রাজবাড়ী বারের প্রথম নারী আইনজীবী, বিশিষ্ট নারী নেত্রী, শিশু সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট দেবাহুতি চক্রবর্তী মারা গেছেন। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ ১৩ বছরের লড়াই শেষে ৩০ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। মৃত্যুর আগে নিজের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার জন্য তার মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করে গেছেন এই মহীয়সী নারী। তার প্রয়াণে রাজবাড়ীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নারী অধিকার আন্দোলনের অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে দেবাহুতি চক্রবর্তীর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর দেশ ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসা চলে। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে ২৯ অক্টোবর দুপুরে তাকে ঢাকার ডেল্টা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।
অ্যাডভোকেট দেবাহুতি চক্রবর্তী বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি রাজবাড়ী জেলা মহিলা পরিষদের টানা ১৫ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।
এ ছাড়া শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশে তিনি রাজবাড়ী শহরে গড়ে তুলেছিলেন ‘আবোল তাবোল’ নামের একটি শিশু সংগঠন। পাশাপাশি তিনি ‘রাজবাড়ী ক্যানসার সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সমাজসেবায় তার বহুমুখী অবদান জেলার মানুষের হৃদয়ে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
শনিবার দুপুরে রাজবাড়ীর শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি শেষে তার মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।
দেবাহুতি চক্রবর্তী রাজবাড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ন বাবুর পুকুরচালা এলাকার কুমারেশ চক্রবর্তীর মেয়ে। তার স্বামী প্রয়াত সুব্রত সরকার।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
রাজবাড়ী বারের প্রথম নারী আইনজীবী, বিশিষ্ট নারী নেত্রী, শিশু সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট দেবাহুতি চক্রবর্তী মারা গেছেন। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ ১৩ বছরের লড়াই শেষে ৩০ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। মৃত্যুর আগে নিজের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার জন্য তার মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করে গেছেন এই মহীয়সী নারী। তার প্রয়াণে রাজবাড়ীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নারী অধিকার আন্দোলনের অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে দেবাহুতি চক্রবর্তীর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর দেশ ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসা চলে। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে ২৯ অক্টোবর দুপুরে তাকে ঢাকার ডেল্টা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।
অ্যাডভোকেট দেবাহুতি চক্রবর্তী বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি রাজবাড়ী জেলা মহিলা পরিষদের টানা ১৫ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।
এ ছাড়া শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশে তিনি রাজবাড়ী শহরে গড়ে তুলেছিলেন ‘আবোল তাবোল’ নামের একটি শিশু সংগঠন। পাশাপাশি তিনি ‘রাজবাড়ী ক্যানসার সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সমাজসেবায় তার বহুমুখী অবদান জেলার মানুষের হৃদয়ে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
শনিবার দুপুরে রাজবাড়ীর শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি শেষে তার মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।
দেবাহুতি চক্রবর্তী রাজবাড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ন বাবুর পুকুরচালা এলাকার কুমারেশ চক্রবর্তীর মেয়ে। তার স্বামী প্রয়াত সুব্রত সরকার।

আপনার মতামত লিখুন