শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে সিরাজগঞ্জের ফসলের মাঠ। বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে শোভা পাচ্ছে সারি সারি বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মুলা ও বেগুনের চারা। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। তবে মাঠভরা সবুজ ফসলের মধ্যেও স্বস্তি নেই তাদের মনে। সার, কীটনাশক, সেচের জ্বালানি তেলসহ কৃষি উপকরণের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। ফলে ভালো ফলন হলেও শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরদসিকা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চলছে শীতকালীন আগাম সবজির আবাদ ও পরিচর্যা। ভোরের আলো ফুটতেই কোদাল, নিড়ানি ও সেচের পাইপ হাতে মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকেরা। কেউ জমিতে পানি দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ চারার গোড়ায় মাটি তুলে দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় দ্রুত বেড়ে উঠছে সবজির চারা। মাঠের এমন সবুজ দৃশ্য সম্ভাবনাময় ফলনের ইঙ্গিত দিলেও কৃষকদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে নানা শঙ্কা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মৌসুমের তুলনায় এবার সবজি চাষে ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। রাসায়নিক সার, রোগবালাই দমনের কীটনাশক, সেচের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুতের খরচ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃষিশ্রমিকের উচ্চ মজুরি। ফলে এক বিঘা জমিতে সবজি উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকদের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, মাঠে ভালো ফলন হলেও উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য না পেলে সেই বিনিয়োগ তুলে আনাই কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে বাজারদর ভালো থাকলেও একসঙ্গে বেশি সবজি বাজারে উঠলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে লাভের পরিবর্তে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন অনেক প্রান্তিক চাষি।
শুধু কামারখন্দের চরদসসিকা নয়, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও চলছে শীতকালীন সবজির আবাদ ও পরিচর্যা। কোথাও আগাম জাতের সবজি তুলে স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে, আবার কোথাও চলছে চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুতের কাজ। শীত মৌসুমকে ঘিরে জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না কৃষকদের।
এদিকে শীতকালীন সবজির উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন জানান, শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রোগবালাই দমন, সুষম ও পরিমিত মাত্রায় সার ব্যবহার এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জের মাঠজুড়ে শীতকালীন সবজির সবুজ সমারোহ কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে সবজির ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ওপর। কৃষি উপকরণের বাজারে নজরদারি জোরদার, সার ও জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত সবজি সরাসরি পাইকারি বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে সিরাজগঞ্জের ফসলের মাঠ। বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে শোভা পাচ্ছে সারি সারি বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মুলা ও বেগুনের চারা। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। তবে মাঠভরা সবুজ ফসলের মধ্যেও স্বস্তি নেই তাদের মনে। সার, কীটনাশক, সেচের জ্বালানি তেলসহ কৃষি উপকরণের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। ফলে ভালো ফলন হলেও শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরদসিকা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চলছে শীতকালীন আগাম সবজির আবাদ ও পরিচর্যা। ভোরের আলো ফুটতেই কোদাল, নিড়ানি ও সেচের পাইপ হাতে মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকেরা। কেউ জমিতে পানি দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ চারার গোড়ায় মাটি তুলে দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় দ্রুত বেড়ে উঠছে সবজির চারা। মাঠের এমন সবুজ দৃশ্য সম্ভাবনাময় ফলনের ইঙ্গিত দিলেও কৃষকদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে নানা শঙ্কা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মৌসুমের তুলনায় এবার সবজি চাষে ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। রাসায়নিক সার, রোগবালাই দমনের কীটনাশক, সেচের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুতের খরচ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃষিশ্রমিকের উচ্চ মজুরি। ফলে এক বিঘা জমিতে সবজি উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকদের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, মাঠে ভালো ফলন হলেও উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য না পেলে সেই বিনিয়োগ তুলে আনাই কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে বাজারদর ভালো থাকলেও একসঙ্গে বেশি সবজি বাজারে উঠলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে লাভের পরিবর্তে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন অনেক প্রান্তিক চাষি।
শুধু কামারখন্দের চরদসসিকা নয়, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও চলছে শীতকালীন সবজির আবাদ ও পরিচর্যা। কোথাও আগাম জাতের সবজি তুলে স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে, আবার কোথাও চলছে চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুতের কাজ। শীত মৌসুমকে ঘিরে জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না কৃষকদের।
এদিকে শীতকালীন সবজির উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন জানান, শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রোগবালাই দমন, সুষম ও পরিমিত মাত্রায় সার ব্যবহার এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জের মাঠজুড়ে শীতকালীন সবজির সবুজ সমারোহ কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে সবজির ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ওপর। কৃষি উপকরণের বাজারে নজরদারি জোরদার, সার ও জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত সবজি সরাসরি পাইকারি বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন