ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে রাস্তায় নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আন্দোলন চলাকালে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকেরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন। বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টার পর থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ ও থমথমে পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা বিবেচনায় মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবীে–এই তিন মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। মেট্রোরেল পুলিশের (এমআরটি) অপারেশন বিভাগের পরিদর্শক মো. মহসীন শেখ তিন স্টেশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে মিরপুর-১১ এলাকায় সড়কের পাশে থাকা পুলিশের একটি টহল গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার হামিদুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আজ সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েক শ শ্রমিক মিরপুরের সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখানে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সূত্রপাত হয়। সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। এ সময় আত্মরক্ষায় শ্রমিকেরা ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন।
যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ জানায়, শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে মিরপুর-১০, ১১ ও ১৪ নম্বরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “সড়ক অবরুদ্ধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করার কোনো যুক্তি নেই। আমাদের ধারণা, শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা অরাজকতা সৃষ্টিকারী কোনো গোষ্ঠী যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।”
তিনি আরও জানান, “আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক ছাড়তে বলি। একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। শ্রমিকদের ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে রাস্তায় নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আন্দোলন চলাকালে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকেরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন। বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টার পর থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ ও থমথমে পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা বিবেচনায় মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবীে–এই তিন মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। মেট্রোরেল পুলিশের (এমআরটি) অপারেশন বিভাগের পরিদর্শক মো. মহসীন শেখ তিন স্টেশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে মিরপুর-১১ এলাকায় সড়কের পাশে থাকা পুলিশের একটি টহল গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার হামিদুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আজ সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েক শ শ্রমিক মিরপুরের সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখানে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সূত্রপাত হয়। সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। এ সময় আত্মরক্ষায় শ্রমিকেরা ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন।
যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ জানায়, শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে মিরপুর-১০, ১১ ও ১৪ নম্বরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “সড়ক অবরুদ্ধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করার কোনো যুক্তি নেই। আমাদের ধারণা, শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা অরাজকতা সৃষ্টিকারী কোনো গোষ্ঠী যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।”
তিনি আরও জানান, “আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক ছাড়তে বলি। একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। শ্রমিকদের ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

আপনার মতামত লিখুন