সংবাদ

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত সুন্দরগঞ্জ


প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত সুন্দরগঞ্জ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের কলেজ মোড়ের একটি বিশাল রেইনট্রি গাছ এখন অতিথি পাখির ঠিকানা।

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ জনপদের সবুজ প্রকৃতিতে ডানা মেলতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের কলেজ মোড়ের একটি বিশাল রেইনট্রি গাছকে যেন নিজেদের নিরাপদ ঠিকানা করে নিয়েছে শত শত অতিথি পাখি। মোড়ের আশপাশে পৌঁছালেই কান জুড়িয়ে যায় এই অচেনা অতিথিদের কলকাকলিতে। গাছের মগডালে সারি সারি বাসা বেঁধে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো এই দৃশ্য পুরো এলাকাকে এক মোহনীয় প্রাকৃতিক রূপ দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর থেকেই এই গাছটিতে প্রথম একঝাঁক পাখি আশ্রয় নেয়। এরপর ধীরে ধীরে আশপাশের গাছেও হাজারো পাখি এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে। গলাজুড়ে কালো ডোরা ও সাদা রঙের এই পাখিগুলোর আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা প্রতিদিন কাজের ফাঁকে একটু দাঁড়িয়ে এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

স্থানীয় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, গত বছর থেকে এখানে পাখির অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকালে দলবেঁধে খাদ্য সংগ্রহের জন্য তারা উপজেলা পরিষদের পেছনের খাল ও তিস্তা নদীর দিকে উড়ে যায় এবং বিকেলে আবার ফিরে আসে। এলাকার ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাখিগুলো পাহারা দিচ্ছেন, যাতে কোনো শিকারি বা সৌখিন পাখি শিকারী এগুলোর ক্ষতি করতে না পারে।

গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে পাখি দেখতে আসা মো. আব্দুল হাকিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে গ্রাম-গঞ্জের মাঠে কত রকমের পাখি দেখা যেত। সময়ের বিবর্তনে গাছপালা কমে যাওয়ায় সেই দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। অনেক দিন পর শহরের মাঝে এমন অতিথি পাখি দেখে বুক জুড়িয়ে গেল।’

আরেক দর্শক এস এম মাদিহুর রহমান বলেন, ‘পাখির এই কলকাকলি আমাদের ভীষণভাবে মোহিত করে। অতিথি পাখি রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই পাখিগুলোর আগমন আমাদের এলাকার জন্য একটি আশীর্বাদ।’

সুন্দরগঞ্জ আমিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল হক বলেন, ‘এই অতিথি পাখিগুলো প্রমাণ করে যে গাছটি তাদের জন্য কতটা নিরাপদ। প্রতিদিন বাসার বারান্দা থেকে এই দৃশ্য দেখা আমার কাছে শিল্পীর স্বপ্ন ছোঁয়ার মতো মনে হয়। এলাকার মানুষ পাখিগুলোর সুরক্ষায় যথেষ্ট আন্তরিক।’

শোভাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান জানান, শীতের শুরুতেই সাইবেরিয়া কিংবা অন্যান্য শীতপ্রধান দেশ থেকে খাদ্যসংকট ও প্রজননের অনুকূল পরিবেশের টানে এসব পাখি আমাদের দেশে আসে। অনুকূল পরিবেশ পেলে তারা মৌসুম শেষে আবার নিজ দেশে ফিরে যায়। এগুলোর মধ্যে বালিহাঁস, হাড়গিলা ও সাইবেরিয়ান বকসহ বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে, যা জলাশয় থেকে ছোট মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে।

উপজেলা বন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, এলাকায় বড় আকারের গাছপালা কমে গেলেও কিছু কিছু জায়গায় এমন পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এসব অতিথি পাখি রক্ষায় সজাগ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত সুন্দরগঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ জনপদের সবুজ প্রকৃতিতে ডানা মেলতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের কলেজ মোড়ের একটি বিশাল রেইনট্রি গাছকে যেন নিজেদের নিরাপদ ঠিকানা করে নিয়েছে শত শত অতিথি পাখি। মোড়ের আশপাশে পৌঁছালেই কান জুড়িয়ে যায় এই অচেনা অতিথিদের কলকাকলিতে। গাছের মগডালে সারি সারি বাসা বেঁধে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো এই দৃশ্য পুরো এলাকাকে এক মোহনীয় প্রাকৃতিক রূপ দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর থেকেই এই গাছটিতে প্রথম একঝাঁক পাখি আশ্রয় নেয়। এরপর ধীরে ধীরে আশপাশের গাছেও হাজারো পাখি এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে। গলাজুড়ে কালো ডোরা ও সাদা রঙের এই পাখিগুলোর আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা প্রতিদিন কাজের ফাঁকে একটু দাঁড়িয়ে এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

স্থানীয় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, গত বছর থেকে এখানে পাখির অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকালে দলবেঁধে খাদ্য সংগ্রহের জন্য তারা উপজেলা পরিষদের পেছনের খাল ও তিস্তা নদীর দিকে উড়ে যায় এবং বিকেলে আবার ফিরে আসে। এলাকার ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাখিগুলো পাহারা দিচ্ছেন, যাতে কোনো শিকারি বা সৌখিন পাখি শিকারী এগুলোর ক্ষতি করতে না পারে।

গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে পাখি দেখতে আসা মো. আব্দুল হাকিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে গ্রাম-গঞ্জের মাঠে কত রকমের পাখি দেখা যেত। সময়ের বিবর্তনে গাছপালা কমে যাওয়ায় সেই দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। অনেক দিন পর শহরের মাঝে এমন অতিথি পাখি দেখে বুক জুড়িয়ে গেল।’

আরেক দর্শক এস এম মাদিহুর রহমান বলেন, ‘পাখির এই কলকাকলি আমাদের ভীষণভাবে মোহিত করে। অতিথি পাখি রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এই পাখিগুলোর আগমন আমাদের এলাকার জন্য একটি আশীর্বাদ।’

সুন্দরগঞ্জ আমিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল হক বলেন, ‘এই অতিথি পাখিগুলো প্রমাণ করে যে গাছটি তাদের জন্য কতটা নিরাপদ। প্রতিদিন বাসার বারান্দা থেকে এই দৃশ্য দেখা আমার কাছে শিল্পীর স্বপ্ন ছোঁয়ার মতো মনে হয়। এলাকার মানুষ পাখিগুলোর সুরক্ষায় যথেষ্ট আন্তরিক।’

শোভাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান জানান, শীতের শুরুতেই সাইবেরিয়া কিংবা অন্যান্য শীতপ্রধান দেশ থেকে খাদ্যসংকট ও প্রজননের অনুকূল পরিবেশের টানে এসব পাখি আমাদের দেশে আসে। অনুকূল পরিবেশ পেলে তারা মৌসুম শেষে আবার নিজ দেশে ফিরে যায়। এগুলোর মধ্যে বালিহাঁস, হাড়গিলা ও সাইবেরিয়ান বকসহ বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে, যা জলাশয় থেকে ছোট মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে।

উপজেলা বন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, এলাকায় বড় আকারের গাছপালা কমে গেলেও কিছু কিছু জায়গায় এমন পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এসব অতিথি পাখি রক্ষায় সজাগ রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত