সংবাদ

রোমিং থাকলেও যেসব দেশে মিলবে না স্টারলিংক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

রোমিং থাকলেও যেসব দেশে মিলবে না স্টারলিংক

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের অন্যতম সুবিধা হলো - প্রচলিত তারের সংযোগ কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। এ কারণে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্টারলিংকের মতো সেবা কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ পাওয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই সব দেশে সেবাটি ব্যবহার করা যায় না। বিভিন্ন দেশের আইন, সরকারি নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে স্টারলিংকের কার্যক্রম।

রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি বেলারুশ, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে স্টারলিংক নিষিদ্ধ অথবা এর ব্যবহার অনুমোদিত নয়। অন্যদিকে ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, নামিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও মিসরসহ কয়েকটি দেশে সেবাটি চালু করা নিয়ে বিধিনিষেধ বা অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে।

কেন বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ স্টারলিংক

সব দেশে স্টারলিংক ব্যবহারের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। কোথাও সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

চীন এখনো বাণিজ্যিকভাবে স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। রাশিয়ায় বিদেশি স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সরকারও সেবাটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি।

ছোট কয়েকটি দেশে স্থানীয় আইন ও সরকারি নীতির কারণে স্টারলিংকের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কোথাও রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, আবার কোথাও বাণিজ্যিক অনুমোদন না পাওয়ায় সেবা চালু করা সম্ভব হয় না।

ভারতের ক্ষেত্রে স্টারলিংক প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এখনো সেবাটি চালু হয়নি। তবে দেশভেদে এসব পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। সম্প্রতি নিউয়ে স্টারলিংকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ভারতেও ভবিষ্যতে সেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

কোথাও সীমিত পরিসরে ব্যবহারের সুযোগ

স্টারলিংক নিষিদ্ধ বা সীমিত থাকার অর্থ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সংযোগ বন্ধ থাকা নয়। কিছু দেশে নির্দিষ্ট অঞ্চল বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সেবা ব্যবহারের অনুমতি থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কয়েকটি দেশে আন্তর্জাতিক জলসীমায় কিংবা উপকূল থেকে দূরে স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে চীন দেশটির জলসীমায় সেবাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রোমিং পরিকল্পনায় কি মিলবে সংযোগ?

যেসব এলাকায় স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে, সেখানে কাজ করা বা ভ্রমণকারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, মানবকল্যাণকর্মী এবং শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অনেক সময় দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয়। তাই কোনো দেশে যাওয়ার আগে স্টারলিংকের আওতাভুক্ত এলাকার মানচিত্র এবং স্থানীয় নিয়মকানুন দেখে নেওয়া জরুরি।

কিছু ক্ষেত্রে রোমিং পরিকল্পনার মাধ্যমে নিজ দেশের বাইরে থেকেও সংযোগ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এ জন্য প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের মতো স্টারলিংক-সমর্থিত কোনো দেশ থেকে সংযোগের সরঞ্জাম কিনতে হবে। এরপর বিধিনিষেধযুক্ত এলাকায় যাওয়ার আগে ‘রোম আনলিমিটেড’ পরিকল্পনা চালু করতে হবে।

তবে এই পদ্ধতি সব দেশে কার্যকর নয়। চীন ও রাশিয়ার মতো কয়েকটি দেশে স্টারলিংক সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে রোমিং পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে সেবা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

দেশের বাইরে ব্যবহারের সময়সীমাও রয়েছে

নিজ দেশের বাইরে স্টারলিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা না থাকলে বিদেশে সেবা ব্যবহারের সময়সীমা ৩০ দিন। এই সময় পার হলে সংযোগের সময়সীমা নতুন করে চালু করতে স্টারলিংকের ডিশ নিজ দেশে ফিরিয়ে এনে সেবাটিতে সংযুক্ত করতে হবে।

অন্যদিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় নিজ দেশের বাইরে আরও ৬০ দিন সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এই সুবিধাও অনির্দিষ্টকাল বিদেশে সংযোগ চালু রাখার নিশ্চয়তা দেয় না।

সব মিলিয়ে, স্টারলিংক ব্যবহারের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমোদন, স্থানীয় বিধিনিষেধ এবং রোমিং সুবিধার শর্ত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


