনের বাতাস
শস্য কাটা শুরু হলে
উগার তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক স্বপ্ন বুনবে
মাটির প্রদীপ জ্বলতে থাকে
আকাশগঙ্গা ছুঁয়ে যায় মন
হেমন্তগানে মন রাঙিয়ে
বুদ হয়ে আছে বাউলজন
অন্তর্বাস
তানিয়া হাসান
আমরা দাঁড়িয়ে ফিকে বারান্দায়
নিজ অঙ্কুরিত ফল হাতে
মরিচাধরা অতীতের ধাক্কায়
কাঁপে, শামুক কাঁপে!
জল তড়পায় বোবা তরঙ্গে
ভেজে না কদম চিলডানায়
হাঁড়িতে নৌকা নৌকা খেলে
দূরে গন্ধ চুরি যায়।
উড়িয়ে দেখা ও দৃশ্যভুলে
নজরবন্দি চোখ আরও উজ্জ্বল
হেরে যায় চঞ্চল প্রবাহ
আবহে কামনা— বুভুক্ষু করতল।
রুচি অপবাদে সুরগম্ভীর
গল্পের ভিড় বাড়ে পাগলা রাতে
লুকিয়ে আলোকণা অন্তর্বাসে
অতৃপ্তি বাজে পাতার বাঁশিতে।
ব্যাখ্যার ঈশ্বর
সাহিদ রেজা
যখন জল্লাদের চকচকে তলোয়ার
দুটি দেহ মুণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল,
তখন কোথায় ছিল কালো জমটুপিটা?
কোথায় ছিল বিশ্বাসের সেই অভেদ্য আবরণ?
ছিন্নমুণ্ড চোখ দুটিতে কি বলেছিল—
ভয়? নাকি ঘৃণা?
নাকি শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস নিয়ে
তারা তাকিয়েছিল সেই আকাশের দিকে,
যার নামে পৃথিবীর বুকে
এত রং রক্তের খেলা হয়?
বোবা বিচারক রায় পড়ে শোনায়,
কালো পোশাকের আড়ালে ঘুমিয়ে থাকে বিবেক;
আর কয়েকটি স্বাক্ষরের আঁচড়ে
মুছে যায় বেঁচে থাকার অধিকার।
ঐশী পুস্তকের পাতায় ভেসে ওঠে শব্দবন্ধ,
শানে নুযুলের ব্যাখ্যা হাজির হয় ইচ্ছেমতো।
এক্স সেলসম্যান
ঋজু রেজওয়ান
যন্ত্রণার ডাস্টবিন থেকে... তুলে আনি— প্রশান্ত বাড়ির
শান্ত স্নিগ্ধ সুখ!
একই রেখায় চললেও সে, চলছে... নিক্তিতে নিক্তিতে
বিপরীত লুপ;
কেউ কারও অধীনও নয়, সমান্তরাল দেখায়, দুটি—
লাশকাটা স্যুপ!
যন্ত্রণা ও সুখ— বিপ্রতীপ,গরলরেখায় মস্তিষ্কের
অভিন্ন ময়ূখ।
হুড়ুমভাজায় বাজিতেছ... সাদা সাদা নক্ষত্র বিমুখ—
মৃত্যুর দরজা!
যখন গড়িয়ে.. পড়ে যায়, অমনি ফুটে ওঠে নীল ও সায়ানের বেগুনি তরজা।
কর্টিসল অস্থি থেকে... খুলি,খোলা ডোপামিনের অন্তর;
মেলে দেখি... দাঁড়িপাল্লা!
সুখ যতটা, ততই দুঃখ— প্রকৃতির এ বিধান করে...!
কোন শালা মাল্লা?
মেঘে ঢাকা সমস্ত শরীরে... দৃষ্টি যতটুকু,ততটুকু—
অদৃশ্য কার্বন।
তবুও ব্ল্যাক হোলের মত দুটি— চোখে থমকে দাঁড়ায়,
বিস্মৃতি-পার্বণ।
হেড! নাকি— টেল? আগত্যাই,ক্ষয়ে যাওয়া জুয়ার আসর!
এমনই কয়েন;
সেখানেই..বাজি মেরে দাও, নিয়তি ও ম্যাজিকে... তুমিও—
এক্স সেলসম্যান।
তোমার গহন জলে
মাতিন মোসাব্বির
বাইরে অবিরাম বর্ষণ,
প্রকৃতি সিক্ত আকাশ প্রেমে।
বদ্ধ কামরায় বন্দি আমরা,
সিক্ত কামনার ঘাম-শ্রমে।
নিরুপায় দেওয়ালগুলো সয়েছে আমাদের আনন্দ শীৎকার,
ওরা সাক্ষী, তোমার গহন জলে ডুবে আমার ভেসে ওঠার।
বলো মেঘ বলো অশ্রুজল
রাজীব আর্জুনি
অবসাদ মৃত্যু আত্মহননের
দিনগুলো রাতগুলো লেখা হোক
অক্ষরে অক্ষরে বেদনায় মূর্ছনায়;
অন্তরীক্ষে আঁকা হোক রক্তদ্রুম,
হাজার বছর পর
কেমন ছিলো পাললিক বদ্বীপ?
কেমনতর ছিলো প্রকৃতি?
মালজোড়া; রক এন্ড রোল!
মাহফিল কোজাগরী?
অথবা ভাষার বিজ্ঞাপনে কারা ছিলো
স্লেইট অব হ্যান্ড; ছাইরঙা লিমেরিক,
রক্তপাতহীন অপরাহ্ণ নেই বুঝি
সমীক্ষার পৃথিবীতে?
প্রেমিকের কাছে প্রেমিকার নেই বুঝি
শর্তহীন প্রশ্রয় আশ্রয়?
তবে এই বহুদূর
চলে যাওয়া পথ পথের মায়া
আসমানজুড়ে থাকা নীল সাদা মেঘ
মানুষের পৃথিবী কোথায়
বলো মেঘ বলো অশ্রুজল?
আসমান
শিবলী মোকতাদির
বিতর্কে মেতেছে মেঘ, আতঙ্কে ঋতুমাতা
কটকটে ভাদ্রমাস মাথায় মেলেছে ছাতা
কিছুটা ন্যারেটিভ্ বাকিটা যায় ছন্দ ধরে
ঘনঘোর আকাশ অংশত গজাচ্ছে অঙ্কুরে
নিচে খেতমজুর, দিন-শ্রমিক ও ভাগচাষি
এক চিলতে মাঝি সুর ভুলে বাজায় বাঁশি
যেটুকু সুখ— জগৎ উথলে ওঠা কাশফুলে
তোমার চোখ নগরায়িত, তবু সমস্ত ভুলে
মধুরে মধুর করো, ধরো হৃদয়ে নুনমাটি
আগুনে ফোটে ভাত আঁচলের মতো খাঁটি
এ-গন্ধ নিসর্গের আহা! সকল জননী জানে
নিরন্ন মানুষের কথা লিখে রাখি আসমানে
মানুষ পাড়ায়
বাশার মাহফুজ
ছুটছি গন্তব্যহীন
আমাকে তাড়া করছে মৃত্যুময় নিঃশব্দ
মগজে কারফিউ
আগুনে আগুনে ভিজছে আগুনমুখো বৃষ্টি।
বাগান থেকে বেরিয়ে পড়ছে ঘ্রাণহীন গোলাপ
সৌন্দর্য চুষে নিয়ে দংশনে মত্ত দানপ সর্প
নীল রঙের একটা নদী আঁকছে বাকবদলের সন্ন্যাসী
যার চোখে শুধু পৃথিবীময় শ্রাবণ মাস!
হাতের মুঠো থেকে ইচ্ছেরা ছিটকে পড়ছে
কাগজের পাতায় একটা প্রজাপতি, হলুদ রঙ মাখতে
শিল্পীকে বলেছে আজ রঙবার
পৃথিবীকে রাঙিয়ে দাাও।
পৃথিবীর শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে বিষ গ্রহ
মানুষগুলোর চোখেমুখে হারানো পোস্ট অফিস
তারা সবাই মানুষ খুঁজছে মানুষ পাড়ায়!
দুটি কবিতা
শাখাওয়াত তানভীর
তুমিও সমুদ্র
সমুদ্র—
থেকে যায়, আবার ভেসেও যায়
কূলে কিংবা অকূলে...
যেমন তুমি—
চলে গিয়েও কী ভীষণভাবে থেকে যাও
জল হয়ে চোখে, বিষাদ হয়ে বুকে...
জলীয় মানুষ চাই
দুঃখ জমে জমে
মানুষও একদিন বরফ হয়!
কী আশ্চর্য মিল— বরফ আর মানুষের
দুটোই উষ্ণতায় ছোঁয়ায় গলে জল হয়ে যায়!
ভালোবাসাহীন আশ্চর্য শীতলতায়
ধূসর পৃথিবীর মানুষগুলোও আজ কঠিন বরফ!
বরফ গলা উত্তাপ— কোথায় খুঁজে পাই?
পাথুরে এই লোকালয়ে আজ জলীয় মানুষ চাই!
শব্দসংকট কাটলে
রিক্তা রিচি
শব্দসংকট কাটলে
রোদের কনা, ধানের খইয়ের মতো শব্দফুলও
তোমার উঠানে হিমঝুরি হয়ে ফুটবে
কলমিলতাও অভ্রের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে—
নাকে গজমতির নোলক আর পায়ে মল
পরে হয়ে ওঠবে রূপসী বেহুলা।
তুমি তারে দেখে দেখে স্বর্গের দেবতাদের মতো
প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে।
এজন্য অপেক্ষা করো প্রেমিক, কবি, সাধক
দরদ দিয়ে তাকে ডাকো
জেনো, সু-শব্দের জন্ম হয় ভালোবাসা থেকে।
একদিন শব্দ হয়ে উঠবে বীজ;
তোমার ভাবনার মাটিতে শাখা প্রশাখা ছড়াবে
সবুজ গাছ-গাছালি
একদিন ঘর ভরে যাবে ফুল ও ফসলে।
শব্দহীন দিন, সংকটের যে শূন্যতা এতকাল
বুকের ভেতর মরুভূমি হয়ে শুয়ে ছিল,
সেখানে জেগে উঠবে ধ্রুপদী নদী।
নদীতে ডুব দেবে পানকৌড়ি,
খাবারের খোঁজে ঝাপিয়ে পড়বে মাছরাঙাও।
কোথাও কি আগুন লেগেছে
টিপু সুলতান
কোথাও কি আগুন লেগেছে
আজকাল এমন বোধ সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় নিটোল বাস্তবতায় কেন উঠে আসে?
ক্রমশ: রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি এমন কি মানুষের একান্ত বাঁচার খড়-কুটোটুকুও কি আগুন থেকে দূরে নয়?
মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় অগাধ ইতিহাসজ্ঞান, অভিজ্ঞতালব্ধ হাজার বছরের মানুষের কৃতকর্ম, স্মারক
ইত্যবসরে আজকের মানুষ স্বপ্ন দেখে স্বপ্ন বোনে ক্ষমতার নকশিকাঁথায় সাজতে ব্যস্ত আজকের শাসক
অথচ বাবুই পাখির মতো একখানা বাসা বা টুনটুনি পাখির ডানায় ইচ্ছে মতো উড়তে পারে না সে

আপনার মতামত লিখুন