রোমিং থাকলেও যেসব দেশে মিলবে না স্টারলিংক

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের অন্যতম সুবিধা হলো - প্রচলিত তারের সংযোগ কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। এ কারণে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্টারলিংকের মতো সেবা কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ পাওয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই সব দেশে সেবাটি ব্যবহার করা যায় না। বিভিন্ন দেশের আইন, সরকারি নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে স্টারলিংকের কার্যক্রম।

রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি বেলারুশ, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে স্টারলিংক নিষিদ্ধ অথবা এর ব্যবহার অনুমোদিত নয়। অন্যদিকে ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, নামিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও মিসরসহ কয়েকটি দেশে সেবাটি চালু করা নিয়ে বিধিনিষেধ বা অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে।

কেন বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ স্টারলিংক

সব দেশে স্টারলিংক ব্যবহারের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। কোথাও সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

চীন এখনো বাণিজ্যিকভাবে স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। রাশিয়ায় বিদেশি স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সরকারও সেবাটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি।

ছোট কয়েকটি দেশে স্থানীয় আইন ও সরকারি নীতির কারণে স্টারলিংকের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কোথাও রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, আবার কোথাও বাণিজ্যিক অনুমোদন না পাওয়ায় সেবা চালু করা সম্ভব হয় না।

ভারতের ক্ষেত্রে স্টারলিংক প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এখনো সেবাটি চালু হয়নি। তবে দেশভেদে এসব পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। সম্প্রতি নিউয়ে স্টারলিংকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ভারতেও ভবিষ্যতে সেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

কোথাও সীমিত পরিসরে ব্যবহারের সুযোগ

স্টারলিংক নিষিদ্ধ বা সীমিত থাকার অর্থ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সংযোগ বন্ধ থাকা নয়। কিছু দেশে নির্দিষ্ট অঞ্চল বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সেবা ব্যবহারের অনুমতি থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কয়েকটি দেশে আন্তর্জাতিক জলসীমায় কিংবা উপকূল থেকে দূরে স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে চীন দেশটির জলসীমায় সেবাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রোমিং পরিকল্পনায় কি মিলবে সংযোগ?

যেসব এলাকায় স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে, সেখানে কাজ করা বা ভ্রমণকারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, মানবকল্যাণকর্মী এবং শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অনেক সময় দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয়। তাই কোনো দেশে যাওয়ার আগে স্টারলিংকের আওতাভুক্ত এলাকার মানচিত্র এবং স্থানীয় নিয়মকানুন দেখে নেওয়া জরুরি।

কিছু ক্ষেত্রে রোমিং পরিকল্পনার মাধ্যমে নিজ দেশের বাইরে থেকেও সংযোগ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এ জন্য প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের মতো স্টারলিংক-সমর্থিত কোনো দেশ থেকে সংযোগের সরঞ্জাম কিনতে হবে। এরপর বিধিনিষেধযুক্ত এলাকায় যাওয়ার আগে ‘রোম আনলিমিটেড’ পরিকল্পনা চালু করতে হবে।

তবে এই পদ্ধতি সব দেশে কার্যকর নয়। চীন ও রাশিয়ার মতো কয়েকটি দেশে স্টারলিংক সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে রোমিং পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে সেবা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

দেশের বাইরে ব্যবহারের সময়সীমাও রয়েছে

নিজ দেশের বাইরে স্টারলিংক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা না থাকলে বিদেশে সেবা ব্যবহারের সময়সীমা ৩০ দিন। এই সময় পার হলে সংযোগের সময়সীমা নতুন করে চালু করতে স্টারলিংকের ডিশ নিজ দেশে ফিরিয়ে এনে সেবাটিতে সংযুক্ত করতে হবে।

অন্যদিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় নিজ দেশের বাইরে আরও ৬০ দিন সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এই সুবিধাও অনির্দিষ্টকাল বিদেশে সংযোগ চালু রাখার নিশ্চয়তা দেয় না।

সব মিলিয়ে, স্টারলিংক ব্যবহারের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমোদন, স্থানীয় বিধিনিষেধ এবং রোমিং সুবিধার শর্ত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত